এই বিশেষ গানটির এই স্তবকের কথাগুলির সঙ্গে যতখানি একাত্মবোধ করি ঠিক তেমনটি আর কোনও গানের কথার সঙ্গে করি না আজকাল।
‘এখানে পিঞ্জর’ প্রথম দেখেছিলাম তরুণী বয়সে, কলেজ ফেস্টের অনুষঙ্গে। ছবি এবং গানের গভীরতা মাপবার মন তখনও তৈরি হয়নি।
যত বয়স বেড়েছে, মনের কাছাকাছি এসেছে এই গান।
কার প্রতীক্ষা সারা জীবন? দার্শনিক মন বলে, মৃত্যুর। আধ্যাত্মিক মন বলে, পরমের সঙ্গে মিলনের।
রোম্যান্টিক মন বলে, এমন এক সঙ্গীর, যার জন্য যুগের পর যুগ অপেক্ষা করা সার্থক।
আমার কাছে এই প্রতীক্ষাই একটা গোটা জীবন। প্রভাতবেলা কিংবা জীবনসায়াহ্ন, মনের ঘরে পাকাপাকি বসত করার জন্য কেউই আসেনি, আসবেও না।
আজ আর আমার কোনও অপেক্ষা নেই। অনন্ত যাপনক্লান্তি আছে, প্রিয়বিচ্ছেদের ক্ষত আছে, সান্ত্বনাহীন মাতৃবিরহ আছে। আমাকে সযত্নে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আমার একাকিত্ব যদি না থাকত, কবেই ভেসে যেতাম দু’কূল ছাপানো দরিয়ায়। এখন শুধু রয়েছে ব্যথাহর বড়ির মতো সুমিষ্ট শূন্যতা — সাদাটে, নীরক্ত, কোলাহলহীন।
পাগলামি? হবেও বা। এমন ইনকরিজিবল পাগলদের জন্যই বোধহয় এইসব কালজয়ী পংক্তি লেখা হয় —
‘বিছড় গয়া হর সাথী দে কর পল দো পল কা সাথ –
কিসকো ফুরসত হ্যায় যো থামে দীওয়ানোঁ কা হাত’ —










