২০১৪ থেকে ২০২০ র মধ্যে তিনটি গণধর্ষণ মামলায় উত্তরপ্রদেশ শিরোনামে আসে।
বাদাউন জেলার কাটরায় দুই কিশোরীর গণধর্ষণ ও হত্যা, ২০১৭ তে উন্নাও এ বিজেপি বিধায়ক ও তার সহযোগীদের দ্বারা এক কিশোরীর গণধর্ষণ, এবং ২০২০ হাথরসে কিশোরীর গণধর্ষণ এবং হত্যা। তিনটি ক্ষেত্রেই ধর্ষণের শিকার দরিদ্র দলিত পরিবারের মেয়ে। হাথরসের ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় এবং জনমতের চাপে মাত্র একজন অপরাধীর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। পক্সো(POCSO) কোর্টে কাটরার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, ঠিক ভাবে শুনানী শুরুই হয়নি। হাথরস ও কাটরার ধর্ষিতা নিহত কিশোরীদের পরিবার এবং কিছু গণসংগঠন যথাযথ বিচারের আশায় এখনও লড়ে যাচ্ছেন।
ধর্ষক সেঙ্গারকে রক্ষা করতে প্রশাসনের মদত ও নিষ্ক্রিয়তায় গোটা পরিবারটাকে শেষ করে দেওয়ার নিখুঁত ষড়যন্ত্র চলেছে- পরিবারকে হেনস্থা, বাবাকে অস্ত্র আইনে গ্রেফতার ও পিটিয়ে মেরে ফেলা, মিথ্যা অভিযোগে কাকার গ্রেফতার,’পথ দুর্ঘটনায়’ কাকিমার মৃত্যু! ২৬ শে ডিসেম্বর ২০২৫ এ বিচার ব্যবস্থার একাংশের সঙ্গে শাসকের যোগসাজসের মধ্যে দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তির আদেশ হয়ে গিয়েছিল এই ঘৃণ্য অপরাধীর। দিল্লী সহ সারা দেশজুড়ে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ ধিক্কার, বিক্ষোভে মুক্তির আদেশ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে আদালত।
সংবাদমাধ্যম মারফৎ জানা গেছে যে দুই বিচারপতি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্থগিত করলেন তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকার এবং হিন্দু মৌলবাদী গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ । একজন গুজরাট গণহত্যা মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবী এবং রাম মন্দির মামলায় মন্দির নির্মাণের পক্ষে সওয়ালকারী হিসাবে কাজ করেন। অন্যজন মুসলিমদের বাড়িঘরের উপর বুলডোজার চালিয়ে ভাঙচুরের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া আবেদন খারিজ করে দেন। সদ্গুরু জগদীশ বাসুদেবের ইশা ফাউন্ডেশন এর জালিয়াতির বিরুদ্ধে করা পোস্ট সামাজিক মাধ্যম থেকে সরানোর নির্দেশ দেন। উমর খালিদ আর শারজিল ইমামের জামিন নাকচ করেছেন এই দুই বিচারপতি।
সাক্ষী মালিক, ভিনেশ ফোগত, বজরং পুনিয়াদের মনে আছে তো ? ২০২৫ এর মে মাসে দিল্লির রাস্তা থেকে অলিম্পিকে কুস্তির পদকজয়ী সোনার মেয়েদের টেনে হিঁচড়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়েছিল । প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক, ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন প্রধান ধর্ষক ব্রিজমোহন সিং এর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছিলেন মহিলা কুস্তিগিররা। কোন শাস্তি হয়নি।
২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাট দাঙ্গার সময় গেরুয়া বাহিনী অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ করেছিল। তাঁর তিন বছরের মেয়েকে আছড়ে মেরেছিল মায়ের চোখের সামনে। ‘খুন’ হয়েছিলেন বিলকিসের পরিবারের মোট আট জন। ২০২২ ১৫ অগস্ট গুজরাত জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন সেই ১১ জন, যাঁরা ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ করেছিল। তাঁর তিন বছরের মেয়েকে আছড়ে মেরেছিল মায়ের চোখের সামনে। ‘খুন’ হয়েছিলেন বিলকিসের পরিবারের মোট আট জন। জেলের গেটে মালা নিয়ে হাজির ছিলেন বিজেপি সমর্থকরা, ধর্ষকদের মালা পরিয়ে বিপুল সম্বর্ধনার আয়োজন! বিলকিস বানোর আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট ১১ আসামির মুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল করে এবং তাদের দুই সপ্তাহের মধ্যে কারাগারে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০১৮ তে জম্মু কাশ্মীরের কাঠুয়াতে ৮ বছরের আসিফা বানু ধর্ষিত, নিহত । হীরানগর তহশিল থেকে বাকারওয়ালা যাযাবর মুসলিম সম্প্রদায়কে বিতাড়িত করাই ধর্ষণের কারণ হিসাবে দাবি করা হয়েছে! ধর্ষকদের সমর্থনে বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে পথে নামেন।
আশারাম বাপু, গুরমিত রাম রহিম সিং এঁরা সকলেই মহান ভারতের শাসক দলের ছাতার নিচে আছেন, যে দল এবার ‘সুনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। দলের এক বিরাট অংশের বিরুদ্ধে ধর্ষণ আর দুর্নীতির অভিযোগ। সেই দল বাংলা দখলের কথা ভাবছে।
খুব অন্যায় নয় ভাবা। বঙ্গের ভাণ্ডারে বিবিধ রতন! সুজেট জর্ডন থেকে শুরু করে কামদুনি, হাসখালি, জয়নগর, জয়গাঁও, আর জি কর – ছোট তালুকের আইনশৃঙ্খলা আর নারী নিরাপত্তার পরিস্থিতি বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলির মতই। তাই আর পৃথকান্ন কেন? সাঁজোয়া গাড়ি টাড়ি চলে এসেছে বড় তালুক থেকে। ৩৩ লক্ষ লোকের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে শুরু হয়ে গেছে গণতন্ত্রের বৃহত্তম উৎসব!
দারুণ যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে। তুরুপের তাস নারী সুরক্ষা! সবাই অবলাবান্ধব। গোরক্ষকরা অবলা রক্ষায় ব্যস্ত এখন। ছোট তালুকের মাথারা রাত বিরেতে এদিক ওদিক বন্ধ করে মেয়েদের ঘরে পুরে ফেলতে পারলেই রাতের সাথী প্রকল্প চালু করে দেবে। বড় তালুকের দাদারা আবার খুব হিজাব বিরোধী। সব মেয়েদের সনাতনী প্রথায় গৌরীদান করে ঘোমটায় মুড়ে ফেলবে। অপারেশন সিন্দুর 2 । সূঁচ আর চালুনির যুদ্ধ । কে যে কোনটা বলা খুব শক্ত।
এইসব সূঁচ আর চালুনিদের ছুঁড়ে ফেলে নতুন ভোর আনার অঙ্গীকার সব অভয়াদের কাছে । সামাজিক, অর্থনৈতিক আর লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে।
এই লড়াই তোমার আমার, জয় হোক তিলোত্তমার।










