এই মুহূর্তে আমরা সবাই বেশ একটা যুদ্ধ যুদ্ধ মুডে আছি। আর থাকবো না ই বা কেন? পহেলগাঁওয়ের কাপুরোষিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেঁধে গেল দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই। ভারতের পরাক্রমে দিশেহারা হয়ে পাকিস্তান বাধ্য হয় একরকম আত্মসমর্পণে । স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন দুই দেশের সাধারণ মানুষ যাঁরা রাষ্ট্রনায়কদের এমন আগ্রাসী সিদ্ধান্তের শিকার হয় সবথেকে বেশি। এই যুদ্ধ শেষ হতে না হতেই ময়দানে নেমে পড়লো ইরাণ ও ইজরায়েল। পৃথিবীর মহা শক্তিধর দেশগুলো এমন অবস্থার অপেক্ষায় থাকে। তাঁরাও ফাঁকফোকর গলে জড়িয়ে পড়ে যুদ্ধে। বিগত তিন বছর ধরে যুদ্ধে মজে আছে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। টেলিভিশনের পর্দায় যুযুধান দেশের যেসব ছবি ভেসে আসে তা দেখে শিউরে উঠতে হয় । এইসব ছবি তাঁরা দেখেন না এমনটাও নয়,দেখেও আশ্চর্য রকম নির্লিপ্ত থাকেন। এর মধ্যেই নতুন করে ছক কষতে থাকে নতুন আগ্রাসনের। এঁদের দেখে একটা কথাই বলতে ইচ্ছে করে – যুদ্ধ কইরা পাইবি কি তা বল?
যুদ্ধ মানেই বিবাদ। খুব ছোট্ট কারণ থেকে বড়ো যুদ্ধের উৎপত্তি। যুদ্ধ মানেই নানান ধরনের মারণাস্ত্রের প্রয়োগ, ধারাবাহিক ধ্বংসলীলা। অপারেশন সিন্দুরের একটা ভিডিও ফুটেজ দেখছিলাম। ভারতীয় মিসাইল গিয়ে আছড়ে পড়ছে প্রতিপক্ষের ঘাঁটি লক্ষ্য করে। দিগন্ত রেখা নিশুতি রাতের ঘন অন্ধকারকে ছাপিয়ে লালে লাল! এরই মধ্যে নৈঃশব্দ্য খানখান হয়ে যায় একদল ভয়ার্ত, বিহ্বল, বিপন্ন বিহগের আর্তনাদে। মিসাইলের আঘাতে বিপক্ষীয়দের ব্যতিব্যস্ত করার আগে কে আর অর্বাচীন এই ইতর না–মানুষীদের কথা ভাবে? এভাবেই একটা যুদ্ধ প্রকৃতির সহন ক্ষমতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সবকিছুকেই তছনচ করে দেয়। এসব বিষয় ইদানিং কেমন যেন গা সওয়া হয়ে গেছে আমাদের কাছে। মানুষের অমিত পরাক্রমের কাছে প্রকৃতিকে তুচ্ছ প্রমাণের কি আগ্রাসী প্রয়াস !
যেদিন আদিম অরণ্যচারী গুহাবাসী মানুষ তার প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে প্রথম পাথর ছুঁড়েছিল সেদিন থেকেই প্রাকৃতিক পরিবেশের আক্রান্ত হওয়ার পর্বের সূচনা। আমাদের দুই মহাকাব্য, রামায়ণ ও মহাভারতের মধ্যেও আমরা প্রকৃতির ওপর আঘাত হানার কথা পাই। আসলে প্রকৃতি হলো সমগ্র প্রাণিকুলের আশ্রয়দাত্রী , সুতরাং প্রকৃতি পরিবেশের ওপর আক্রমণ হানা হলে তা শত্রু মিত্র নির্বিশেষে সকলকেই বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। প্রাচীন ভারতে শত্রুকে বিবশ করতে মহাশক্তিশালী ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগের কথা পাই। মহা শক্তিধর এই শস্ত্র প্রকৃতির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা আমরা জানতে পারি স্বয়ং বেদব্যাসের কথা থেকে। তিনি লিখেছেন – “যেখানে ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করা হতো সেখানে দ্বাদশ বর্ষকাল বর্ষণ হতো না। ফলে জীবজন্তু, বৃক্ষ গুল্মাদি কিছুই বাঁচতো না। এই ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগের ফলে মহিলাদের গর্ভস্থ শিশুর পর্যন্ত মৃত্যু হতো।”
