মার্চ ১০, ২০২৬
১৯ মাস ধরে লড়াই চলছে। অভয়ার ন্যায়বিচারের জন্য, মেয়েদের সুরক্ষার পক্ষে, দুর্নীতির বিপক্ষে। রাজপথ থেকে আলপথ, থানা থেকে স্বাস্থ্যভবন, লালবাজার, সিবিআই কোনো জায়গা আমরা বাদ দিই নি একটা বিচারের দাবি জানাতে। আর জি কর–এর অভয়া বিচার পেলে অন্য মেয়েদের ওপর নির্যাতন করতে অপরাধী ভয় পাবে এই বিশ্বাস আমাদের আছে। তাই এ লড়াই আমাদের মরণপণ।
যখন চারিদিকে স্বার্থকেন্দ্রিকতা অথবা লোভের বশবর্তী হয়ে সমঝোতাই স্বাভাবিক, ভয়ে অধিকাংশ মানুষ সরে থাকছে,কিছু মানুষ এই লড়াইকেই সাথী করে নিয়েছে। হয়তো সেই রক্তঝরা চোখ আমরা ভুলতে পারিনা।
৭ মার্চ আমরা রওনা হলাম দিল্লীর উদ্দেশ্যে। যন্তর মন্তরে, রাজধানীতে গোটা দেশের মানুষকে জানাতে যে ঘোর অন্যায় হয়েছে। ৮ তারিখ যন্তর মন্তরে বহু সংগঠন এসে এই আন্দোলনের সাথে থাকার বার্তা দিলেন। বলে গেলেন এই দীর্ঘ আন্দোলন সকলের জন্য এক উদাহরণ। এই বাংলার মাটি বিদ্যাসাগর, রামমোহন, রবীন্দ্রনাথের মাটি। ক্ষুদিরামের সাহস, মাতঙ্গিণীর শক্তি আমাদের বুকে। ছাড়বো না এই না-মানুষ শয়তানদের।
৮ তারিখের প্রতিবাদী সভার পর ৯ তারিখ আমরা গেলাম সুপ্রিম কোর্ট। লক্ষাধিক মানুষ জানিয়েছেন, তারা বুঝে গিয়েছেন ন্যায়বিচার হয়নি। কোন মূল্যে বিচার বিকৃত অথবা বিক্রীত হলো তা জানাতে হবে এবং অভয়ার ন্যায়বিচার দিতে হবে। এই গণতন্ত্র যদি প্রকৃতই দেশবাসীর জন্য হয় তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষের থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের, অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা কেন্দ্রীয় এজেন্সির মিথ্যাচার বড় হতে পারে না। জমা দিলাম এতজনের সাক্ষর। অপেক্ষায় থাকবো গণতন্ত্র, সংবিধানের অর্থ আছে কিনা তা দেখার।
ওই একই দিনে সিবিআই-এর কেন্দ্রীয় দপ্তরেও পৌঁছালাম আমরা একই দাবিগুলি নিয়ে। সেখানে আধিকারিকের কথা হুবহু কলকাতা পুলিশের মতো। যত রকম গরমিলের কথা আমরা বলছি , সবই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে ওনাদের। ভুল, অন্যায়, পদে থেকে যা খুশি করা সব স্বাভাবিক। দীর্ঘ তর্কবিতর্কের পর আমরা জানাই আমরা আরো তথ্য দিতে চাই, ওনাকে শুনতেই হবে।
একই দিনে একই দাবি নিয়ে কলকাতায় আমাদের ডেপুটেশন জমা পড়ে হাই কোর্টে। তারিখের পর তারিখ যায় বিচার অধরা, তবুও আজও আমরা আইনের ওপর আস্থা রাখতে চাই।
এই স্বাধীন দেশের আইন কোন দলের জন্য নয়, কোন অপরাধীর নয়, ধর্ষকের নয়, কোন দুষ্কৃতীর জন্য নয়। নির্যাতিতের পক্ষে ন্যায় বিচার দিতেই হবে।
৯ আগস্ট ২০২৪ যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিবাদ ৯ মার্চ ২০২৬-এ জোরালো হলো। রাজ্য ছাড়িয়ে দেশকে জানানো হলো, দাবি তোলা হলো, আমরা অপেক্ষা করছি ন্যায়বিচারের। যতই চেষ্টা হোক ভোলানোর আমরা ভুলিনি, ভুলবো না।
We deserve justice









