২২শে এপ্রিল। আজকের দিনে মাত্র ঘণ্টা খানেক আগে বিকেল থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ হয়েছে।
কর্ণেল ডলাস স্মিথ, ক্যাপ্টেন টেট এবং চট্টগ্রাম ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (পুলিশ বিভাগের) মি. ফারমারের নেতৃত্বে সুর্মাভ্যালি লাইট হর্স ও ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল এর বাহিনীর লাইট মেশিনগানের সথে অস্ত্রাগার লুট করা মাস্কেট নিয়ে লড়ে গেছে মাস্টারদা” সূর্য সেন এর নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির দামাল ছেলেদের দল।
সুধী পাঠক,আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে সারা পৃথিবীর লোক আজকের দিনে দেখে নিয়েছিল যে ইংরেজ শাসকের বদনাম দেওয়া তথাকথিত “নন মার্শাল রেস” “পেট রোগা” বাঙালি শুধু কবিতা লিখতে জানে না, বন্দুকও ধরতে জানে। সারা পৃথিবী দেখবে “বাঙালির বাচ্চার” রক্তের তেজ। জালালাবাদ পাহাড়ের মাটি যাদের রক্তে ভিজে সেদিন লাল হয়ে গিয়েছিল তাঁরা হলেন হরিগোপাল বল অন্য নাম টেগরা, প্রভাস বল, নরেশ রায়, ত্রিপুরা সেন, বিধু ভট্টাচার্য, মতি কানুনগো, অশোক দত্ত, নির্মল লালা, জিতেন দাশগুপ্ত, মধুসূদন দত্ত, পুলিন চন্দ্র ঘোষ ও অর্ধেন্দু দস্তিদার। পাহাড় ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে পরম মমতায় মাস্টারদা আর তার চিফ কমান্ডার লোকনাথ বল যখন পরম মমতায় ওই নিথর দেহগুলির ওপর হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন তখন চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। রাত নামছে। পরের দিন আবার নতুন করে নতুন লড়াই দেশের স্বাধীনতার জন্য।
সুধী পাঠক, দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু আজও তৈরি হয় নি বেঙ্গল রেজিমেন্ট। স্বাধীন দেশের কর্ণধাররাও বোধহয় ব্রিটিশদের মতো অস্বস্তি বোধ করেন বাঙালিদের নিয়ে, তাদের রক্তের তেজ নিয়ে। ভোটের বাজারে এই শহীদদের স্মরণ করার বিশেষ কোনো আয়োজন চোখে পড়ল না। কোনো নেতা তার আজকের দিনের ভাষণে এই যুদ্ধের কথা স্মরণ করেছেন বলে তো শুনলাম না। নেতাদের কথা বাদ দিন সুধী পাঠক। আসুন, আমরা অন্তত স্মরণ করি।
“শহীদ স্মরণে আপন মরণে রক্ত ঋণ শোধ কর”











