অভয়ার খুন ও ধর্ষণ এর খবর জানার পর আর জি কর হাসপাতাল থেকে শুরু করে, সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ছুঁয়ে মানুষের আর্তনাদ ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছিল। শুধু রাজ্য নয়, রাজ্যের বাইরে এমনকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এই আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজপথ থেকে আইনের রাস্তায় নেমে মানুষ প্রতিবাদ করে, আন্দোলনর ঢেউ এতটা আছড়ে পড়েছিল যে গোটা পৃথিবী একটা সুতোয় গাঁথা হয়ে গেছিল।
আজ উনিশ মাস অতিক্রান্ত কিন্তু কিন্তু কী পেলাম? দেশের তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচুড় সাহেবও ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে মন্তব্য করেছিলেন এই রকম ঘটনা পৃথিবীর অন্যতম জঘন্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই মামলা সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে চন্দ্রচূড় গ্রহণ করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লির রাজপথ কাঁপিয়ে সুপ্রিম কোর্ট-এর বিচারপতিকে লক্ষাধিক মানুষের সাক্ষর সহ স্মারকলিপি প্রদান করার প্রস্তুতি চলছিল। সিবিআই-এর ভাত ঘুম কেড়ে নিতে সিবিআই দপ্তরেও একই রকম ভাবে যখন কড়া নাড়ার প্রস্তুতি চলছিল। দিল্লির যন্তরমন্তরে চলছিল প্রতিবাদ সভা।
ঠিক তখনই এই আন্দোলনকে সমর্থন করে হাওড়ার আমতা ২ -এর কাঁকরোল কাঠের কালিতলায় সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টে পর্যন্ত ১৬০ জন রুগীর রোগ নির্ণয়, সঠিক পরামর্শ সঙ্গে বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান, ইসিজি, রক্তে শর্করার পরিমাণ জানানোর মধ্যে দিয়ে মানুষকে সচেতন হতে সাহায্য করা এবং অভয়াকে ডাক্তার হতে না দেওয়ার অশুভ শক্তি, যারা জাল ঔষধ, সেলাইন সহ রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মাফিয়ারাজ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও রাজ্যের সমস্ত অপরাধীদের বিচার এর মাধ্যমে শাস্তির দাবিতে এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন ডাঃ দেবাশীষ হালদার, ডাঃ সরস্বতী দত্ত, বিশ্বজিৎ মিত্র সহ এলাকার অভয়া আন্দোলনের কর্মীবৃন্দ।
ডাঃ দেবাশীষ হালদার, ডাঃ রাজদীপ সাউ, ডাঃ সরস্বতী দত্ত, ডাঃ স্বাগত মুখার্জি, ডাঃ সাত্যকি, হালদার, ডাঃ মৃন্ময় বেরা স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করেন। দীপান্বিতা মিত্র, অভ্রজিতা মিত্র, মিতা হালদার, নিবেদিতা, সংহিতা বাগচী সহ বহু কর্মী এই সভা পরিচালনা করেন। সহযোগিতায় পি আর সি।
অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে এই সভা। অভয়া থেকে তামান্না, পার্ক ষ্টিট থেকে কামদুনি সমস্ত ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি র দাবিতে সোচ্চার হন। দিল্লির রাজপথ দখলকারী ডাঃ পুণ্যব্রত গুণ, মনীষা আদক, ডাঃ তমোনাশ চৌধুরীর নেতৃত্বে অভয়ামঞ্চ-এর
প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হাওড়া আমতার বুকে ছড়িয়ে আগামীর আন্দোলন গড়ে তুলতে সচেষ্ট হতে আবেদন করে সভা শেষ হয়।