এই কথা পড়ে বোধহয় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে সেকালে যুদ্ধের কারণে প্রকৃতির কতটা ক্ষতি হতো । সমস্যাটি যে শুধুই সেকালের তা মোটেও নয়। যুদ্ধের কারণে একালেও একই পরিণতি হয় প্রকৃতি পরিবেশের।প্রাচীন রোমান ও আসিরীয় সৈন্যরা শত্রুপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে পর্যদুস্ত করতে কৃষি জমিতে লবণ ছিটিয়ে দিতো, যাতে লবণের প্রভাবে জমিতে কোনো রকম ফসল উৎপন্ন হতে না পারে। যুদ্ধবিজয়ের নামে এহেন বর্বরতা চালাতে গিয়ে প্রকৃতিকে কতটা ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হতো তা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারি। তবে সবটাই এমন ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে প্রকৃতিকে নিয়ে যাবার ভাবনায় ভরপুর এমনটাও হয়তো নয়। কিছু ব্যতিক্রমী নির্দেশিকার কথাও আমরা পাই প্রাচীন পুস্তকে। বাইবেলের হিব্রু সংকলনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে – “শত্রু নগরী দখল করতে গিয়ে যদি সৈন্যদলকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে হয় তাহলে তারা যেন কুঠারাঘাতে সেখানকার গাছপালার কোনো রকম ক্ষতিসাধন না করে। মনে রাখতে হবে বৃক্ষ থেকে আমরা বিবিধ খাদ্য সম্ভার পাই। মনে রাখতে হবে গাছেরা তোমাদের শত্রু নয়।” তবে সুপ্রাচীন সামাজিক নীতিবোধ একালের সমাজে সম্পূর্ণভাবে অচল।আর তাই একালের যুদ্ধ প্রকৃতি পরিবেশ ও মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিফল রেখে যায়।বিশিষ্ট মার্কিন পরিবেশবাদী আইনবিদ কার্ল ব্রুচ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন – “সময়ের সাথে সাথে যুদ্ধ প্রযুক্তির অকল্পনীয় পরিবর্তন ঘটেছে। আর তাই, প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়ার সাথে সাথে সম্ভাব্য পরোক্ষ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া আমাদের জীবনকে ভেঙেচুরে ফেলার আশঙ্কা তৈরি করছে নিয়তই।” তীর ধনুকের যুদ্ধ আজ পরিণত হয়েছে রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক যুদ্ধে,যার ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা আজও ভুলতে পারেনি গোটা দুনিয়া। হিরোশিমা আর নাগাসাকি আজও সভ্যতার কলঙ্কচিহ্ন নীরবে বহন করে চলেছে।
যুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হলো বাসভূমির বিনাশ। বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে প্রকৃতি পরিবেশঘাতী সবথেকে ভয়ানক ও দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ হলো ভিয়েতনামের যুদ্ধ। ১৯৫৯ সালে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ ভিয়েতনাম আক্রমণ করে। অতবড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই সহজ নয় জেনে ভিয়েতনামের মানুষ গেরিলা যুদ্ধ কৌশল অবলম্বন করে।ভিয়েতনামের এই গেরিলা বাহিনীর গোপন আস্তানা ছিল সেই দেশের উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। আড়াল থেকে করা যুদ্ধে পর্যদুস্ত মার্কিন বাহিনী বন থেকে লড়াকু ভিয়েতনামী গেরিলাদের উৎখাত করতে এজেন্ট অরেঞ্জ নামের মারাত্মক ধরনের আগাছানাশক যথেচ্ছভাবে প্রয়োগ করে। আনুমানিক ২০ মিলিয়ন গ্যালন তরল আগাছানাশক রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়েছিল ভিয়েতনামের ৪.৫ মিলিয়ন হেক্টর একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে। এই ক্ষতিকারক রাসায়নিকের কারণে ১৪৫ – ১৭০ রকমের পাখি এবং ৩০ – ৩৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণি নিখোঁজ হয়ে যায় চিরকালের মতো । সেদিনের সেই ধ্বংসের প্রভাব আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভিয়েতনামের উপকূলীয় বনাঞ্চল । সেই সঙ্গে চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছে ঐ বনভূমির আবাসিক বিচিত্র সব প্রাণি। পরবর্তীতে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাটিকে মানব ইতিহাসের সবথেকে ভয়ঙ্কর ইকোসাইড ( ecocide) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।