
প্রশ্ন – সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এই সংযোগ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তা বুন্দেলখণ্ডের জল সংকটের সম্পূর্ণ সমাধানে সমর্থ হবে ? এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
বুন্দেলখণ্ডের জল পরিস্থিতির কথা জানিয়ে পান্না জেলার এক ভূতপূর্ব ক্যালেক্টার প্ল্যানিং কমিশন ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যসচিবের কাছে চিঠি লিখেছিলেন । সেই চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন যে কেন নদীতে বাড়তি জল আছে – এই ধারণা একদম বাস্তবোচিত নয়, ভুল। তিনি আরও জানান যে ১৯৮৩ সালে কেন বহুমুখী নদী পরিকল্পনা রূপায়নের পর এই নদীতে অতিরিক্ত জল নেই যা বুন্দেলখণ্ডে খাল মারফত পাঠানো যায়। নিজের এলাকার প্রয়োজন মিটিয়ে যতটুকু বাড়তি জল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছিল তা পান্না ও ছাত্তারপুরসহ কেন অববাহিকার অন্যান্য অংশের সেচ ও পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে কাজে লাগছে।
আজ চার দশকেরও বেশি সময় পর অবস্থা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখনকার পরিস্থিতি আগের তুলনায় একদম বিপরীত। এই সংযোগ প্রকল্পের কথা যখন ভাবা হয়েছিল তখন সম্ভাব্য পরিষেবা এলাকার মধ্যে পান্না জেলার নাম ছিলোনা। পরে যখন এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠলো নানান মহল থেকে যে এই সংযোগ প্রকল্প রূপায়িত হলে পান্না জেলার মানুষের কী উপকার হবে? তখন ধূমায়িত অসন্তোষকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় একরকম তড়িঘড়ি করেই পান্না জেলার নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হলো প্রকল্পের খসড়ায়।
দাউধন ব্যারেজের জল খালপথে মধ্যপ্রদেশ থেকে বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে পাঠানোর যে উদ্যোগের কথা এতো ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে তা ইতোমধ্যেই সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এখন কেন নদীতে বাড়তি জল কোথায়? আমি বিশ্বাস করি, বুন্দেলখণ্ডের জল পরিপূর্ণভাবে ওই অঞ্চলের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা উচিত। ওই অঞ্চলে সেচের ঘাটতি রয়েছে। এখনকার প্রকল্প পরিকল্পনায় বলা হয়েছে যে এই জল এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমার প্রশ্ন – এরফলে বুন্দেলখণ্ডের ভবিষ্যতের কি হবে? আমি মনে করি এই সংযোগ প্রকল্পের রূপায়ণ বুন্দেলখণ্ডকে চিরশুখা অঞ্চলে পরিণত করবে। সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করছে।
দ্বিতীয়ত, যদিও বলা হচ্ছে যে এইটি একটি নদী সংযোগ প্রকল্প, আসলে তা নামের আড়ালে হয়ে গেছে এক এলাকার জল অন্য এলাকায় পাচারের প্রকল্প এবং ইচ্ছে মতো নদী থেকে লিফটিং পদ্ধতিতে জল তুলে ফেলার পরিকল্পনা। এ এক অঘোষিত লুটমার। কেন অববাহিকার তুলনায় বেতোয়া অববাহিকা উচ্চতর অংশে অবস্থিত ; ফলে লিফটিং পদ্ধতিতে জল তুলে খালে ফেলতে হবে।এটা ব্যয়সাপেক্ষ। আগামীদিনে এই পদ্ধতির সফলতা কতদূর হবে তা বলা বেশ মুশকিল। আমাদের দুর্ভাগ্য যে দেশের পরিকল্পকরা এতো গভীরভাবে গোটা বিষয়টি নিয়ে ভাবেননা বা বোধহয় বলা ভালো তাঁদের ভাবতে দেওয়া হয় না। এই সমস্ত কৃতকর্মের জন্য খেসারত দিতে হয় একদম মাটির কাছাকাছি থাকা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের। আজ তাই তারা প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। 
হিমাংশু ঠাক্কর – এটি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এসব নিয়ে ভাবলেও যাঁরা এমন ব্যয়বহুল একটা প্রকল্প অনুমোদন করেছেন তাঁরা এসবের কথা ভেবেছেন বলে মনে হয় না। বাঁধ নির্মাণ কিছু মানুষকে তাদের থিতু জীবন থেকে উৎখাত করবে এটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তারা। কেন নদী হলো বান্দা শহরের জীবনরেখা, Life line । এখানে নদীতে সারাবছর জল পাওয়া যায়। তবে গ্রীষ্মের খরতাপে জল খানিকটা কমে গেলেও শুকিয়ে একেবারে খটখটে হয়ে যায়না, কিছুটা হলেও জল থাকে। বান্দা শহর সহ আশপাশের এলাকার লোকজন তাদের নিত্যদিনের চাহিদা মেটাতে এই জলের ওপর নির্ভর করে। নদীর ভাটি প্রবাহের অংশে থাকা অগণিত সংখ্যক গ্রামবাসী মানুষেরা সব ধরনের প্রয়োজন মেটাতে নদীর ওপর ভরসা করে বহুকাল ধরে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহগতি নিয়ন্ত্রণ করা হলে মানুষের জীবনে তার প্রভাব পড়বে খুব স্বাভাবিক ভাবেই। তথাকথিত এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টৈও এই বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। মানুষ এখন কার কাছে যাবে?
ঋণ স্বীকার: ডাউন টু আর্থ পত্রিকা
আগস্ট ৪,২০২৬











মতামতের কলাম ফাঁকা আছে দেখে এই আন্দোলন প্রসঙ্গে আরও নতুন কিছু কথা জানাই। নদী সংযোগ প্রকল্পের প্রতি এক ধরনের ঝোঁক তৈরি হচ্ছে। কোশি ও মেচি নদীর সংযোগ প্রকল্পটি রূপায়ণের জন্য সরকারের তরফ থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে এরমধ্যেই। এই দুটি নদীর উৎসস্থল দেশের বাইরে। ভূটানের সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। ভূটান এই গা জোয়ারী প্রস্তাব কতটা মেনে নেবে তা পরবর্তীতে জানা যাবে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করে কাবেরী ও গোদাবরী নদীর সংযোগের প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা কতদূর বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তা নিয়ে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। এমনিতেই আমাদের দক্ষিনাঞ্চলের নদীগুলোতে সারাবছর জল থাকেনা, তার ওপর এমন ভাগাভাগি নদীগুলোর অস্থিত্বের সংকটকে বাড়িয়ে দেবে ।
এদিকে কেন বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে প্রবল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকারের আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী লোকসভায় জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করবে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষদের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করা হবে না।
আমরা এই বিষয়ে নজর রাখবো।