Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

এস আই আর ও নারী-ট্রান্স-ক্যুয়ার মানুষের অবস্থা

Oplus_16908288
Satabdi Das

Satabdi Das

School teacher. Writer-Activist.
My Other Posts
  • November 9, 2025
  • 6:52 am
  • No Comments

“ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় ঘণ্টাটি পড়েছে। একটি নয়, এবার বারোটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আসবে এসআইআর-এর আওতায়। উদ্বেগে, আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গে বেশ কয়েকজন আত্মঘাতী হলেন৷ ভোটার তালিকা সংশোধন, যার মূল কাজ হওয়ার কথা মৃত, উধাও ও অভিবাসী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও নতুন ভোটার সংযোজন, যা রুটিন প্রক্রিয়া হওয়ার কথা, তা নিয়ে উদ্বেগ কেন? বিহার এসআইআর-এর সমসময়েই দেশ জুড়ে বাঙালিবিদ্বেষের আবহ গড়ে উঠেছিল, বাঙালি শ্রমিকদের আটক করা ও সীমান্ত পার করার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। ভীতি সৃষ্টিতে এসব ঘটনার ভূমিকা যথেষ্ট। এদিকে, বিহার এসআইআর-এ খসড়া তালিকায় পঁয়ষট্টি লক্ষ ও চূড়ান্ত তালিকায় চল্লিশ লক্ষ ভোটারের বাদ পড়লেন। এও উদ্বেগের কারণ। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের ২০০২ সালের সেই ‘মান্য’, শেষ এসআইআর তালিকায় পাওয়া গেছে সোনালি খাতুনের বাবা-মায়ের নাম, যে সোনালিকে আগেই সীমান্ত পার করে দিয়ে এসেছে বিএসএফ জওয়ানরা, দিল্লির বাঙালি-শ্রমিক-খেদাও অভিযানের সময়। মানে, বৈধ ভারতীয়র বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রের অযৌক্তিক সন্দেহ থাকতে পারে, সন্দেহের বশেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে৷ নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী, স্পষ্ট করে বললে মুসলমানদের প্রতি বিরূপতা এতই প্রকট যে এসআইআর-এর জন্যও অপেক্ষা করা হয়নি সোনালিকে দেশচ্যুত করার সময়৷ আবার, বিহারে পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত কারণেও বাদ পড়েছেন অনেকে। আর কারও ক্ষেত্রে বিরূপতা-জনিত বর্জন আর পদ্ধতিগত বর্জনের মেলবন্ধন ঘটলে তো কথাই নেই!

ঠিক এই মিলনবিন্দুর স্থানাঙ্কে দুই মাস আগে দাঁড়িয়েছিলেন বিহারের, এবং এখন দাঁড়িয়ে আছেন পশ্চিমবঙ্গ-সহ বারোটি জেলার আরও অনেক মেয়ে-ট্রান্স-ক্যুয়ার মানুষ। ভোটাধিকার তথা নাগরিকত্ব তাই এক লিঙ্গভিত্তিক ইস্যুও বটে।

বিহারের এসআইআর-পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৭.৪৩ কোটি ভোটার আছেন, যার মধ্যে ৩.৯২ কোটি পুরুষ, ৩.৫ কোটি মহিলা এবং ১,৭২৫ জন রাষ্ট্রমতে ‘তৃতীয় লিঙ্গের’ মানুষ। নারী-পুরুষ অনুপাত এখন ৮৯২:১০০০। কিন্তু ২০২০ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তা ছিল ৯০০:১০০০৷ শেষ আদমশুমারি, ২০১১ অনুসারে লিঙ্গানুপাত ছিল ৯১৮: ১০০০। এসআইআর-এর পরে পুরুষ ভোটার ৩.৮% (১৫.৫ লক্ষ) কমেছে, নারী ভোটার কমেছে ৬.১% (২২.৭ লক্ষ)। শতাংশের হিসেবে প্রায় দ্বিগুণ হ্রাস। এদিকে সাম্প্রতিক কালে মেয়েরা পুরুষের তুলনায় বেশি ভোটদান করছেন বিহারে। তাঁদের সমবেত স্বর জোর হারাল ভোটার তালিকায় লিঙ্গানুপাত অসমঞ্জস হয়ে পড়ায়।

