১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫
আজ বিশ্বকর্মা পুজো। আজ একজন ধূপকাঠি বিক্রি করছেন ঘুরে ঘুরে। তিনি যেখানে কাজ করতেন সেই কোম্পানি উঠে গেছে।
সেখানে বিশাল বিশাল অট্টালিকা হয়েছে। গঙ্গার একেবারে ধারে আবাসন। গাঙ্গেয় জলীয় হাওয়া। মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য।
অনেক নির্মাণ শ্রমিক কাজ করেছেন। তাঁরা প্রায় দেড় বছর মাইনে পেয়েছেন। তারপর কাজ শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বকর্মারা বস্তিতে ফিরে গেছেন। গ্রামে ফিরে গেছেন।
এই আবাসনে অনেক বিত্তবান মানুষ ফ্ল্যাট কিনেছেন। অনেকেই বাইরে থাকেন। মাঝেমধ্যে গঙ্গার হাওয়া খেতে আসেন। আট তলা- দশ তলা থেকে সব দৃশ্যই অপূর্ব লাগে। জঞ্জালের স্তুপকেও সযত্নে বেড়ে ওঠা কৃত্রিম বাগান মনে হয়।
একটা পৃথিবীর মধ্যেই অনেক অনেক পৃথিবী আছে। সেখানে কেউ ইঁট, কাঠ, পাথরের মধ্যে থেকেও প্রকৃতির সাথে সহবাসের আনন্দ পায়। কেউ আবার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে বিশাল গেটের সামনে- সকাল আটটার ভোঁ শোনার জন্য। যদিও সাইরেন বাজবে না আর কোনদিন।
কেউ কেউ কিছুই ভাবে না। ভোরবেলায় হাই তুলতে তুলতে নির্লিপ্ত ঢুকে যায় বিশাল বিশাল ইমারতের জঠরে। তাদের কাছে গেট পাস আছে। তারা তিন চার ঘরের গৃহিণীদের নানা কাজে সাহায্য করবে। ঘরদোর পরিষ্কার করবে, রান্না করবে, কাপড় কাচবে, দুটো রুটি আর শুকনো তরকারি খাবে। এর বিনিময়ে মাস গেলে যে টাকা পাবে তা এই আবাসনের একটি ওয়ান বিএইচকের দামের পাঁচ হাজার ভাগের এক ভাগও নয়।
এমন একটি মেয়ে শ্যামলী আগেই বেরিয়ে এসেছে আবাসন থেকে। বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য সে তাড়াতাড়ি ছুটি পায়নি। নিজের ইচ্ছায় অর্ধেক কাজ সেরেই বেরিয়ে এসেছে। তার পৃথিবী কাঁপছে। হাতের মুঠোয় অনেকগুলো টাকা। জীবনে প্রথমবার ধর্ষিতা হওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে যে হাড় জিরজিরে মানুষটি ঘুরে ঘুরে ধূপকাঠি বিক্রি করছে শ্যামলী তার মেয়ে। মায়ের টিবি হয়েছে। ভাই ক্লাস ইলেভেনে পড়ে সাইন্স নিয়ে। পড়াশুনায় ভালো। মেয়েটি টাকাগুলো মুঠো করে গঙ্গার ধারে দাঁড়ায়। কি করবে সে? ভদ্রলোক বলেছেন তার স্ত্রী না থাকলে সহজেই এতগুলো টাকা পেতে পারে সে।
কি করবে সে। চরাচর ঝাপসা। অনেক টাকা। কেউ কিচ্ছু জানতে পারবে না। তবুও কিন্তু…
তার ভাবনা সেই ভাবুক। আমাদের অধিকার নেই ভাবার। আমরা বড়জোর এক প্যাকেট ধুপকাঠি কিনতে পারি।










