“এখনও অনেক পথ হাঁটা বাকি হয়তো,
এখানেই সব শেষ নয় জেনো বন্ধু!
আমাদের চোখে নতুন ভোরের স্বপ্ন,
রাত্রির পথ হোকনা যত বন্ধুর।”
আজ আরও একটা ৯ তারিখ – অভয়ার ন্যায়বিচার না পাওয়ার ১৪ মাস অতিক্রান্ত। কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াই চলছে তদন্তের কোন কোন জায়গায় অসঙ্গতি রয়েছে সেই বিষয়ে, আর শিয়ালদহ কোর্টে এখনও সিবিআই কোনো সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করতে পারেনি। অন্যদিকে, গত ৭ই অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে অভয়া মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল, আমাদের আইনজীবী উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রসঙ্গ উত্থাপন করতে চাইলেও মাননীয় বিচারপতিরা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার (জিএসটি জটিলতা, অনলাইন খেলা নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত মামলা) শুনানি আগে শোনার প্রয়োজনীয়তা বোধ করায় অভয়া মামলার শুনানি নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পিছিয়ে গেছে। স্পষ্টতই এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হবে। হতাশ না হয়ে, এই কঠিন পথে আমাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, কারণ এ পোড়া দেশে বিচার পেতে অনন্ত অপেক্ষাই ভরসা।
কিন্তু আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম – লড়াই শুধু আদালতের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকবে না, রাজপথ থেকে আলপথ পর্যন্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়েছিলাম আমরা। সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন হিসেবে আমরা বেছে নিয়েছি ‘অভয়া ক্লিনিক’ কে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন আমরা পৌঁছে গেছি বন্যা, ধ্বস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর একটি টিম এই মুহুর্তে পৌঁছেছে ময়নাগুড়ি অঞ্চলের আমগুড়ি এলাকায় – মূল জলপাইগুড়ি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার ভিতরে, জলঢাকা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। ফুলে ফেঁপে ওঠা জলঢাকা তছনছ করে দিয়েছে বন্যাকবলিত গ্রামগুলো, বহু বাড়ি ভেঙেছে, বহু জায়গা এখনও জলমগ্ন। স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলে জানা যাচ্ছে, সরকারি ত্রাণ এখনও অপর্যাপ্ত। জলমগ্ন থাকার কারণে পেট খারাপ, চর্মরোগ, জ্বর-সর্দি-কাশির প্রাদুর্ভাব অনেকটাই বেশি। পাশাপাশি বহু দীর্ঘস্থায়ী অসুখে আক্রান্ত মানুষ (ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, হৃদরোগ ইত্যাদি) প্রেসক্রিপশন ও ওষুধ হারিয়েছেন বন্যার জলে। স্থায়ী জায়গা না থাকলেও নদীর ধারে চেয়ার-টেবিল পেতে খোলা হল ‘অভয়া ক্লিনিক’। প্রায় দেড়শো বিপর্যস্ত পরিবারকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হল, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের পাশাপাশি মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হল স্যানিটারি ন্যাপকিন।
এই মেডিকেল টিমটি আগামী চার-পাঁচ দিন ধরে ডুয়ার্স অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করবে। পাশাপাশি অন্য একটি টিম রওনা দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি এলাকা গুলিতে, একে একে আরও বেশ কয়েকটি মেডিকেল টিম যোগ দেবে। আগামী সাত থেকে দশ দিন আমাদের লক্ষ্য – প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে মানুষের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়ানো। আমাদের পেজ থেকে নিয়মিত খবর দেওয়ার চেষ্টা আমরা করব।
যাঁরা আমাদের এই উদ্যোগে যুক্ত হতে চান বা সাহায্য করতে চান, আমাদের পেজ বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করুন।
ন্যায়বিচারের লড়াই যেমন আমাদের, তেমনি মানুষের পাশে থাকার লড়াইটাও আমাদের।✊🏽
৯ অক্টোবর ২০২৫