বিহারের ৩৮টির মধ্যে ৩২টি জেলায় লিঙ্গভিত্তিক ভোটার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ১৫টি জেলায় লিঙ্গানুপাত আগের তুলনায় কমেছে। পশ্চিম চম্পারণে অনুপাতে বৈষম্য সর্বোচ্চ, ৮৭২:১০০০। লিঙ্গ অনুপাতের বড়সড় অসামঞ্জস্য ঘটা জেলাগুলি হল গোপালগঞ্জ, গয়া, আরওয়াল, জোহনাবাদ, মধুবনী, ভাগলপুর, সরন প্রভৃতি। সব জেলাতেই ১০০০ পুরুষ পিছু আগে নারীর সংখ্যা ছিল ৯০০-র বেশি, এখন ৮৯০-এরও কম। আসনের ভিত্তিতে, পূর্ণিয়া জেলার আমোর আসনে লিঙ্গ অনুপাত সবচেয়ে কম : ৮৫২, এরপর গোপালগঞ্জের কুচাইকোট এবং পূর্ব চম্পারণের চিরাইয়ায় ৮৬১, মুঙ্গেরের তারাপুরে ৮৬৪ এবং পূর্ব চম্পারণের নারকাটিয়া এবং মতিহারে ৮৬৬। মানচিত্র খুলে বসলে দেখা যাবে, অঞ্চলগুলি চারপাশে ভিনদেশ বলতে মূলত নেপাল। মূলত সেসব জায়গায় ভিনরাজ্যের সীমানা পড়ছে। তাহলে, সম্ভবত মেয়ে-শ্রমিকদের কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে পরিযান একটি কারণ৷ কিন্তু পরিযানের কারণেও পুরুষের থেকে মহিলারা বাদ পড়লেন বেশি। কেন?

নারী, ট্রান্স ও ক্যুয়ার মানুষদের অন্তর্ভুক্তিকরণের সমস্যাগুলি এক এক করে তুলে ধরা দরকার। এসআইআর ২০২৫ বার্তা দেয়, নিজেকে নাগরিক প্রমাণ করার দায়িত্ব একান্তভাবেই নাগরিকের। তা মনে করছে, কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র বৈধ ভোটারের কাছে না থাকার কোনো কারণ নেই৷ তালিকায় আছে সরকারি পেনশনের কাগজ, ১৯৮৭ সালের আগে পোস্ট অফিস, ব্যাঙ্ক বা এলআইসির নথি, জমি-বাড়ির দলিল, জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, এসসি/ এসটি সার্টিফিকেট, জঙ্গল অধিকার সার্টিফিকেট, এনআরসি (যা বারোটি রাজ্য-কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের কোথাও হয়নি), সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকের থেকে পাওয়া স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র, পড়াশোনার সার্টিফিকেট ও রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি ফ্যামিলি রেজিস্টার।

আমাদের দেশের মেয়েরা নথিপত্রের জন্য পরিবারের পুরুষ সদস্যদের মর্জির উপর নির্ভর করেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়েদের জন্ম নথিকরণ করার প্রয়োজনীয়তা খুব একটা দেখেন না তাঁদের পরিবার। বাল্যবিবাহ হলে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডটিও জোটে না (এনসিআরবি অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিহারের হার দেশের সামগ্রিক হারের চেয়ে বেশি)। পাসপোর্ট একটি নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক শ্রেণির বাইরে লিঙ্গনির্বিশেষে যে কোনো মানুষের কাছে চাওয়া বাতুলতা। মেয়েদের নামে জমি-বাড়ি থাকে না। থাকে তাদের বাবা-বর-দাদার নামে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টও তাঁদের থাকে না। পুরুষ যদি আঠারোর আগে পরিযায়ী শ্রমিক হয়, তাহলে আঠারোয় তাকে ভোটার লিস্টে নাম তুলতে বাড়িতে ডাকা হয়। মেয়ে বাল্যশ্রমিকদের সেসব বালাই নেই। আবার, কোনো মেয়ের যদি সৌভাগ্যক্রমে জন্মনথি বা স্কুল পাশের সার্টিফিকেট থাকেও, তবু সেসবে উল্লিখিত নামের সঙ্গে তার বিবাহ-পরবর্তী নাম মেলে না। অথচ বিয়ের পর পদবী পরিবর্তন, বাপের বাড়ির তালিকা থেকে নাম কাটানো, শ্বশুরবাড়ির তালিকায় নাম তোলা ও ভোটার কার্ডে নাম পরিবর্তনকে সে বাধ্যতামূলক জেনেছে। এতটাই সামাজিক ভাবে স্বীকৃত এই প্রথা যে অনেক প্রথাগত ভাবে শিক্ষিত মেয়েও এই ভুল ধারণা পোষণ করে যে এসব আইনি ভাবেও বাধ্যতামূলক৷ নতুন পদবী সমন্বিত কাগজ এদিকে তার কাছে যথেষ্ট নেই! এদেশে মেয়েরা কাজের খোঁজে শুধু নয়, বিয়ের কারণে স্থানান্তরিত হয়, এটা ভুলে গেলে চলবে না।

