৭ মে, ২০২৬
কাল রাতের জঘন্য নিন্দনীয় মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি যেহেতু আমার কাজের এলাকার মধ্যে ঘটেছে সেজন্য মাঝরাত অবধি অনেক ফোনালাপ করতে হয়েছে। এই সব করতে করতে বছর খানেক আগের এক রাতের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। সেদিনও আই মিন সেই রাতেও ফোনালাপ করতে হয়েছিল। সেদিনও আমাদের এক গ্রামীণ হাসপাতালে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয় সন্ধ্যার সময়। কর্তব্যরত লেডি মেডিক্যাল অফিসার তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। আমাদের পরিভাষায় ব্রট ডেড। ওই লেডি এমও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর অনুযায়ী ওই মৃতদেহটি মেডিকো লিগ্যাল অটোপোসি বা পোস্ট মর্টেম এক্সামিনেশন এর জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজে রেফার করেন।
এরপরেই শুরু হয় গণ্ডগোল। বাড়ির লোক কাটাছেঁড়া করতে রাজি নয়। তাদের বুঝিয়ে বলার পরেও তারা বেঁকে বসে। এই বার আসরে নামেন শাসক দলের স্থানীয় নেতারা। তারা ওই চিকিৎসকের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকে যাতে পিএম না করেই বডি ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই চিকিৎসক মেয়েটি ভয় পেয়ে আমাকে ফোন করে। আমি স্থানীয় থানার সঙ্গে ফোনে কথা বলে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করি। পরিস্থিতির উন্নতির বদলে অবনতি হতে থাকে কারণ ততক্ষণে স্থানীয় বিধায়ক ও শাসক দলের দাপুটে নেতা হাজির হয়ে যায়। সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে ওই চিকিৎসকের ওপর চাপ বাড়ায় বডি ছেড়ে দেওয়ায় জন্য, স্থানীয় পুলিশ নীরব দর্শক। ওই লেডি এম ও কাঁদতে কাঁদতে ফোনে আমায় এসব জানায়।
আমি এবার জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশদের জানাই। তারপর তাদের নির্দেশ পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ সক্রিয় হতে ওঠে, জমায়েত হটিয়ে দেয়, বিধায়কের আপত্তি অগ্রাহ্য করে আইন মাফিক বডি পি এম-এর জন্য বারাসাতে পাঠায়। গোটা ঘটনাটা বলার কারণ একটাই। শুধু এই ঘটনা নয়, বহু ঘটনায় দেখেছি যে আমাদের পুলিশ বাহিনীতে নিচু তলায় বহু দক্ষ পুলিশ কর্মী আছেন। তাদের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করলে তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় চমৎকার কাজ করতে পারেন। পুলিশের উঁচু তলায় দক্ষ তো বটেই এমনকি সাহসী বিবেকবান অফিসারও কিছু আছেন। তাদের ঠিকমতো কাজ করতে দিলে তারা মিরাকল দেখাতে পারেন। বাংলায় আইনের শাসন ফিরে আসুক। গতরাতের হত্যাকারী ধরা পড়বে বলেই আমার বিশ্বাস। রাজনীতির বলি হয়ে কোনো মায়ের কোল যেন আর খালি না হয়।
পু: বিগত চার তারিখে ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর রাতে সেই লেডি এমও ফোন করেছিল। কী অবাক কান্ড, সেই রাতেও মেয়েটি কাঁদছিল !










