UK বা গ্রেট ব্রিটেন, যে দেশটাকে সংসদীয় গণতন্ত্রের পীঠস্থান হিসেবে ধরা হয় সেই দেশে শ্যাডো ক্যাবিনেট বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন বলে একটা প্রথা আছে। যারা বিরোধী পক্ষে থাকেন সেই সব সাংসদ বা বিধায়কদের মধ্যে থেকে তাদের পার্লামেন্টারি পার্টি ওই মন্ত্রিসভা গঠন করে। ওই শ্যাডো ক্যাবিনেট এর সদস্য, ধরা যাক ছায়া স্বাস্থ্য মন্ত্রী তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করার জন্য তার বিষয়টা অর্থাৎ স্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনা করেন, সংসদ বা বিধানসভার অন্দরে স্বাস্থ্য বিষয়ে বিতর্কে অংশ নেন, প্রশ্ন তোলেন, বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি যেমন সাব্জেক্ট কমিটি, পিটিশন কমিটি ইত্যাদির সদস্য হন, এমন কি সাংসদ হিসেবে নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এই ভাবে উনি নিজেকে প্রস্তুত করেন যাতে করে পরবর্তী নির্বাচনে তার দল জিতে ক্ষমতায় আসলে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব টা সঠিক ভাবে পালন করতে পারেন। কারণ এটা দেখা গেছে যে কোনো দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর যদি ডোমেইন নলেজ বা বিষয়গত জ্ঞানবুদ্ধি না থাকে তাহলে তাকে আমলা নির্ভর প্রশাসন চালাতে হয় যার ফলে তিনি না পারেন জনগণের উপকার করতে, না পারেন নিজের পার্টির পলিসি ইমপ্লিমেন্ট করতে।
দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে এসবের চল নেই। তাই এমনটা হামেশাই হয় যে ডোমেইন নলেজ জিরো এমন কেউ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আসনে গিয়ে বসেন। এই পরিস্থিতিতে মন্দ-এর ভালো অপশন হল একজন চিকিৎসককে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদে বসানো। তিনি অনভিজ্ঞতার জন্য প্রশাসনিক কাজকর্মের খুঁটিনাটি না জানলেও চিকিৎসা শাস্ত্র সর্ম্পকে জ্ঞানী হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশাসন চালানোর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে পুরোপুরি আমলা নির্ভর থাকবেন না।
বিগত সরকারের আমলে আমরা কোনো চিকিৎসক বিশেষজ্ঞকে স্বাস্থ্য দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে পাইনি যদিও শাসক দলে অনেক চিকিৎসক বিধায়ক ছিলেন। যে দল নতুন সরকার তথা নতুন মন্ত্রিসভা গড়তে চলেছেন সেই দলে অনেক চিকিৎসক বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। আমরা সাগ্রহে অপেক্ষা করে আছি যে তাদের মধ্যে কাউকে স্বাস্থ্য দপ্তরের মন্ত্রিত্ব-এর ভার দেওয়া হয় কিনা নাকি বিগত সরকারের সেই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত-এর পুনরাবৃত্তি করে চিকিৎসক নন এমন কাউকে ভার দেওয়া হল।
বিগত বিধানসভার বিরোধী দল বিপুল জনাদেশ পেয়ে এবার সরকার গড়তে চলেছেন। বাংলার সাধারণ মানুষের অনেক প্রত্যাশা তাদের কাছে। আশা রাখি তারা বিগত সরকারি দলের মতো গঠনমূলক সমালোচনা বা সৎ পরামর্শকে উদ্ধত ভাবে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন না। দিলে আবার সেই ইতিহাস তার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।











