১৬টা মাস পেরিয়েছে। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় ধ*র্ষিতা ও খুন হয়ে যাওয়া জুনিয়র ডাক্তার, অভয়া, আজ ও বিচারের প্রতীক্ষায়।
বহু অপেক্ষার পর গত পরশু সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল। এক কথায় বলতে গেলে তাতে ফলাফল যা দাঁড়াল, খুন ধর্ষণ সংক্রান্ত গোটা মামলা টাই কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হল। এ ছাড়াও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের বিষয়ে আলোচনাও হাইকোর্টেই হবে বলে রায় দিলেন মাননীয় বিচারপতি। কার্যত সুপ্রিম কোর্টে আর এই মামলার কোনো ভবিষ্যৎ রইল না। এবার সমস্ত টাই কলকাতা হাইকোর্টের উপর নির্ভরশীল।
এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে যেতে বাধ্য যে গত বছর ৯ই আগষ্টের অব্যবহিত পরে তীব্র আন্দোলনে গোটা বাংলা যখন উত্তাল, সেই আন্দোলনের গনগনে আঁচে ভারত তথা গোটা বিশ্ব আন্দোলিত তখন হঠাৎ এক রবিবার সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ‘স্বত: প্রণোদিত’ ভাবে সুপ্রিমকোর্টে মামলা নিলেন এবং এরকম একটা আবহাওয়া তৈরি করা হল যে প্রতিটি সাধারণ মানুষ সেই শুনানির লাইভ স্ট্রিমিং দেখার জন্যে হাপিত্যেশ করে বসে থাকতেন বিচারের অপেক্ষায়। এর মধ্যেই সিবিআই এর তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট দেখে আঁতকে উঠেছেন সেখানকার বিচারপতিরা।(কিন্তু আজ অবধি সিবিআই তদন্ত শেষ করে উঠতে পারেনি, সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেনি ১৬ মাস পরেও। এখনও নাকি বহু ফরেন্সিক পরীক্ষা বাকি আছে) তাহলে আজ সবটা আবার কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হলে এই প্রশ্ন তো ওঠা খুব স্বাভাবিক যে এতদিন সুপ্রিম কোর্ট ঠিক কী করল? সমস্তটাই কি নেহাৎই আন্দোলনকে স্তিমিত করার অপচেষ্টা ছিল? বিচারব্যবস্থার প্রতি এহেন প্রশ্ন বা সন্দেহ তৈরি হওয়া কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য বেশ বিপজ্জনক!
অন্যদিকে মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ফিরে এলেও স্বস্তির কারণ খুব নেই। কারণ কলকাতা হাইকোর্টেও তারিখের পর তারিখ, এক বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চের গোলকধাঁধা পেরিয়ে প্রতিদিন শুনানির দিন পিছিয়েই চলেছে। লিস্টিং এর পরেও অজ্ঞাত কারণে শুনানি পিছিয়েছে বেশ কয়েকবার। সুপ্রিম কোর্টের শেষ রায়ে একটিই মাত্র ইতিবাচক দিক রয়েছে যে, সিবিআই এর সমস্ত স্টেটাস রিপোর্ট এর কপি অভয়ার বাবা – মা কে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
ফলত, বোঝাই যাচ্ছে এ লড়াই অনেকটা দীর্ঘ হবে। এবং আমরাও আমাদের স্বাস্থ্যসেবার পথকে লড়াই এর অন্যতম পথ হিসেবে বজায় রাখছি। আমরা মনে করি সব সময় এগুলো প্রচারের আলোয় আনার প্রায়োজন নেই, কিন্তু যেহেতু অনেকেই বিভিন্ন সময় প্রশ্ন করে থাকেন যে আমাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে তাই নীচের আপডেট রইল।
আপনাদের মনে থাকবে পুজোর ঠিক আগে ব্যাপক অতিবৃষ্টির কারণে কলকাতা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল, সে সময় আমাদের পক্ষে যতটা সম্ভব সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলাম। জলমগ্ন বস্তি অঞ্চলে স্বাস্থ্য শিবির, পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা ইত্যাদির মাধ্যমে অভয়া আন্দোলনের মূল স্পিরিট টাকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। এবং তখনই জানিয়েছিলাম একবার স্বাস্থ্য শিবির করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবার নয়, প্রকৃতপক্ষে যে কোনো বিপর্যস্ত এলাকায় স্বাস্থ্যশিবির করলে নির্দিষ্ট সময় পর তার ফলো আপ ও প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকেই আমাদের পক্ষ থেকে ‘ অভয়া ক্লিনিক ‘ আয়োজিত হল সেই দক্ষিণ কলকাতার রংকল বস্তিতে। সেই অভয়া ক্লিনিক এর কিছু মুহূর্তের ছবি রইল সাথে।
আমরা জানি লড়াই দীর্ঘ। এই অসম লড়াই লড়তে গেলে অবিচল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অভয়া আন্দোলনকে ও তার মূল দাবিগুলো কে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে যেতে হবে। এবং যেহেতু আমরা মূলগত ভাবে চিকিৎসক সংগঠন তাতে জনস্বাস্থ্যের এই ছোট ছোট লড়াই গুলোর মাধ্যমেও আমরা এই বিচারের দাবিতে আন্দোলনকে সজীব রাখব, চলমান রেখে যাব। দীর্ঘ লড়াই এর প্রস্তুতিই এই মূহুর্তে সময়ের দাবি।