উল্লেখ্য, মেয়েদের আশৈশব শেখানো হয়, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িই তার পরিচয়, কিন্তু এসআইআর-এ নাম না থাকলে তাঁদের থেকে চাওয়া হচ্ছে বাপ-মায়ের নথি। বিহারের আরারিয়া জেলার মুন্নিদেবী যখন অবাক হয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘বিয়ের পর কেউ বাবা-মায়ের কাগজপত্র নিয়ে আসে নাকি?’, তখন তা ছিল লক্ষ মেয়ের ধারণার প্রকাশ। মুন্নি দেবীর বয়স পঞ্চাশ পেরোলেও, পেটের টানে বরের পিছু পিছু এদিক-ওদিক যাওয়ার কারণে ২০০৩ সালের তালিকায় তাঁর নামটি নেই। কিন্তু ২০২০ তালিকায় ছিল। আবার বাদ পড়ল ২০২৫ সালে। বাবা-মা মারা গেছেন। মুন্নি দেবী জানেন না, বাবা-মায়ের নথি তিনি পাবেন কী করে? সহরসা জেলার সুমিত্রা দেবী কী কাগজ জমা দিয়েছেন? বাবা যে এসসি সার্টিফিকেট-এর জন্য আবেদন করেছেন, তার একটি রিসিট মাত্র৷ জানেন না তা গ্রাহ্য হবে কিনা। মুন্নি দেবী, সুমিত্রা দেবীরা দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত। সাধারণ বর্ণের চেয়ে তাঁদের ভোটারত্ব প্রমাণ সহজ হওয়ার কথা। জাতি শংসাপত্রই অন্যতম প্রমাণ। কিন্তু এঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, পকেটে রেস্ত না থাকলে, শিক্ষা না থাকলে আর দিনমজুরির চাপে লাইন দেওয়ার সময় না থাকলে জাতি শংসাপত্রও মেলা কঠিন। ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একটি মিডডে মিল কর্মী সংগঠন ও একটি গৃহকর্মী সংগঠন জানিয়েছে, তাদের সদস্য মেয়েদের বেশিরভাগের এই এগারোটি নথি নেই। বলা বাহুল্য দুটিই মেয়ে-প্রধান পেশা। বিহারে মনে করা হয়েছিল, ছেলেরা শ্রমিক হিসেবে পরিযান করার ফলে ভোটারের নারী-পুরুষ অনুপাতে মেয়েরা এগোবে। হয়েছে তার বিপরীত। নারী ভোটার তুলনামূলকভাবে আরও কমেছে। কাগজপত্র গরমিল হওয়ায় এনআরসি-বিধ্বস্ত আসামেও বাদ পড়া মানুষের ৬৯% শতাংশই ছিলেন নারী।

