নেপালের বন্যাদুর্গত অঞ্চলগুলোর মধ্যে নুয়াকোট জেলার কিষ্পাং গাঁওপালিকা সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। গতকাল লালী গুরাস সমুহ এবং শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এই গাঁওপালিকার সহ-সভাপতি (উপাধ্যক্ষ) অর্জুন নেওপানে এবং অন্যান্য কর্মীদের কাছে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিষ্পাং গাঁওপালিকার ১ নম্বর থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত আনুমানিক ১৪৫ জন নিখোঁজ বা মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এবং প্রায় ১০০টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় ১২০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার ফলে মোট ৪৭৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৩৯ জন শিশু তাদের বাবা অথবা মায়ের মধ্যে যেকোনো একজনকে হারিয়েছে এবং প্রায় ১১ জন শিশু বাবা-মা উভয়কেই হারিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ নম্বর ওয়ার্ড, যার পর ক্রমান্বয়ে রয়েছে ১ নম্বর ওয়ার্ড, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড। কিষ্পাংয়ের একটি হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে ৪৫ জন বসবাস করছেন। কিষ্পাং থেকে কাঠমান্ডুতে এসে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরের ভাড়ার দায়িত্ব গাঁওপালিকা বহন করছে। কিষ্পাংয়ের অনেক বাস্তুচ্যুত মানুষ বর্তমানে বিদুর পৌরসভা এলাকায় বাস করছেন, যেখানে একটি হোল্ডিং সেন্টারে প্রায় ১০০ জন এবং অন্যটিতে প্রায় ৮০ জন আশ্রয় নিয়ে আছেন।
কিষ্পাং গাঁওপালিকা থেকে কিছুদিন আগে পাওয়া প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা অনুযায়ী এসব ওষুধ কেনা হয়েছে। গাঁওপালিকা তাদের নিজস্ব বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায় হয়ে গ্রাম পর্যন্ত এসব ওষুধ পৌঁছে দেবে বলে ওই সহ-সভাপতি আমাদের দলকে আশ্বস্ত করেছেন।
এ ছাড়া আমাদের দল (যার মধ্যে সমাজকর্মী, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন) বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করা সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ধাপের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কাজ নিয়ে কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছে।










