ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট প্রেস কনফারেন্স করে তাঁদের বক্তব্য জানালেন। এই বছরের প্রথম সপ্তাহেই এই প্রেস কনফারেন্স পূর্ব নির্ধারিত ছিল। কিন্তু অনভিপ্রেত একটি ঘটনার জন্য তাঁদের সাংবাদিক সম্মেলন পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। অত্যন্ত পরিণত যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্য তুলে ধরলেন দেবাশিস, অর্ণব, পুলস্ত্য, আসফাকুল্লা, অমৃতা এবং অভিনন্দা।
সি বি আই এর ন্যক্কারজনক ভূমিকা এবং বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা অভয়ার বিচারকে ক্রমশ অধরা করে চলেছে। তাই আন্দোলনে হতাশা আসছে। কিন্তু JDF বিশ্বাস করে এ আন্দোলন শুধু একজন অভয়ার জন্য নয়। অভয়ার বিচার না পাওয়া অবধি তাঁরা লড়াই চালাবেন অবশ্যই কিন্তু সেখানেই শেষ নয় আন্দোলনের। আর অভয়া না হতে দেবার জন্য লড়ছেন তাঁরা। জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, রোগী পরিষেবা ও সুরক্ষার দাবিতে চলছে তাঁদের আন্দোলন। তাই হতাশার জায়গা নেই। সব আন্দোলনের নেতৃত্ব WBJDF দিতে পারবে না। কিন্তু এই আন্দোলন গুলিতে মানুষের পাশে থেকে পায়ে পা মিলিয়ে লড়াই করবে WBJDF এর তরুণ যোদ্ধারা।
সংগঠনের নেতৃত্ব জানান তাঁদের আর্থিক হিসাব স্বচ্ছ। ১৬ ই এপ্রিল ২০২৫ এ হিসাব পেশ করেছিলেন তাঁরা, এই বছর করবেন। ইতিমধ্যে ইনকাম ট্যাক্স জমা করার ITR ও তাঁরা দেখালেন।
না। অনিকেত মাহাতোকে নিয়ে খাপ পঞ্চায়েত বসানো উদ্দেশ্য ছিল না তাঁদের। অত্যন্ত ঋজুতার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ভাবে জানিয়ে দিলেন পথ আলাদা হবার কাহিনী। মশলাদার রসদ নিতে যারা গিয়েছিলেন তাঁদের আশার গুড়ে বালি। ৫ জনের ট্রাস্ট কে গণ সংগঠনের চেহারা দেবার লক্ষ্যে নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠন। ৫ জন পদাধিকারীদের একজন অনিকেত ৩১ ডিসেম্বর তাঁর আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেন। ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাতটায় এই মতানৈক্যের অবসানের জন্য অনলাইন মিটিং ডাকা হয়। ওই দিন ৩ তে নাগাদ ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয় অনিকেতের পদত্যাপত্র। এর পর একাধিক মেল করেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। আলোচনায় বসতে চাওয়ার প্রস্তাবে সাড়া মেলেনি। এই পরিপ্রেক্ষিতে WBJDF এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে করা মেল সমাজমাধ্যমে আসে।
বন্ড মকুবের টাকা জনগণের কাছ থেকে নেবার সিদ্ধান্ত WBJDF এর নয়। একথাও তাঁরা অনিকেতকে জানিয়েছেন। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনিকেতের মামলার খরচ সংগঠন চালিয়েছে। কিন্তু নিজের সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ ছাড়ার জন্য ক্রাউড পুলিং এ সংগঠনের সিদ্ধান্ত না মেনে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দিয়েছেন অনিকেত। তাই অনিকেতের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন বলে ঘোষণা করলেন WBJDF নেতৃত্ব। জনগণের এই টাকার দায় তাঁরা নিতে পারবেন না এটা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন তাঁরা।
কোন একজন বা কয়েকজন ব্যক্তি নয়, সব জুনিয়র ডাক্তার, সব স্বাস্থ্য কর্মী, সুইগি ডেলিভারি এজেন্ট, রিকশা ভ্যান চালক থেকে শুরু করে সমস্ত সাধারণ মানুষ যারা অভয়া আন্দোলনে যোগ দেবার জন্য রাষ্টের নিপীড়নের শিকার হয়েছে তাদের সবার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল WBJDF। এই আত্মত্যাগই ভবিষ্যতে আন্দোলন যে পথ দেখাবে। এই আন্দোলনের পথেই কখনও আবার রাস্তার লড়াই এ তাঁরা মিলতে পারেন পুরোনো সাথির সঙ্গে এই আশা রাখেন তাঁরা।
আনুষ্ঠানিক ভাবে WBJDF এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লঞ্চ করা হল আজ এই মঞ্চে। WBJDF Companion সেকশনে সাধারণ মানুষকে রেজিস্ট্রেশন করে আন্দোলনে সংহতি জানাতে এবং আন্দোলনের বৃত্ত কে বড় করার আবেদন জানান নেতৃত্ব। আজীবন সদস্যপদের চাঁদা বছরে নয় টাকা, ৯ ই অগাস্টের স্মৃতিকে প্রতি মুহূর্তে জাগিয়ে রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।
পাশাপাশি ইউ টিউব চ্যানেল এ জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি তথ্য, ভিডিও এবং ডাক্তারি পড়ুয়াদের জন্য প্রয়োজনীয় লেকচার ও ভিডিও আপলোড করবেন বলে তাঁরা জানালেন।
কুর্নিশ WBJDF নেতৃত্ব এবং সহযোদ্ধাদের। আন্দোলনে স্বচ্ছতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সংহতির অনন্য নজির স্থাপন করলেন আপনারা। মানুষের পাশে মানুষের আন্দোলনের সঙ্গে থেকে এগিয়ে চলুক ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। এই সম্মিলিত আন্দোলনই একদিন ছিনিয়ে আনবে বিচার, তৈরি হবে এক নতুন সমাজ যেখানে অভয়ারা অন্যায় নির্যাতনের শিকার হবে না, মাথা উঁচু করে মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেবে।










