তামান্না – এক নিহত স্বপ্নের নাম। ২০২৫ এর ২৩শে জুন তৃণমূলের নির্বাচনী বিজয়োল্লাসের বলি হয় ১২ বছরের তামান্না। তরুণ পরিযায়ী শ্রমিক হুসেনের কন্যা, মা সাবিনার নয়নমণি ফুটফুটে তামান্না নিজের বাড়ির উঠোনে গাছ লাগাচ্ছিল। বিরোধী বাম রাজনীতির অনুগামী পরিবার, এই অপরাধে এক ঘাতক বাহিনীর বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় একটি অর্ধস্ফূট কুঁড়ি। পলাশির যুদ্ধের রক্তাক্ত দিনেই পলাশিতে রক্ত ঝরে এক নিষ্পাপ শিশুকন্যার।
এই গাছটি লাগানোর সময় তামান্না প্রাণ হারায়
তামান্নার স্কুলের আই ডি কার্ড
তামান্নার হাতের কাজ
তামান্না খুনের বিচারহীন এক বছর পূর্তির এই কালো দিনে ‘অভয়া মঞ্চ বৃহত্তর বিধাননগর’ এর উদ্যোগে ডক্টর পুণ্যব্রত গুণ, অরিন্দম দাশ, সঙ্গীতা সাহা সহ কুড়ি জনের একটি দল পৌঁছে গিয়েছিল নদীয়ার কালীগঞ্জে, তামান্নাদের বাড়িতে। আজকের দিনটি শুধু শোকের নয়, আজকের দিনটি আমাদের প্রতিজ্ঞার। এই লড়াইয়ে তামান্নার পরিবার একা নয়, বৃহত্তর বিধাননগর অভয়া মঞ্চ এবং কেন্দ্রীয় অভয়া মঞ্চ প্রতি মুহূর্ত তাঁদের পাশে থাকবে। অভয়ার বিচারের দাবির পাশাপাশি অন্যায় অত্যাচার আর সন্ত্রাসের শিকার সব অভয়া আর সব তামান্নাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে অভয়া মঞ্চ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে তামান্নার এলাকার এবং তামান্নার স্কুলের ৬৫ জন খুদে বাচ্চার হাতে খাতা, পেন্সিল ও আঁকার সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হলো। যে শিশুদের শৈশব ও স্বপ্নগুলোকে অন্যায়ের অন্ধকারে পিষে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, তাদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানো এবং শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াও এই আন্দোলনের অন্যতম অঙ্গীকার। তামান্নার অসম্পূর্ণ জীবনের স্বপ্নকে আরো অসংখ্য তামান্নার মধ্যে সঞ্চারিত করার দায়িত্ব আমাদের। নিহত স্বপ্নকে জিয়নকাঠির স্পর্শে জাগিয়ে তোলার শপথ অভয়া মঞ্চের।