একটা যুদ্ধ মানুষের জীবনে নিয়ে আসে চরম অভিশাপ। কথায় আছে রাজা-রাজড়ায় যুদ্ধ হয়,উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। যুদ্ধ হলে সাধারণ উলুখাগড়া জনগণের জীবন একদম এলোমেলো হয়ে যায়। প্রাণ ভয়ে ভীত সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে দেশান্তরী হয়। অনেক সময়েই এই গণ পরিব্রাজনের ফল হয় মারাত্মক। মহাভারতের অক্ষৌহিনী সেনাবাহিনীর মতো হাজারে হাজারে মানুষের উপস্থিতি বিপর্যস্ত করে পরিবেশকে। বনাঞ্চলের সংকোচন, প্রাণিসম্পদের বিনাশ, মৃত্তিকা ক্ষয়ের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে মনুষ্যদেহজাত বর্জ্য পদার্থ পরিবেশকে দূষিত করে । অপরিমিত অপচয়ের শিকার হয় প্রচলিত জলের উৎসগুলো – পুকুর,কুয়ো, নদী। ১৯৯৪ সালের আফ্রিকার রোয়ান্ডা যুদ্ধের সময় শরণার্থীদের অস্থায়ী বসবাসের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল সেই দেশের আকাগেরা ন্যাশনাল পার্ক। পরিশেষে দেখা গেল সেই জাতীয় উদ্যান থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে রোয়ান আ্যন্টিলোপ এবং ইলান্ডের ( এ্যান্টিলোপ বিশেষ ) মতো বিরল প্রাণিসম্পদ।যুদ্ধের সময় জাহাজ, পণ্যবাহী বিমান এবং ট্রাকে করে লড়াইয়ের জন্য সৈন্য সহ নানান ধরনের প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করা হয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। সৈন্যদের সাথে এই সব যানবাহনের সঙ্গী হয় নানান ধরনের দ্রুত গতিতে বেড়ে ওঠা আগ্রাসী গুল্ম,গাছপালা, কীটপতঙ্গ এবং প্রাণি। নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে তারা এতো দ্রুত গতিতে বেড়ে ওঠে যে এর ফলে স্থানীয় প্রজাতির গাছ,গুল্ম, প্রাণিরা লড়াইয়ে হেরে গিয়ে অচিরেই বিলুপ্তির পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়ে থাকে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ভেসে থাকা ছোট্ট লেসান দ্বীপটিতে একসময় বেশ কিছু বিরল প্রজাতির গাছ ও প্রাণিরা বাস করতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতে সেনা মোতায়েনের ফলে ইঁদুর এসে হাজির হয় এই দ্বীপে। ইঁদুরের দাপটে লেসান থেকে চিরকালের জন্য হারিয়ে গেল বিশেষ ধরনের ফিঞ্চ এবং রেইল পাখিরা, যাদের একমাত্র এখানেই দেখা যেত। স্যান্ডবুর নামের এক শ্রেণির জংলা উদ্ভিদ লড়াইতে হাটিয়ে দিল বাঞ্চগ্রাসের ঝোপঝাড়কে, যাদের ফল খেতে ভালোবাসতো লেসান দ্বীপের পাখিরা। এই ঘটনাগুলো থেকে একথাই প্রমাণিত হয় যে যুদ্ধ কেবলমাত্র দুটি পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনা, ফিরে ফিরে যুদ্ধ চলে নানা ক্ষেত্রে জীবন পরিবেশের নানান পরিসরে।আমরা সবাই ইউক্রেনের ভয়ঙ্কর ধ্বংসের ছবি দেখেছি। এককথায় বলতে গেলে হাড় হিম করা অভিজ্ঞতা আমাদের প্রত্যেকেরই মনকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের আঘাতে তিলতিল করে গড়ে তোলা পরিকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে একেবারেই। একদেশ যখন অন্যদেশের বুকে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় তখন তার প্রধান লক্ষ্যই হয় প্রতিপক্ষ দেশের রাস্তা – ঘাট, সেতু, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর, সামরিক ঘাঁটি। শত্রু পক্ষের বোমা বা মিসাইলের আঘাতে ভেঙে পড়ে পরিবেশ সুরক্ষার আরও সব ব্যবস্থা। এইসবও বৃহত্তর পরিকাঠামোর অংশ। এগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া