
তাঁর বিদায়ে সত্যিই যেন একটা কর্মমুখর যুগের অবসান হলো। আমরা হারালাম এক সংবেদনশীল মানুষকে, যিনি আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখালেন তাঁর জীবন যাপনের মধ্য দিয়েই।

মহারাষ্ট্রের মানুষ হিসেবে সামান্য তফাতে থাকা সহ্যাদ্রি পর্বতমালা ছিল তাঁর চিন্তা ভাবনা ও কর্মের আঁতুরঘর, প্রয়োগশালা। সহ্যাদ্রির সঙ্গে তাঁর সখ্যতা ছিল অনেকটা ‘মায়ে পোয়ের’ সম্পর্কের মতোই সুগভীর এবং হৃদয়ের কেন্দ্র থেকে উৎসারিত। উত্তরে গুজরাট রাজ্য থেকে দক্ষিণে কেরালা রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্তবিন্দু পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যুতি পর্বতমালা একে একে ছুঁয়ে গেছে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং কেরালা রাজ্যকে। ভারতের পশ্চিম উপকূলরেখার সমান্তরালে প্রসারিত এই পর্বতশ্রেণিটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষ ও প্রকৃতির নিবিড় ভালোবাসার সম্পর্কের অগণিত আখ্যান। এই সম্পর্ক গভীরভাবে আকৃষ্ট করতো মাধব স্যারকে। আর তাই উন্নয়নের ধুয়ো তুলে যখনই এই পর্বতমালার ওপর বুলডোজারের থাবা নেমে এসেছে তখনই প্রতিবাদে সরব হয়ে গর্জে উঠেছেন তিনি। পশ্চিমঘাট পর্বতের ওপর এমন ঘটনা বারংবার ঘটছে সমস্ত সতর্কতা সংকেতকে অগ্রাহ্য করেই। গ্যাডগিল স্যার এক সাক্ষাৎকারে একসময় স্পষ্টভাবে জানিয়ে ছিলেন যে —
“পৃথিবীর বদলে যাওয়া জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে ভারতের পশ্চিম উপকূলের ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সমুদ্রতলের উচ্চতা বাড়ছে, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে উপকূল অঞ্চলে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক মানুষের রুটি- রুজি বাস্তুর ভবিষ্যৎ। মানুষের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপের কারণে ক্রমশই উষ্ণ হয়ে উঠছে সমুদ্রের জলরাশি ফলে স্থলভাগ ও জলভাগের মধ্যে তাপীয় ভারসাম্য বজায় রাখার প্রাকৃতিক ব্যবস্থাটাই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের চেনা আস্তানা ছেড়ে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়েরা এখন ভিড় করছে পশ্চিম উপকূলের লাগোয়া আরব সাগরে। এই অবস্থায় পশ্চিমঘাট পর্বতের ওপর উন্নয়নের খড়্গ নামিয়ে আনা হলে তা হবে আত্মনাশী কর্মকাণ্ড। উপকূলের জমি হাতাতে অনেক আগেই কেটে কুটে প্রায় সাফ করে দেওয়া হয়েছে ম্যানগ্রোভ বনভূমির প্রাকৃতিক আড়াল । অদূর ভবিষ্যতে এরজন্য চরম মাশুল দিতে হবে গোটা দেশের মানুষকেই।”

স্যার! আপনাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।
জানুয়ারি ১২,২০২৬











Ashamanyo byaktityo, Oshadharon manush !
Eii dharoner manushgulir jonyoi amra ekhono bnechey achi. Eii choley jawa ta poribesh rakkhar khhettrey amader aro pichiye na day!
ধন্যবাদ ঋতব্রত। গ্যাডগিল স্যারের চলে যাওয়া এক বিরাট শূন্যতা তৈরি করে গেল। সত্যিই এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন আমাদের।