নাগরিক বিবৃতি
হিংসা বন্ধ হোক
ভোটের দু’দিন বা তার আগে কোনও লোকক্ষয় না হলেও ৪ মে বাংলায় ফলপ্রকাশের পরের মাত্র তিন দিনে রাজনৈতিক হিংসায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। নব্য শাসক এবং বিদায়ী শাসকদল, দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ওর সমর্থক সন্দেহে সাধারণ মানুষকে আক্রমণের নিশানা করা হচ্ছে। মারধর, বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বিদ্বেষবর্ষণ, দফতর দখলের ধারাবাহিক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করতে শাসক, বিরোধী নির্বিশেষে সব দলকে পদক্ষেপ করতে হবে, কর্মী-সমর্থকদের সংযত করতে হবে—এই দাবি জানাচ্ছি আমরা। বহু ক্ষেত্রে পুলিশের উপস্থিতিতে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাগরিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।
সেই সঙ্গে যে কোনও দলের সমর্থক নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকেও শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। কোনও প্ররোচনায় উত্তেজিত হয়ে হিংসায় জড়িয়ে পড়া শেষ বিচারে নিজেদেরই আরও বিপর্যস্ত করে। মানুষের প্রাণ যায়, এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিরঅবসান চাইছি আমরা।
৬ মে মধ্যমগ্রামে নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা এনকাউন্টারের যুদ্ধনাদ, প্রতিহিংসার উন্মত্ততাকে প্রশ্রয় না দিয়ে যে বার্তা দিয়েছেন তা ক্রোধের বিস্ফোরণের বিপরীতে সংবেদনশীলতার অনন্য নজির তৈরি করেছে। হাসি রথ বলেছেন—‘আমি মা, সন্তান হারিয়েছি। তা বলে আরও কোনও মা সন্তানহারা হোন, তা চাই না। ফাঁসি নয়, দোষীদের যাবজ্জীবন সাজা হোক।’ আমরাও চাই প্রতিহিংসা নয়, প্রতিটি দুষ্কর্মে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হোক। নির্বিচার ধরপাকড়, নিরীহদের হেনস্থা না করে আসল অপরাধীদের ধরা হোক।
এরই মধ্যে যে ভাবে কোথাও কোথাও বুলডোজার নিয়ে তথাকথিত ‘বিজয় মিছিল’ বার করা হচ্ছে তা সমাজমনে গভীর আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে। কলকাতার হগ মার্কেটে বুলডোজার নিয়ে মিছিল করে খেটে খাওয়া মানুষের রুটিরুজির সংস্থান যে দোকান, সে-সব ভাঙা হয়েছে। জিয়াগঞ্জে লেনিনের মূর্তি ভাঙা হয়েছে, যাদবপুরে বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে। এই রকম কোনও ঘটনাই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় নয়। ২০২১-এর ভোট-পরবর্তী হিংসা বা ২০১৮ ও ২০২৩-এর পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে হিংসাত্মক ঘটনার বীভৎসতা আমরা ভুলিনি। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নাগরিকরা নিশ্চয়ই এমন পরিস্থিতি চান না।
ভোটের আগে ‘সার’-এর নামে বিপুল ভোটারের নাম অবলুপ্ত করা বা গোটা ভোট-পর্ব জুড়ে সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে বিপুল সংখ্যক আধাসেনার টহলও সুস্থ ব্যবস্থাপনার লক্ষণ ছিল না।
আমরা ভয়, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা-মুক্ত, মতপ্রকাশের স্বাধীন ও সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশে জীবনধারণ করতে চাই। সরকার ও সব দলকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
পবিত্র সরকার (প্রাক্তন উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, লেখক)। অভ্র ঘোষ (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, লেখক)। মীরাতুন নাহার (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, সমাজকর্মী)। বোলান গঙ্গোপাধ্যায় (সমাজকর্মী)। সুজাত ভদ্র (মানবাধিকারকর্মী)। শাশ্বতী ঘোষ (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, নারী অধিকারকর্মী)। কৌশিক সেন (নাট্য-পরিচালক, অভিনেতা)। নীলমণি ধর (সমাজকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক)। পুণ্যব্রত