ট্রেনে উঠে চোখের সামনে দেখে কানে ঠং ঠং আওয়াজ শুনে বানানো মুড়িমশলা কিনে খেতে পাবো তো?
তাছাড়াও তো আছে চায়ের মত গরম সিঙ্গাড়া। পেঁয়াজ লঙ্কা কুচি দিয়ে সাজানো ঘুগনি, ছোলা সেদ্ধ, বাদাম ভাজা, নানা রঙের লবেনজুস, মাটির ভাঁড়ে গরম চা। আরও কত কি। লোকাল ট্রেনে বা স্বল্প দূরত্বের এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রাপথে এসব নিয়ে তারা আমাদের সেই কিশোরবেলা থেকে দাদা, বন্ধু হয়ে গিয়েছে। মাঝেমধ্যে জোর করে খাইয়েছে দামটা পরে নেব বলে মাঝের স্টেশনে আমাদের কামরা থেকে নেমে পরের কামরায় দৌড়ে উঠেছে। তারা কি সেই লুপ্ত জীবিকার তালিকায় ঠাঁই পাবে? যেমন স্কুলের গেটের বাইরে টিফিনের সময় দেখা হত কালো রং এর অজানা মশলা মাখানো ছোট ছোট বুনো কুল। কাঁধে ঝোলানো বাক্স থেকে বের করে নানা রঙের আইসক্রিম, যার গা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে মনটাই ঠাণ্ডা হয়ে যেত। অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি থেকে হাতায় করে তুলে শালপাতায় ঢেলে দিতে ঘুগনি সঙ্গে দিত শালপাতার একটা টুকরো যা দিয়ে ঘুগনিটা অনায়াসে মুখে চালান করে দেওয়া যেত। এদের কোন বিকল্প হয় নাকি!
এদের পরিবর্তে প্যাকেটের মুড়িমশলা, মোমের পরত দেওয়া কাগজের কাপে গুঁড়ো দুধ গোলায় ঝাঁট দেওয়া চা গুঁড়ো ভর্তি টি ব্যাগ ডুবিয়ে চা, আবর্জনা ভর্তি বাসি প্যাটিস সেঁকা খেতে ইচ্ছে যাদের করে তারা নাকি ‘হাইজিন’ সচেতন। সেই স্যার, ম্যাডাম, হুজৌরদের বলতে ইচ্ছে করে আপনি এসব পছন্দ করতেই পারেন। কিন্তু আমাদের মত উজবুকরা যখন দেখি এসব প্যাকেট, কাপ যখন ছুঁড়ে ফেলে দেন আর তারপর পরিবেশ দূষণ নিয়ে আপনাদের পণ্ডিতি ভাষণ শুনি তখন হাতটা কেন আপনাদের গালের উপর আছড়ে পড়ছে না দেখে কষ্ট পাই।












