Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

শব্দে জব্দ

sound pollution
Bappaditya Roy

Bappaditya Roy

Doctor and Essayist
My Other Posts
  • September 13, 2026
  • 7:21 am
  • No Comments

বিজ্ঞান ও পরিবেশ আন্দোলন: পশ্চিমবঙ্গে সিপিআইএমের গণ সংগঠন ‘ বিজ্ঞান মঞ্চ ‘ ছাড়াও বেশ কিছু বিজ্ঞান সংগঠন উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ বিজ্ঞান বিষয়ে মাঠে ময়দানে নেমে কাজ করেন। অতীতে ‘ উৎস মানুষ ‘ পত্রিকাটিকে ঘিরেও বিজ্ঞান কর্মীরা সংগঠিত হয়েছিলেন। রাজ্যের পরিবেশ আন্দোলনও যথেষ্ট পুরোনো। পরিবেশ রক্ষা করতে গিয়ে বেশ কিছু পরিবেশ কর্মী এবং নাগরিক এই রাজ্যে শহীদ হয়েছেন। রাজ্যের বেশ কিছু পরিবেশ আন্দোলন ও সংগঠনকে সমন্বয় করতে পেরেছেন ‘ সবুজ মঞ্চ ‘।

বেশ কয়েকবছর আগে উত্তর ২৪ পরগণা এবং নদীয়ার বিজ্ঞান ও পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠকদের আহবানে কাঁচরাপাড়া – কল্যাণী সীমান্তে অবস্হিত ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের সময় প্রতিষ্ঠিত ‘ রিভার রিসার্চ ইনস্টিটিউট ‘ এ একটি বড় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫৪ টি বিজ্ঞান ও পরিবেশ সংগঠন অংশ নেন। এছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও অসম থেকেও কিছু অতিথি সংগঠন আসেন। উপস্থিত থাকেন রাজ্যের বিজ্ঞান ও পরিবেশ আন্দোলনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর আশু, মধ্যবর্তী এবং দীর্ঘস্থায়ী কর্মসূচি নির্ধারিত হয়। সেগুলি সংকলিত করে এই প্রতিবেদকের উপর ইস্তেহার বা ম্যানিফেস্টো রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংগঠক রা ছয় রকম চমৎকার পোষ্টার প্রকাশ করেন। এরপরও বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বীরভূমের পাঁচামি, জলপাইগুড়ির লাটাগুড়ি, হুগলীর ভাবদিঘী, নদীয়ার মাঝদিয়া, মুর্শিদাবাদের লালবাগ প্রভৃতি অঞ্চলে আন্দোলন শক্তিশালী হয়।

সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে এবং স্থানীয় পুলিশ – প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা, প্রয়োজনে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে: (১) জলাশয় বোজানো বন্ধ করা, (২) মৃত নদী ও খালগুলি বাঁচিয়ে তোলা, (৩) যথেচ্ছ গাছ কাটা বন্ধ করা, (৪) দেশজ বৃক্ষ রোপণ ও সবুজায়ন, (৫) সুন্দরবন ও উপকূল অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বিনাশ বন্ধ করে ম্যানগ্রোভ রোপণ, (৬) দেশের আইন অনুযায়ী ১২০ মাইক্রনের নিচে প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ, ১০০ মাইক্রনের নিচে পিভিসি ও প্লাস্টিক ব্যানার এবং ৬০ জিসিএমের চাইতে কম ওজনের অবোনা ব্যাগ নিষিদ্ধ করা এবং প্লাস্টিকের বস্তার পরিবর্তে চটের বস্তা ফিরিয়ে আনা; (৭) ডিজে, শব্দ বাজি ইত্যাদি শব্দ দূষণের প্রকরণ গুলি নিষিদ্ধ করা ও যথেচ্ছ হর্ন বাজানো সহ ট্রাফিকের শব্দ দূষণ কমানো, (৮) ফসিল ফুয়েল পোড়ানো গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি না করে পরিবেশবান্ধব গণ পরিবহনের উপর জোর, আধুনিকীকরণ করে ট্রাম ফিরিয়ে আনা ও সাইকেলের জন্য আলাদা পথ চিহ্নিত করা, (৯) সঠিক বর্জ্য সংস্থাপনা প্রচলন এবং সঠিক ট্রিটমেন্টের পর কলকারখানা – পুরসভা থেকে জল গঙ্গা ও অন্যান্য নদী – খালে ফেলা, (১০) তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলি থেকে জল ঠাণ্ডা করে নদীতে ফেলা, (১১) যথেচ্ছ ফ্লাই অ্যাশ এর ব্যবহার বন্ধ করা, (১২) ফারাক্কা, দুর্গাপুর সহ বিভিন্ন ব্যারেজের ও বিভিন্ন জলাধারের সংস্কার ও পলি উত্তোলন এবং হুগলী নদীতে ড্রেজিং, (১৩) নয়াচরে কেমিক্যাল হাব তৈরির পরিকল্পনা এবং মহম্মদ বাজারে অবৈধ খাদান বন্ধ করা; (১৪) দার্জিলিং পাহাড় থেকে কলকাতা মহানগরী সর্বত্র অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা; (১৫) সমস্ত বেআইনি ভেড়ি ও ইটভাটা এবং পরিবেশ দূষণকারী স্পঞ্জ আয়রন কারখানা বন্ধ করা; (১৬) খাদ্যে বিষাক্ত রং, রাসায়নিক ইত্যাদি মেশানো বন্ধ করা; (১৭) মালদা, মুর্শিদাবাদের ভয়ংকর ভাঙ্গন রোধের জন্য ব্যবস্থা, (১৮) যত্রতত্র বালি উত্তোলন বন্ধ করা, (১৯) ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর সহ দামোদর অববাহিকায় প্রতিবছর ঘটে চলা বন্যা রোধে ব্যবস্থা; (২০) শুখা মরশুমে গভীর নলকূপ দিয়ে মূল্যবান ভূগর্ভস্থ জল তুলে সেচের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির মিষ্টি জল ধরে রেখে সেচের কাজে ব্যবহার ইত্যাদি বহু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল।

