গরমে দক্ষিণবঙ্গে খুব কষ্ট হয়, তাই ভেবেছিলাম ২০২০-তে আমার ৬০ বছর পূর্ণ হলে শ্রমিক কৃষক মৈত্রী স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে অবসর নেব, শিফট করব উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে। জায়গা দেখতে আসা ২০১৬ র মে মাসে। বেশ কয়েকটি বন্ধ চা বাগানে চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করেছিল শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ, সুন্দরবন শ্রমজীবী হাসপাতাল, চা বাগান সংগ্রাম সমিতি তিন দফায়।
সেই সুযোগে জায়গা দেখে যাওয়া। ভেবেছিলাম প্রথম বছর মাসে এক সপ্তাহ করে, দ্বিতীয় বছর মাসে দু সপ্তাহ করে, তৃতীয় বছর মাসে তিন সপ্তাহ করে উত্তরবঙ্গে কাটাবো। তারপর পুরোপুরি শিফট।
প্ল্যান অনুযায়ী কাজ হলো না। আমাকে এক সপ্তাহের বেশি ছাড়তে রাজি হলেন না মৈত্রী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আমার সহকর্মীরা। ৬০ বছর পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর হতে চলল তবু অবসর মিলল না। রাজ্য সরকারের চেয়েও খারাপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রশাসন! উত্তরবঙ্গে গত নয় বছর ধরে আসছি বটে কিন্তু এতদিন সেটা ছিল সমতলে জলপাইগুড়ি আর মাথাভাঙ্গায়। ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে শুরু করলাম কার্শিয়াং-এর কাছে এক নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা। এবার আমার সঙ্গে আছেন কেরালার ডাক্তার অভনি উন্নি। হিল প্ল্যান্টেশন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের উদ্যোগে শ্রমজীবি স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবশ্য শুরু হয়েছে জুলাই মাসের ৬ তারিখে, ডাক্তার হিসাবে এই পাক্ষিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতেন ডা রাহুল দেব বর্মন মাসের প্রথম ও তৃতীয় রবিবারে। এবার থেকে তৃতীয় রবিবারে আসব আমি। রিঙটং ও মার্গারেটস হোপ চা বাগানদুটির মাঝখানে ফোর পোলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে উজ্জ্বল উপস্থিতি মার্গারেটস হোপ চা বাগানের শ্রমিক আন্দোলনের। স্বাধীনতার মাত্র ৮ বছরের মাথায় ১৯৫৫-এ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবীর আন্দোলনে পুলিশি গুলি চালনায় শহীদ হয়েছিলেন ৬ জন। আর সেই আন্দোলনের একজন সংগঠক ছিলেন এই চা বাগানের বাঙালী ডাক্তার, কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য অবনী রঞ্জন তলাপাত্র। পরে কখনও সেই আন্দোলনের কাহিনী শোনাবো।













