খবরটা শুনে আমার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ছিল, “অ”।
অবাক হলে বা দারুণ কিছু হয়েছে দেখলে আমরা অনেকসময় বলি, “ও!” অথবা আরও লম্বা করে “ওওও…!”
যা হবার, তাই হয়েছে দেখলে, অথবা তাচ্ছিল্যাভিপ্রায়ে উচ্চারণটা বদলে হয়ে যায় “অ!”
অগণিত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদানে গড়ে ওঠা একটা আন্দোলনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ধান্ধাবাজ নিজ নিজ স্বার্থে সমান্তরালভাবে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করলে এটাই হয়। একজন সফলভাবে আখের গুছিয়ে নেয় আর বাকিরা আঙুল চোষে। মাঝখান থেকে আন্দোলনটার অপমৃত্যু হয়, মৃত মেয়েটি বিচার পায় না এবং বেঁচে থাকা মেয়েদের জন্য কোনো নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি জন্ম নেয় না। সবাই যদি এঁদো ডোবার জেলে হয়ে যায়, ঘোলা জলে মাছ শিকারের প্রতিযোগিতাই যদি হয় জীবনের লক্ষ্য, তাহলে কেউ মাছ পাবে, কেউ পাবে না, কিন্তু জলটা পঙ্কিল অপেয় হয়ে উঠবে, এটুকুই নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
অভয়ার মা বিজেপির প্রার্থী হওয়ায় আমি অবাক হইনি, স্তম্ভিত হইনি, বিরাট বিচলিতও হইনি। একটা দল ক্ষীর খেয়েছে, কিন্তু ক্ষীরের লোভ ছিল অনেকের মনেই (সকলের নয় একেবারেই, সেটাই সান্ত্বনা)। এই সত্যিটা জেনেও না জানার ভান করার কোনো কম্পালশন আমার নেই। আর আজ যা ঘটেছে, তা হবার সম্ভাবনা যে বহু আগে থেকেই দেখা যাচ্ছিল, সেটাও অস্বীকার করার প্রয়োজন দেখি না। এই সত্যিটা বলার জন্য যদি আমার ফেসবুকীয় প্রগতিশীল বন্ধুরা আমাকে সমবেতভাবে ফেসবুকীয় তালাক দেন, তাহলে আমার কিচ্ছু যায়-আসে না। শঠ বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। ফেসবুক থেকে আয় করি না, আন্দোলন থেকেও না। নেতা নই এবং হবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছাও নেই। ছোটবেলা থেকে মা বলে রেখেছে, “বাবা মন্ত্রী হবি না। মন্ত্রী হলে বাড়ি থেকে বের করে দেবো।”
২০২৪-এর অগাস্ট থেকে চেম্বার বন্ধ করে, হাসপাতালের আউটডোর প্রায়শই বন্ধ রেখে, শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস চালু রেখে, রোজগারে গুলি মেরে, রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে, একেকদিন একাধিক মিছিল মিলিয়ে ১৭ কিলোমিটার অব্দি হেঁটে, মাসের পর মাস একটা আন্দোলন নিয়ে কাটিয়েছি, যেখানে আমি নেতা ছিলাম না, অদৃশ্য পদাতিক সৈন্য মাত্র। কয়েক মাস পথে পথে ঘুরে, চিৎকার করে শূন্য হাতে ফিরিনি। অপ্রাপ্তি আছে, অভয়ার বিচার হয়নি, ক্রিমিনাল এবং নালির ক্রিমিরা দিব্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু অজস্র সাধারণ মানুষ কোনো ব্যক্তিগত লোভ ছাড়াই রাস্তায় নেমে একটা জোচ্চোর, অত্যাচারী, মিথ্যাচারী মহাসিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একত্রে লড়েছিলেন, এটা বড় কম প্রাপ্তি নয়। দলদাসদের সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করার সাহস আমাকে তাঁরাই দিয়েছেন।










