একদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে – প্রচন্ড গরমে, খোলা আকাশের নিচে বসে আছে দেশের লক্ষ লক্ষ বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের কণ্ঠস্বর হয়ে শত শত ছাত্রছাত্রী। যাঁদের জীবন যৌবন আজ বিপন্ন শুধু একটার পর একটা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে! দেশের ছাত্র সমাজের দাবি একটাই, অযোগ্য শিক্ষা মন্ত্রীর ইস্তফা। সোনম ওয়াংচুক তাঁদের সমর্থনেই অনশন প্রতিবাদে টানা ১৯ দিন, মরণাপন্ন তিনি, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে তাঁর শারীরিক অবস্থার জন্য উদ্বিগ্নতা এবং এই সরকারের নির্লজ্জতা ও নৃশংস সন্ত্রাসমূলক আচরণের অবসানে জনরোষ। সঙ্গে রয়েছে লাদাখের ছাত্র-যুবরা। তাদের দাবিও খুব বেশি কিছু নয়, সংবিধান বাঁচানোর দাবি, পূর্ণ রাজ্যের দাবি।।
অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশে – জঙ্গল, জমি, জীবন বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছে আদিবাসী ভাই-বোনেরা। চিতা প্রকল্পের নামে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। যারা জঙ্গলের আসল রক্ষক, আজ তারাই নিজের ভিটেতে পরবাসী।
আর মণিপুর? সে তো গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতি হিংসার আগুনে পুড়ছে। ঘর পুড়ছে, স্বপ্ন পুড়ছে, মা-বোনের ইজ্জত লুট হচ্ছে। কত প্রাণ গেল, তার হিসেব কে রাখে?
আর আমাদের সরকার? সমস্ত নথি থাকা সত্বেও সারা দেশে কোটি কোটি ভারতীয় ভোট দিতে না পেরে বঞ্চিত, সরকার তাদের বলছে না তারা নাগরিক নয়, কারুর নাগরিকত্ব বাতিল করে নি, কিন্তু সমস্ত সুবিধা থেকে তাদের নাম কেটে দিচ্ছে।মোদির ভক্তরা নীরব দর্শক।
সংবিধানের চতুর্থ স্তম্ভ বলে যাদের জানতাম, সেই ন্যাশনাল মিডিয়া? তাদের মুখে তালা মারা। তারাও মোদির কীর্তন করছে, এসব খবর নেই তাদের চ্যানেলে।
সবচেয়ে লজ্জার বিষয় ?
আজ ভারতের মানুষের আর্তনাদ, ভারতের মাটিতে শোনা যায় না, তা শোনা যায় বিদেশের মাটিতে। লন্ডনে, নিউইয়র্কে, বার্লিনে প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে, অথচ দিল্লি নিশ্চুপ। ইউরোপিয়ান টাইমস লিখছে, বিশ্বের সব থেকে বেশি স্টুপিড ইন্ডিয়ান যাঁরা করাপ্ট পলিটিশিয়ানদের সমর্থন করে তাদেরকেই ক্ষমতায় আনতে সমর্থন চালায় নিজেদের মধ্যে।
প্রশ্ন একটাই –
যে দেশে ছাত্রকে অনশন করতে হয় শিক্ষার জন্য, আদিবাসীকে লড়তে হয় জঙ্গলের জন্য, আর নাগরিককে কাঁদতে হয় শুধু বেঁচে থাকার জন্য – আমরা কি সেই দেশ চাই?
তবুও কিছু মানুষ ভজনা করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যাঁর শাসনকালে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেকারি, সর্বোচ্চ টাকার দামে পতন, সর্বোচ্চ অসাম্য, সর্বোচ্চ শিক্ষা দুর্নীতি, সর্বোচ্চ আর্থিক দুর্নীতি, সর্বোচ্চ ঋণ খেলাপি, সর্বোচ্চ ধর্ষণ, সর্বোচ্চ ধর্ষকের গলায় মালা দিয়ে সম্মাননা,এবং সিবিআই ইডিকে সর্বোচ্চ দলীয় কাজে ব্যবহার করে বিরোধী দলের এম পি / এম এল এ কেনাবেচা করে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘণ্টা বাজানো,এই প্রধানমন্ত্রী নাকি ঈশ্বরের অবতার! এটা অমৃতকাল !
তারপরেও যাঁরা দেশের ধর্ম নিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দেশটাকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর কথা ভাবছে তাঁদের জন্য একটা ছোট্ট তথ্য: স্বাধীনতার পর দেশের সব থেকে বেশি হিন্দু উচ্ছেদ হয়েছে, সব থেকে বেশি হিন্দু ছাঁটাই হয়েছে, সব থেকে বেশি হিন্দু সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তার ভিখারি হয়েছে, এই হিন্দুত্বের পতাকাধারী সরকার সব থেকে বেশি হিন্দুকে দেশ থেকে তাড়ানোর জন্য ট্রানজিট ক্যাম্পে আটকে রেখেছে বিনা কোনো প্রমাণে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে (১৮ লক্ষ) আর কয়েক কোটি হিন্দুর নাম বাদ দিয়েছে SIR থেকে, আরও বাড়বে।
জয় রাম, এই তোমার হিন্দু রাষ্ট্র
যেখানে খোদ হিন্দুরাই ‘খতরে’
,যে দেশে খোদ রাম মন্দিরে প্রণামি লুট হয়ে যায়!
বদ্রীনাথ আর কোন কোন মন্দিরে চলছে লুট,সে কথা শুধু হয়ত বিশ্বগুরুই জানতে পারেন না। তিনি এটাও জানতে চান না কেন তাঁর মন্ত্রী এক লক্ষ সরকারি পদ শূন্য রেখেছেন, কাউকে চাকরি দিতে পারেন না, দেশ থেকে রেকর্ড পরিমাণ ২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকার বিদেশি লগ্নি ফেরত চলে যাওয়া আটকাতে পারেন না, দেশের শিল্পপতিরাও কেন নিজের দেশে না করে বিদেশে লগ্নি করছে, কেন ইসরো তে শতাধিক বিজ্ঞানী ক্ষেপে গিয়ে গণ ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়, কেন গত চার বছরে পরপর ২৬ টা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়, তিনি কিছুই জানতে পারেন না। কারণ তিনি এসব জানতে চান না। কী হবে জেনে? তবুও তিনি ভক্তদের চোখে অবতার! খোদ ভগবানের প্রতিনিধি!












সুন্দর, সৎ লেখা। এখনো অব্দি সরকারের নীরব হওয়ার চাপ নেবার resilience and power আছে। কারণ বিরোধী স্বর বহুধাবিভক্ত। কিন্তু ১৯৭৭ ফিরে আসা সম্ভব, যখন টুকরো কণ্ঠগুলো মিশে যাবে।