এই শহরে সরকারি খবরে ১৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু WOW MOMO কোম্পানির গোডাউনের আগুনে ঝলসে আর নিখোঁজ আরো ২৫ নাকি ৩০ নাকি ৪০ জন জানি না! অথচ কলকাতা কি অসীম নির্বিকার!
কেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত Ramsar site এই পূর্ব কলকাতা জলাভূমি বুজিয়ে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ গড়ে ওঠে? কীভাবে কাঞ্চন মূল্যে প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে এইসব কারখানা, গোডাউন ইত্যাদি পরিবেশ দফতরের অনুমতি, দমকল দফতরের অনুমতি, fire safety certificate ইত্যাদি ছাড়াই গড়ে ওঠে আর রমরম করে ব্যবসা চালায়? এতগুলো মৃত্যুর পরও ভয়ংকরভাবে বেআইনি এই সকল কাজের জন্য WOW MOMO কোম্পানির আধিকারিকরা এবং প্রশাসন ও শাসকদলের টু পাইস কামানো কেষ্ট বিষ্টুরা কেন গ্রেফতার হবে না– এই সকল প্রশ্ন করে গর্জে উঠছে না কলকাতা! এত এত মানুষের পোড়া গন্ধে ভারি বাতাসে অক্লেশে দন্ত কৌমুদী বিকশিত সেলফি পোস্টাচ্ছে, বইমেলা, টি ২০, অরিজিত সিংহ, পোষা বেড়ালের খুনসুটি সব সব গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে কলকাতা চলেছে ঠিক একইভাবে গতকাল, পরশু, তরশু যেভাবে চলছিল। ৩০, ৪০ নাকি ৫০ কত মানুষ ঝলসে গেল কেউ কি জানতে চায়?
এই রাস্কেল, জানোয়ার, পুরু চামড়ার প্রশাসনকে চাবুক মারছে না কেন কলকাতা? এও বড় অপরাধের দায় এড়িয়ে কী করে এখনও কথা বলছে শাসক? কেন মুখ্যমন্ত্রী ছুটে আসবেন না ঘটনাস্থলে? বেআইনি কারবার যেভাবে চালাচ্ছে তাঁর প্রশাসন সেটা মানুষের সামনে আরও ন্যাংটো হয়ে যাবে বলে?
WOW MOMO কোম্পানির একটা বিবৃতি সমাজ মাধ্যামে পেলাম। তারা নাকি তিনজন কর্মীকে হারিয়ে গভীরভাবে শোকাহত। তিনজন???? শুধু তিনজন? এতগুলো খুন হ্যাঁ খুনের পর একথা শুনেও নির্লজ্জ প্রশাসন কেমন নির্বিকার!
এরপরও কলকাতা স্তব্ধ হয়ে যাবে না? কবি ও কেরাণী, গাইয়ে, নর্তকী, ব্যবসায়ী, চিত্রকর বা খেলোয়াড়, সাংবাদিক, নট-নটি, ফিল্মি তারকা, কারিগর বা চিকিৎসক, লেখক কিংবা উকিল সবাই চুপ করে থাকবে? ছাত্র-ছাত্রী-জেন জি তারাও ফেটে পড়বে না অশ্রুতে আর ক্রোধে? সবক শেখাবে না, দায় শেখাবে না শাসক আর নির্লজ্জ মুনাফাভোগীদের? নাকি পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল যারা তারা এলিট কেউ নয়, স্রেফ গরীব গুর্বো পোকামাকড়ের মত মজুর! তাদের মৃত্যুতে কান্না ও ক্রোধ শাসকের সততার মতই অলীক?
কুড়ি-তিরিশটি মানুষের পোড়া গন্ধভরা আকাশের নীচে এই মূক,বধির, আত্মমগ্ন, ধান্দাবাজ কলকাতা আমার নয় আমার নয়!