মানেই কোনো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হয়ে যাওয়া। এসবের পুনর্নির্মাণ কি সহজসাধ্য? ১৯৯০ সালের ক্রোয়েশিয়া যুদ্ধের সময় বোমা মেরে রাসায়নিক শিল্পের কারখানায় বোমা ফেলা হয় ; এই হঠকারিতার কারণে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ উপচে পড়ে মাটিতে, নদীর জলে। ফলাফলের কথা আর নাইবা বললাম। আসলে যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, বরং বলা যায় যে যুদ্ধ থেকেই শুরু হয় নতুন থেকে নতুনতর সমস্যার। আত্মরক্ষার নামে, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা অর্জন করতে গিয়ে আজ প্রত্যেক রাষ্ট্রই নিজেদের যুদ্ধবাজ হিসেবে প্রতিপন্ন করার খেলায় মেতে উঠেছে।একথা মানতেই হবে যে, আধুনিক যুগের যুদ্ধ হলো বিবিধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। আধুনিক সমরাস্ত্রের উৎপাদন, কার্যকারিতার পরীক্ষা, পরিবহন এবং অবশ্যই বিপক্ষের ওপর তার নির্বিচারে প্রয়োগ পরিবেশ মানের অবনমনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো হেতু। সাম্প্রতিক সময়ে প্যালেস্টাইনের গাজা ভূখণ্ডের ওপর ইজরায়েলের নৃশংস হামলা,লজ্জা ও ঘৃণা জাগায় । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ভয়াবহ পরিণতি এই মুহূর্তে রাষ্ট্রগুলোর ওপর এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা হয়তো জারি করেছে। তবে সেই নৈতিক বাধ্যবাধকতা কতদিন বজায় রেখে চলবো আমরা, বা আদৌ তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবো কিনা তার উত্তর অবশ্যই ভবিষ্যতের ভাবনা।
“ওরে ! হাল্লা রাজার সেনা, যুদ্ধ কইরা করবি কি তা বল?”
গায়েন গুপীর মতো এ প্রশ্ন আমাদের সকলের।
জুলাই ৮, ২০২৫
কিশোর বিজ্ঞান ও কুসংস্কার, উৎসব সংখ্যা, তৃতীয় বর্ষ, সংখ্যা ১০, সেপ্টেম্বর – নভেম্বর -২০২৫-এ প্রথম প্রকাশিত।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় লেখা। বহুকাল ধরেই এই প্রশ্ন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের “যুদ্ধ করে করবি কী তা বল”? কিন্তু রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়! এই ধরনের লেখা আরো বেশি করে আসার প্রয়োজন। প্রাবন্ধিক সোমনাথ বাবুকে ধন্যবাদ জানাই 🙏
আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ বিলাসকে বর্জন করার সময় এসেছে। রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে। জানি, এই নিবন্ধ দুনিয়াদারির মানসিকতায় কোনো রকম পরিবর্তন আনবে না। তবুও প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে। ধন্যবাদ জানাই আপনাকে এই সামান্য কলমচির ওপর ভরসা রাখার জন্য।
Soumen Roy
9 months ago
যুদ্ধে পরাজিত হয় সব পক্ষ।কিন্তু কে কার কথা শোনে! বছর পাঁচেক আগে একবার মনে হয়েছিল আর বোধহয়। বড় যুদ্ধ হবেনা। কোথায় কি !
কিশোর মনে সংবেদনশীল লেখাটি দাগ কাটবে আশা করি।
যতদিন না আমাদের মন থেকে আগ্রাসী মনোভাবের বিসর্জন হচ্ছে ততদিন এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে, চলবে। আমাদের আগামী প্রজন্মের মধ্যে যদি এই যুদ্ধ বিরোধী ভাবনাটাকে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে শুধু পরিবেশ নয় আমরাও খুব ভালো থাকবো। যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির স্বপক্ষে কথা বলতে হবে নানান অবসরে। ধন্যবাদ জানাই আপনাকে ।
Ritabrata Gupta
9 months ago
Ekdom sotti katha likhechen!
Manush Jodi bujhto, ta holey to ar shomoshyai thakto na!
Ek shundor prithibir ashai shudhu kortey pari.
