কাল দুপুর বেলা …
কালীঘাট মেট্রো থেকে একদল মেয়ে উঠলো। আমিও ট্রেন এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ট্রেন এলে আমিও উঠে পড়লাম। উঠেই একটা সংরক্ষিত সিট পেয়ে গেলাম। বসার পর মেয়েগুলোর দিকে চোখ গেল। ৫/ ৬ জনের একটি দল। প্রায় সবাই -ই সুতির সুন্দর সুন্দর প্রিন্টেড শাড়ি পড়েছে। কি করে বুঝলাম, বলতে পারবো না; কিন্তু বুঝলাম, ওরা “নষ্ট মেয়ে”। এদের মধ্যে একজন এসে আমার সামনের সিট ফাঁকা হওয়াতে বসলো। আমি মেয়েটাকে আপাদমস্তক লক্ষ্য করছিলাম। সাদা সুতির শাড়ি, মাঝে কালো রঙের খুব সুন্দর সুন্দর ছোটো ছোটো প্রিন্ট; সঙ্গে ম্যাচিং জুয়েলারি। শ্যামশ্রী মেয়েটার মুখের মধ্যে কি একটা ছিল, যা বহু বছর পর আমায় বিকাশ ভট্টাচার্যকে মনে করিয়ে দিল। ছবি তো তোলা যাবে না।
ইতিমধ্যে আমার সিটের সামনে এক যাত্রী এসে দাঁড়ালেন, যিনি সংরক্ষণের আওতায় পড়েন। আমার পাশে আগে থাকতেই একটি মেয়ে বসেছিল। সে অবশ্য “নষ্ট মেয়ে” নয়। উঠে দাঁড়িয়ে, সংরক্ষিত সিট ছেড়ে দিল। অল্প কিছুক্ষণ পর, বোধ হয় এক স্টেশন পর, উল্টোদিকে বসে থাকা “নষ্ট মেয়ে”টি তার সিট ছেড়ে দিয়ে বললো- দিদি, এখানে এসে বসুন। “দিদি” এই অনুরোধ প্রত্যাখান করলেন। কিন্তু গজ গজ করতে লাগলেন- এখন বলে কি হবে; আমার স্টেশন তো এসেই গেল। “দিদি” নামার সময়, চোখে পড়লো, পায়ে ক্রেপ ব্যাণ্ডেজ বাঁধা।
এক স্টেশন পর “নষ্ট মেয়ে” গুলোও নেমে গেল। সব মিলিয়ে ১০/ ১২ মিনিটের এই জীবন্ত চিত্রনাট্য আমায় কিন্তু পাল্টে দিল। কাল থেকে মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, “নষ্ট মেয়ে” টি তাহলে কে? বিকাশ ভট্টাচার্যের আঁকা মেয়েটি না, তার “দিদি” টি?
এলজিবিটিদের নিয়ে ছোটোবেলার মানসিক বন্ধ্যাত্ব ২০০০ সালে উত্তর আমেরিকায় যাওয়ার পর ধীরে ধীরে অনেকটাই দূর হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু সেটা ৯৯ -এ পৌছে থেমে গেছিল। ২০০৯ এ ইউবিসি-তে এলাম। একদিন জানলাম, আমার প্রিয়তম ছাত্রীটি এই বর্গের, তখন এক ঝটকায় সেটা ১০০ তে পৌঁছে যায়। কালও তাই হলো, “নষ্ট মেয়ে” দের নিয়ে যে সামান্য অথচ বহু দিনের স্থবির একটা মানসিক বন্ধ্যাত্ব ছিল, এক – – বহু বছরের বন্ধ্যাত্ব ১০ মিনিটে উবে গেল। অ্যাশ-এর ছবি আছে, কিন্তু বিকাশ ভট্টাচার্য এর নারীর ছবি নেই। তার ছবি থাক বা না থাক, নিপস/লুমিয়ের এর ক্যামেরা ছাড়াও তো আরও ক্যামেরা আছে। সেখানেই সে থাক, আমার কাছে, অন্ধকারকে দূর করা এক আলোর শিখার মত করে…