বিহারে সম্পূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছিল চল্লিশ দিনে, পশ্চিমবঙ্গেও সময় দেড় মাস মতো৷ এত কম সময়ের মধ্যে অনেকেই কাগজ জোগাড় করতে পারেননি ও পারবেন না। বিএলও কর্তৃক বাড়ি-বাড়ি ফর্ম দেওয়া-নেওয়া, নথি জমা দেওয়ার বিকল্পটি হল অনলাইনে একই কাজ নিজে করা। প্রসঙ্গত, শহরাঞ্চলে পুরুষ বনাম নারীর ডিজিটাল সাক্ষরতার তফাত হল ৭২.৫% বনাম ৫১.৮%। আর গ্রামাঞ্চলে তা হল ৪৮.৭% বনাম ২৪.৬%। ফলাফল, এসআইআর-এর ক্ষেত্রে, অনুমেয়। মধ্যবিত্ত শ্রেণি যদি মনে করেন শুধু শ্রমজীবী বা মুসলমান মানুষ সমস্যায় পড়বেন, তাহলে জেনে রাখা ভাল, পশ্চিমবঙ্গের বহুল সংখ্যক মানুষ, যাঁরা ২০০২ সালের আগে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলেন ও ২০০২ সালে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা তালিকায় নাম পাচ্ছেন না। শহরাঞ্চলে সকলের নিজস্ব বাড়ি থাকে না৷ ভাড়াবাড়ি পরিবর্তন জনিত স্থানান্তরেরও প্রভাবও পড়েছে ২০০২ সালের সেই লিস্টে৷ তাছাড়া, আমাদের এক প্রজন্ম আগে কতজন মধ্যবিত্ত মেয়ের নিজের নামে জমি-বাড়ি আছে? কতজনেরই বা জন্মনথিকরণ হয়েছিল? কতজনের নামে এখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে?

ট্রান্স ও ক্যুয়ার মানুষদের ৯০% নিজ লিঙ্গপরিচয় বা যৌন পছন্দের কারণে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি ছাড়েন। বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কও তাঁদের ভাল নয়। এঁরা বাবা-মায়ের নথি সংগ্রহ করতে ফিরবেন কোন ভরসায়? ট্রান্স মানুষদের ক্ষেত্রে অবস্থাটি আরেকটু জটিল। এঁরা জীবনের একটা সময়ে নিজের জৈবিক লিঙ্গ ঝেড়ে ফেলে অন্য একটি লিঙ্গ পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। সকলেই যে অপারেশন করে শরীর পরিবর্তন করেছেন, তা নয়৷ ভারতেরই নালসা রায় অনুসারে মানসিক ভাবে কেউ নিজের জৈবিক লিঙ্গ পরিচয়কে অস্বীকার করে নতুন লিঙ্গ পরিচয় পেতে চাইলে, তাঁর সার্জারি না হলেও, তাকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত লিঙ্গের মানুষ হিসেবেই মর্যাদা দিতে হবে। হয়ত সার্জারি না হওয়ায় অনেকেই ট্রান্স-কার্ড পাননি, তবু তিনি ট্রান্স মানুষ৷ এঁদের আত্মপ্রকাশের আগের ছবির সঙ্গে পরের চেহারা (ট্রান্সকার্ডে থাকলে ট্রান্সকার্ডের ছবি) মিলবে না। সর্বোপরি এগারোটি নথির মধ্যে ট্রান্স কার্ড-এর উল্লেখ নেই। এদিকে এঁদের লিঙ্গপরিচয়, কাগজ দেখানোর অক্ষমতার কারণ বোঝার মতো সচেতনতা বা প্রশিক্ষণ বিএলও-দের নেই। ট্রান্স এবং ক্যুয়ার মানুষদের মধ্যেও পরিযায়ী শ্রমিক, মুসলিম বা দলিত আছেন। এঁদের প্রান্তিকায়ন আরও প্রকট। সম্প্রতি পিতৃমাতৃপরিচয়হীন, হোমে বড় হওয়া এক ত্রিশ বছরের ট্রান্সম্যান (নিজেকে ছেলে ভাবে, জন্মসূত্রে মেয়ে) আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে, সে কীভাবে এসআইআর-এর মোকাবিলা করবে? কার কাছে কোন ডকুমেন্ট চাইবে?