লেখাটা পড়ে চ্যাপলিনের দ্য গ্রেট ডিক্টেটর ফিল্মের অবিস্মরণীয় শেষ দৃশ্যের কথা মনে পড়ে গেল। উর্দির কঠোরতার পেছনে থাকা মানুষের কথা কেউই ভাবিনা আমরা। আদতে সে যে একজন মানুষ তা বুঝলাম না কেউ। আশাকে অবলম্বন করেই আমাদের পথ চলতে হবে। ধন্যবাদ রইলো।
Anjana Mukhopadhyay
9 months ago
আরও একটি সংবেদনশীল নিবন্ধ পাঠকদের উপহার দেবার জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানাই। যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শিউরে উঠতে হয় বারংবার,অথচ যুযুধান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়কদের সেই বিষয়ে কোনো রকম প্রতিক্রিয়া নেই । আমাদের নজর আজ উন্মত্ততার অন্ধকারে ডুবে গেছে। শান্তির ললিত বাণী তাই আজ ব্যর্থ পরিহাসে পরিণত হয়েছে।
নিজের মনের অনুভূতির কথা এভাবে বলার জন্য ধন্যবাদ জানাই। কথায় বলে রণে আর প্রেমের ব্যাপারে কোনো নীতিবোধ কাজ করেনা। পরের ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তারের ইতিহাস বহুকালের পুরনো। সেই ধারাবাহিকতায় কোনোরকম ছেদ পড়েনি এতোকাল পরেও। আমাদের দুই মহাকাব্যের মূল উপজীব্য লড়াই। যুদ্ধ হীন পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই লেখাটি হয়তো সেই পথে ছোট্ট পদক্ষেপ।
Avijit Chakraborty
9 months ago
লেখাটি পড়ে যে ভালো লাগলো সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সঙ্গে মনটাও একটু ভারী হয়ে উঠলো। বিগত শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধেও সমুদ্রের জল ও জলজ প্রাণীদের হাল খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।
এই যুদ্ধ বন্ধ হবে কি, প্রতিবছর তো প্রায় প্রতিটা দেশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই চলেছে, শিক্ষা স্বাস্থ্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে। এখন তো যুদ্ধাস্ত্র বেচাকেনা বহুরাষ্ট্রের মূল কাজ।
এতসব কিছুর মাঝেও আমাদের আশায় মন বাঁধতে হবে যে একদিন বিশ্বে এই ধ্বংসলীলা শেষ হবে।
লেখাটা ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। পাশাপাশি মন ভারী হয়ে উঠেছে জেনে কষ্ট হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই লড়াইয়ের দাগ থেকে যায় পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর। শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের আগুন জ্বালিয়ে রাখাটাই একালের দস্তুর। প্রকৃতি পরিবেশের বিনষ্টি যে আসলে আমাদেরই বিপন্নতার কারণ,তা বোধহয় বুঝেও বুঝতে চাইনা আমরা। তবে আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করতে হবে আমাদের সবাইকে। ধন্যবাদ রইলো।
জামাইষষ্ঠী শব্দটি উচ্চারণ করলেই আমার দিদার মৃত্যুদিনের কথা মনে পড়ে যায়। সতের বছর বয়সে সেই প্রথম কোনও আপনজনের চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার সাক্ষী হয়েছিলাম। ভরা ভাদরের
আরশোলাদের আরশোলাত্বের দায় কি তাদের? ৭ জুন ২০২৬ ‘প্রতিদিন’-এর রবিবাসরীয় ক্রোড়পত্র ‘রোববার’-এর ‘ককরোচ’ সংখ্যায় প্রকাশিত একটি লেখা। আন্দোলন ঘটে কেন? এ নিয়ে তত্ত্বের কচকচানি যত
কারুর দাম ৪০ কোটি, কারুর দাম ৫০ কোটি! আম জনতাকে বিজেপির অপশাসন মুক্তি দিয়ে যাঁরা সাম্প্রদায়িকতামুক্ত ভারত গড়ার আদর্শ দেখিয়ে নির্বাচনে জিতে এসেছিল, গণতন্ত্রের হাটে
তামান্না – এক নিহত স্বপ্নের নাম। ২০২৫ এর ২৩শে জুন তৃণমূলের নির্বাচনী বিজয়োল্লাসের বলি হয় ১২ বছরের তামান্না। তরুণ পরিযায়ী শ্রমিক হুসেনের কন্যা, মা সাবিনার
আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় লেখা। বহুকাল ধরেই এই প্রশ্ন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের “যুদ্ধ করে করবি কী তা বল”? কিন্তু রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়! এই ধরনের লেখা আরো বেশি করে আসার প্রয়োজন। প্রাবন্ধিক সোমনাথ বাবুকে ধন্যবাদ জানাই 🙏
আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ বিলাসকে বর্জন করার সময় এসেছে। রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে। জানি, এই নিবন্ধ দুনিয়াদারির মানসিকতায় কোনো রকম পরিবর্তন আনবে না। তবুও প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে। ধন্যবাদ জানাই আপনাকে এই সামান্য কলমচির ওপর ভরসা রাখার জন্য।
যুদ্ধে পরাজিত হয় সব পক্ষ।কিন্তু কে কার কথা শোনে! বছর পাঁচেক আগে একবার মনে হয়েছিল আর বোধহয়। বড় যুদ্ধ হবেনা। কোথায় কি !