গুণ (চিকিৎসক)। আশিস কুণ্ডু (চিকিৎসক)। রুমেলিকা কুমার (চিকিৎসক)। শুভেন্দু দাশগুপ্ত (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক)। সনৎ কর (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, মানবাধিকারকর্মী, মুর্শিদাবাদ)। দিলীপ মজুমদার (গবেষক, লেখক)। কৃষ্ণাংশু মিশ্র (অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক)। অমিতদ্যুতি কুমার (মানবাধিকারকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, হুগলি)। ধীরাজ সেনগুপ্ত (মানবাধিকারকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক)। মইদুল ইসলাম (অধ্যাপক)। রজত দে (অধ্যাপক, আইএসআই)। ঋত্বিকা বিশ্বাস (অধ্যাপক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)। নব দত্ত (সমাজকর্মী)। অচিন্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায় (আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট)। রঘুনাথ চক্রবর্তী (আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট)। কৌশিক গুপ্ত (আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট)। শামিম আহমেদ (আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট)। সুপ্রতীক শ্যামল (আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট)। মেহবুব আহমেদ (আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট)। অমৃতা দে (আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট)। সেঁজুতি চক্রবর্তী (আইনজীবী)। সৈকত ঠাকুরতা (আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট)। মিলন দত্ত (সাংবাদিক)। মাধবলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক)। মদনমোহন হালদার (মানবাধিকারকর্মী)। মিলন মালাকার (মানবাধিকারকর্মী, পত্রিকা সম্পাদক, মুর্শিদাবাদ)। পার্থসারথি চৌধুরী (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, মানবাধিকারকর্মী, জলপাইগুড়ি)। অভিরঞ্জন ভাদুড়ী (মানবাধিকারকর্মী, শিলিগুড়ি)। জাতীশ্বর ভারতী (মানবাধিকারকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, জলপাইগুড়ি)। নারায়ণ দাস ভৌমিক (অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক, মানবাধিকারকর্মী, তমলুক) অভিজিৎ সেন (সাংবাদিক)। রাহুল রায় (সাংবাদিক)। সন্তোষ সেন ( শিক্ষক, বিজ্ঞানকর্মী)। জিতেন নন্দী (সমাজকর্মী)। সোমশঙ্কর রায় (চিত্রশিল্পী, শিক্ষক)। জয়রাজ ভট্টাচার্য (নাট্যকর্মী)। রামতনু দত্ত (কবি, সমাজকর্মী)। সুরঞ্জন প্রামাণিক (লেখক, মানবাধিকারকর্মী)। কুশল দেবনাথ (সমাজকর্মী)। আলপনা দত্ত (সমাজকর্মী)। গৌতম সরকার (সাংবাদিক)। গৌতম বসুমল্লিক (গবেষক, লেখক)। অসীম গিরি (সঙ্গীতশিল্পী)। স্বপ্না দত্ত (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা)। মহাশ্বেতা সমাজদার (সমাজকর্মী)। সুব্রত চৌধুরী (মানবাধিকারকর্মী, কাটোয়া)। সুমনকল্যাণ মৌলিক (মানবাধিকারকর্মী, আসানসোল)। রাজীব গোয়েঙ্কা (মানবাধিকারকর্মী, ঝাড়গ্রাম)। গোপাল ভট্টাচার্য (প্রাক্তন রাজনৈতিক কর্মী)। বাসুদেব বসু (সমাজকর্মী)। বাসুদেব ঘটক (সমাজকর্মী)। মানস দাস (মানবাধিকারকর্মী, বারাসত)। বাপ্পা ভুঁইয়া (মানবাধিকারকর্মী, বারাসত)। দেবাশিস চৌধুরী (সমাজকর্মী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা)। সোমনাথ গুহ (সমাজকর্মী)। পরমেশ গুহ (মানবাধিকারকর্মী)। ভাস্কর সেন (মানবাধিকারকর্মী)। রাজা সরখেল (মানবাধিকারকর্মী)। জগৎপ্রসাদ চক্রবর্তী (মানবাধিকারকর্মী)। রবীন দাস (সমাজকর্মী)। সুদীপ মৈত্র (সাংবাদিক)। অনিমেষ মজুমদার (মানবাধিকারকর্মী)। শুভজিৎ সিংহ (মানবাধিকারকর্মী)। প্রতীপ নাগ (মানবাধিকারকর্মী)। পার্থ ব্যানার্জি (মানবাধিকারকর্মী)।
গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর) সরাসরি সদস্য সমন্বয়-এর তরফে আহ্বায়ক অপূর্ব রায় কর্তৃক প্রকাশিত। ৮ মে ২০২৬










