ভগবানের প্রাসাদে ইঁটের অভাব হয় না।
আল্লাহ রাম জগন্নাথ বা যিশুর স্বঘোষিত অছিরা
চাইলেই হলো,
সাথে শুধু একটু লেজুড় জুড়ে দিতে হবে,
‘ ইঁট না পাঠালে ধার্মিক বলে তাকে মানা হবে না’।
ইদানিং দেশপ্রেম এক ফর্মূলা মেনে চলে,
‘ভারত মাতা কি জয়’ না বললে সে যে কত বড় দ্রোহী,
হিন্দুস্তানে সেটা সকলেই জানে,
ধর্মে যাদের মানা দেব-দেবী পুজো করা নিজস্ব ঈশ্বর বিনা,
‘ জয় হিন্দ ‘ বলতে বলা যেতো যদিও তাদের,
তবু ঠিক ভারতমাতা-ই না বললে
পুলিশ প্রশাসন ও দেশপ্রেম-ধ্বজাধারী অখুশি প্রবল
ইদানিং সিলেবাসে দেশ ভালোবাসা মানে
কতিপয় চিহ্নিত শ্লোগান কেবল ।
ঈশ্বর-ফর্মূলা মোটামুটি একই ছক ধরে,
জয় শ্রীরাম আর আল্লাহ হো আকবর
বস্তুত দুভাষার ভগবান-জয়গান
একথা শুনতে আর রাজি নয় কেউ,
ধর্মের কাঁটাতারে এতটাই ঘেরা আজ মানুষের মন,
নিজেদের বাড়ি ছেড়ে মন্দির মসজিদ বেশি প্রয়োজন,
একথা বোঝাতে কোনো এলেম লাগে না,
দরকারে ইঁট দেবে করে ধারদেনা,
এক মন্দির পিছু এক মসজিদ ভিত গড়া হবে দেশের
কোথাও,
রুটি-রুজি-শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সঞ্চয় যত হতে থাক না উধাও।
ইতিহাস জানে,
ভাগশেষে ভাগ্যতে শূন্যই পড়ে থাকে এ ফর্মূলায়,
কারণ এই ধর্মের চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ বাড়ার হিসেবে ,
নিদারুণ বিয়োগের আরেক গণিত মুখ নিভৃতে লুকায়..
ঈশ্বরের প্রাসাদে দেওয়া প্রত্যেক ইঁটে,
শিক্ষার পীঠ থেকে একটি একটি করে ইঁট খসে যায়।