আপাতভাবে এসআইআর এক রাষ্ট্রীয় অবিমৃশ্যকারিতা, যার ফলে ত্রস্ত নারী-পুরুষ-অন্য লিঙ্গযৌনতার মানুষ— সকলেই। কিন্তু এই একমাত্রিক গল্পতে আছে আরও নানা মোচড়৷ সমাজ সমসত্ত্ব নয়। তাই প্রান্তিকেরাই যে বেশি খাবি খাবেন, তা প্রত্যাশিত।

গল্পটা ঘুরে ফিরে ‘এজেন্সি’-রই। পুরুষের যতটা জ্ঞানের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, তথ্যের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, জন্ম নথিভুক্তকরণের অধিকার আছে, নারী বা প্রান্তিক লিঙ্গযৌনতার তা নেই৷ আবার উচ্চবর্ণের উক্ত অধিকারগুলি যতটা আছে, নিম্নবর্ণের বা উপজাতির তা নেই। নারী বা ট্রান্সজেন্ডার যদি নিম্নবর্ণের হন? কিংবা মুসলমান? সেই সঙ্গে গরীব বা নিম্নমধ্যবিত্ত হন? তাহলে অবস্থা করুণতম।

‘নারীর কোনো দেশ নেই’- কথাটি ভার্জিনিয়া উলফ বলেছিলেন নেহাতই আলংকারিক অর্থে। অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে উলফের কথার এক বাস্তব, ভূরাজনৈতিক রূপ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ ঘটছে।”

এই সময় পত্রিকায় ৫ নভেম্বর ২০২৫ -এ প্রকাশিত।

PrevPreviousকোমরে পিস্তল
Nextগণস্বাক্ষর অভিযান, ৯ নভেম্বর ২০২৫ শুরু হতে চলেছেNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

‘নাকছাবিটা হারিয়ে গেছে, সুখ নেই কো মনে’

June 25, 2026 No Comments

জামাইষষ্ঠী শব্দটি উচ্চারণ করলেই আমার দিদার মৃত্যুদিনের কথা মনে পড়ে যায়। সতের বছর বয়সে সেই প্রথম কোনও আপনজনের চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার সাক্ষী হয়েছিলাম। ভরা ভাদরের

অগ্নিসংযোগ

June 25, 2026 No Comments

আরশোলাদের আরশোলাত্বের দায় কি তাদের? ৭ জুন ২০২৬ ‘প্রতিদিন’-এর রবিবাসরীয় ক্রোড়পত্র ‘রোববার’-এর ‘ককরোচ’ সংখ্যায় প্রকাশিত একটি লেখা। আন্দোলন ঘটে কেন? এ নিয়ে তত্ত্বের কচকচানি যত

যোগ-য়োগা

June 25, 2026 No Comments

য়োগা দিনে যোগ দিন, প্রচারিত রাতদিন ফেসবুক ভরে ওঠে য়োগা-চারী ছবিতে, মুখেতে স্মাইলি এঁকে , নানা ‘আসনা’তে বেঁকে প্রত‍্যেকে বলে হেঁকে য়োগা রাখি হবি’তে কারো

সাংসদ কেনাবেচা যদি এভাবে চলে, গণতন্ত্রের মৃত্যু তাহলে অচিরেই।

June 24, 2026 1 Comment

কারুর দাম ৪০ কোটি, কারুর দাম ৫০ কোটি! আম জনতাকে বিজেপির অপশাসন মুক্তি দিয়ে যাঁরা সাম্প্রদায়িকতামুক্ত ভারত গড়ার আদর্শ দেখিয়ে নির্বাচনে জিতে এসেছিল, গণতন্ত্রের হাটে

নিহত স্বপ্নকে জিয়নকাঠির স্পর্শে জাগিয়ে তোলার শপথ অভয়া মঞ্চের।

June 24, 2026 No Comments

তামান্না – এক নিহত স্বপ্নের নাম। ২০২৫ এর ২৩শে জুন তৃণমূলের নির্বাচনী বিজয়োল্লাসের বলি হয় ১২ বছরের তামান্না। তরুণ পরিযায়ী শ্রমিক হুসেনের কন্যা, মা সাবিনার

সাম্প্রতিক পোস্ট

‘নাকছাবিটা হারিয়ে গেছে, সুখ নেই কো মনে’

Dr. Sukanya Bandopadhyay June 25, 2026

অগ্নিসংযোগ

Satabdi Das June 25, 2026

যোগ-য়োগা

Arya Tirtha June 25, 2026

সাংসদ কেনাবেচা যদি এভাবে চলে, গণতন্ত্রের মৃত্যু তাহলে অচিরেই।

Parichay Gupta June 24, 2026

নিহত স্বপ্নকে জিয়নকাঠির স্পর্শে জাগিয়ে তোলার শপথ অভয়া মঞ্চের।

Abhaya Mancha June 24, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

636239
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]