
গাড়ি থেমে যেতেই কামরার ভেতরে থাকা যাত্রীরা স্বাভাবিক ভাবেই একটু অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে। এটা যে খুব নতুন ঘটনা নয় তাও মেনে নেন অনেকেই। দরজা খুলে শরীর ঝুঁকিয়ে বাইরে উঁকি দিয়ে কেউ কেউ মন্তব্য করে – আরে, গাড়িটা আউটারে দাঁড়িয়ে পড়েছে। এক্সপ্রেসকে দাঁড় করিয়ে রেখে, লোকাল ট্রেনগুলোকে জায়গা দিচ্ছে।
একথা সকলেরই কমবেশি জানা আছে যে শুধু ভারতবর্ষে নয়, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের তামাম এলাকায় বর্ষা আসে মৌসুমী বায়ুর হাত ধরে। সেই দক্ষিণ সমুদ্রের বুক থেকে বৃষ্টির খোরাক জলকণা বয়ে নিয়ে সে ক্যালেন্ডারের দিন ক্ষণ মিলিয়ে, অনেক অনেক খুশি আর সম্ভাবনার পশরা নিয়ে, দক্ষিণ দরজা দিয়ে ভারতের মূল ভুখণ্ডে প্রবেশ করে।
সাধারণত জুন মাসের ১ তারিখে বর্ষার দেখা পায় কেরালাম। এবার তিন দিন পরে অর্থাৎ ৪ তারিখে তা কেরালামের মাটি স্পর্শ করেছে।এর আগে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, বর্ষা এবার নাকি এগিয়ে আসছে তার সম্ভাব্য দিন ক্ষণকে পেছনে ফেলে। তবে সেই পূর্ব ঘোষণাকে ভুল প্রমাণিত করে পূর্ব ঘোষিত তারিখের ৯ দিন বাদে তার আগমন।
প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর দাপট দেখানোর বিষয়টি স্পষ্ট হতেই এই বছরের বর্ষার বৃষ্টিপাতের পর্যাপ্ততা নিয়ে অনেকেই রীতিমতো সন্দিহান। প্রমাদ গুনছে সকলেই – আমজনতা থেকে শুরু করে বরিষ্ঠ আবহবিদরা।
জুন মাসের ৪ তারিখে ভারতের কেরালায় পদার্পণের পরে একে একে মাহে,লক্ষ দ্বীপের বেড়া টপকে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে ঢুকে পড়ে বর্ষাবাহী মেঘের দল। কুমারীকা অন্তরীপ ছুঁয়ে খাতায় কলমে বর্ষা গোটা আরব সাগরীয় এবং বঙ্গোপসাগরের নানান খণ্ড অংশেও তার প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করায় সকলেই কিঞ্চিত আশাবাদী হয়েছিলাম। বিশ্ব উষ্ণায়নের দাপট বাড়তেই বর্ষা এখন টলমল পায়ে চলছে বিগত কয়েক বছর ধরে। এবারের খেলা কি তেমনি কিছু হবে?
এখানেই কিন্তু আশঙ্কার শেষ নয়। দেশের উত্তর পশ্চিম প্রান্তভাগে আর্দ্র পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব বাড়ছে। এরফলে ২০২৫ সালের অতি বর্ষণের স্মৃতি ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ মৌসুমী বায়ুর চেনা চেহারাটাই দিনকে দিন বদলে যাবার উপক্রম হয়েছে। আবহাওয়ার লীলা খেলা এমনিতেই বোঝা ভার, তার ওপর বিভিন্ন তন্ত্রের পারস্পরিক সংঘাতের ফলে আমাদের চেনা পরিচিত ব্যবস্থাটাই ঘেঁটে একসা। শঙ্কা যে এখানেই।
আবহবিদরা জানিয়েছেন যে এমনই এক অবস্থা সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৬০%। সুতরাং আমাদের সামনে এক অনিশ্চিত আগামীর হাতছানি।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে দেশের উত্তর পশ্চিম প্রান্তভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় স্বাভাবিকের কাছে থাকতে পারে। কিন্তু অন্যত্র সেই সম্ভাবনা কম। এল নিনোর দাপট যদি তার প্রভাব আরও বাড়ায় তাহলে ওই আউটারেই হয়তো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে মৌসুমী এক্সপ্রেসকে যা নিশ্চিতভাবে মোটেই কাম্য নয়।
ঋণ স্বীকার: তথ্য ছবির জন্য ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর ও অন্যান্য প্রচলিত উৎসগুলোর কাছে ঋণী। তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাই।
জুন ৯, ২০২৬













Here it is raining torrentially everyday. Happy in North Bengal.