কিশোর মনে সংবেদনশীল লেখাটি দাগ কাটবে আশা করি।
যতদিন না আমাদের মন থেকে আগ্রাসী মনোভাবের বিসর্জন হচ্ছে ততদিন এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে, চলবে। আমাদের আগামী প্রজন্মের মধ্যে যদি এই যুদ্ধ বিরোধী ভাবনাটাকে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে শুধু পরিবেশ নয় আমরাও খুব ভালো থাকবো। যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির স্বপক্ষে কথা বলতে হবে নানান অবসরে। ধন্যবাদ জানাই আপনাকে ।
Ekdom sotti katha likhechen!
Manush Jodi bujhto, ta holey to ar shomoshyai thakto na!
Ek shundor prithibir ashai shudhu kortey pari.
লেখাটা পড়ে চ্যাপলিনের দ্য গ্রেট ডিক্টেটর ফিল্মের অবিস্মরণীয় শেষ দৃশ্যের কথা মনে পড়ে গেল। উর্দির কঠোরতার পেছনে থাকা মানুষের কথা কেউই ভাবিনা আমরা। আদতে সে যে একজন মানুষ তা বুঝলাম না কেউ। আশাকে অবলম্বন করেই আমাদের পথ চলতে হবে। ধন্যবাদ রইলো।
আরও একটি সংবেদনশীল নিবন্ধ পাঠকদের উপহার দেবার জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানাই। যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শিউরে উঠতে হয় বারংবার,অথচ যুযুধান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়কদের সেই বিষয়ে কোনো রকম প্রতিক্রিয়া নেই । আমাদের নজর আজ উন্মত্ততার অন্ধকারে ডুবে গেছে। শান্তির ললিত বাণী তাই আজ ব্যর্থ পরিহাসে পরিণত হয়েছে।
নিজের মনের অনুভূতির কথা এভাবে বলার জন্য ধন্যবাদ জানাই। কথায় বলে রণে আর প্রেমের ব্যাপারে কোনো নীতিবোধ কাজ করেনা। পরের ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তারের ইতিহাস বহুকালের পুরনো। সেই ধারাবাহিকতায় কোনোরকম ছেদ পড়েনি এতোকাল পরেও। আমাদের দুই মহাকাব্যের মূল উপজীব্য লড়াই। যুদ্ধ হীন পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই লেখাটি হয়তো সেই পথে ছোট্ট পদক্ষেপ।
লেখাটি পড়ে যে ভালো লাগলো সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সঙ্গে মনটাও একটু ভারী হয়ে উঠলো। বিগত শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধেও সমুদ্রের জল ও জলজ প্রাণীদের হাল খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।
এই যুদ্ধ বন্ধ হবে কি, প্রতিবছর তো প্রায় প্রতিটা দেশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই চলেছে, শিক্ষা স্বাস্থ্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে। এখন তো যুদ্ধাস্ত্র বেচাকেনা বহুরাষ্ট্রের মূল কাজ।
এতসব কিছুর মাঝেও আমাদের আশায় মন বাঁধতে হবে যে একদিন বিশ্বে এই ধ্বংসলীলা শেষ হবে।
লেখাটা ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। পাশাপাশি মন ভারী হয়ে উঠেছে জেনে কষ্ট হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই লড়াইয়ের দাগ থেকে যায় পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর। শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের আগুন জ্বালিয়ে রাখাটাই একালের দস্তুর। প্রকৃতি পরিবেশের বিনষ্টি যে আসলে আমাদেরই বিপন্নতার কারণ,তা বোধহয় বুঝেও বুঝতে চাইনা আমরা। তবে আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করতে হবে আমাদের সবাইকে। ধন্যবাদ রইলো।