এগুলির মধ্যে থেকে কয়েকটিকে চিহ্নিত করে অন্যান্য জায়গায় আন্দোলন শুরু হল। বিজ্ঞান ও পরিবেশ কর্মীরা কয়েকটি পুরসভা ও পঞ্চায়েতে প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ বন্ধ করতে সক্ষম হলেন, পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে অনেক জায়গায় ডিজে ও শব্দ বাজি বন্ধ করতে পারলেন, উত্তরাখণ্ডের চিপকো আন্দোলনের ধাঁচে আন্দোলন চালিয়ে যশোর রোডের দুপাশের শতাব্দী প্রাচীন শিরিষ গাছগুলি তখনকার মত রক্ষা করতে পারলেন, খাদান মাফিয়া দের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে খাদান দূষণে সিলিকোসিস হওয়া জনজাতি শ্রমিক দের চিকিৎসার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে সক্ষম হলেন, রাজনৈতিক মাফিয়া – প্রোমোটারদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে চাকদা সহ বেশ কিছু অঞ্চলে জলাভূমি বোজানো আটকাতে পারলেন, ঠুঠোঁ ‘ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবেশ দূষণ পর্ষদ ‘ কে কিছুটা সক্রিয় করা সম্ভব হল। কিন্তু এই উদ্যোগগুলিকে বেশিদিন ধরে রাখা গেলনা। তারজন্য সরকারের কূটকৌশল ও প্রশাসনের দমন পীড়নের চাইতেও বেশি দায়ী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাঠানো ও সুবিধাবাদী কিছু লোক এই আন্দোলনগুলির মধ্যে ঢুকে পড়ে আন্দোলনগুলিকে বিপথগামী এবং বিভাজিত করে ফেললেন।

বর্তমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: দেশের ও রাজ্যের সরকারগুলির ধারাবাহিক নিষ্ক্রিয়তা; বিভিন্ন শিল্প সংস্থা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, খনি প্রভৃতির যথেচ্ছ দূষণ; উন্নয়নের নামে অবৈজ্ঞানিক ও যথেচ্ছ নির্মাণ; আধুনিকতার নামে যথেচ্ছ ফসিল ফুয়েল পোড়ানো; ভারত – পাকিস্তান ও চিন – ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ ও মহড়া; পাহাড় ভাঙ্গা, নদী জলাভূমি বোজানো, অরণ্য উজাড়; একের পর এক বড় বাঁধ, ব্যারেজ ও ব্রিজ নির্মাণ; যত্রতত্র প্লাস্টিক সহ বর্জ্য ফেলা; ফসলের গোড়া পোড়ানো প্রভৃতি কারণে সামগ্রিক ও ব্যাপক পরিবেশ দূষণের ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত উত্তরের হিমালয়ে হিমবাহগলন, মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি, হরপা বান, ধস; উপকূল অঞ্চলে উপর্যুপরি সাইক্লোন, জলস্তর বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস, প্লাবন; সারা রাজ্য জুড়ে পরিবেশ দূষণ, বন্যা, ঘন ঘন বজ্রপাত ইত্যাদি ঘটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যা নিয়ে সরকার থেকে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক কিছু প্রতিক্রিয়া ছাড়া কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
তাই মনে হয় রাজ্যের বিজ্ঞান ও পরিবেশ আন্দোলন গুলিকে আবারও এগিয়ে আসতে হবে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে।

শব্দ ব্রহ্ম: এখন মোবাইলের ব্যবহার সর্বজনীন। কিন্তু বাসে ট্রেনে মেট্রো তে বেশ কিছু মানুষ প্রবল ভিড়ের মধ্যেও মোবাইলে জোরে গান শুনে বা ভিডিও বা সিনেমা দেখে চলেছেন। কিছু মানুষ অনবরত চিৎকার করে মোবাইলে ফোন করে চলেছেন। ঐ ভিড় ও গরমে একাধিক মোবাইল সঙ্গীতের অত্যাচারে নরক গুলজার অবস্থা। অথচ যারা বাজাচ্ছেন আর যারা ভুক্তভোগী উভয়েই নিরুত্তাপ। ব্যাঙ্কক, কুয়ালালামপুর প্রমুখ এশীয় শহরের মেট্রোতে এমনকি দিল্লি, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালুরু, চেন্নাই এর মেট্রোতে এরকম চোখে পড়ে নি।

উন্নত দেশে যেমন কোন শহরের পর্যাপ্ত মাঠ, পার্ক, ফাঁকা জায়গা, রাস্তা, বাধাহীন ফুটপাথ ইত্যাদি রেখে নিয়মানুযায়ী নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় এবং শহরের রাস্তার পরিমাণের নিরিখে নতুন গাড়ির অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবেশ বান্ধব গণপরিবহনে জোর দেওয়া হয়। আমাদের দেশে বিশেষত আমাদের রাজ্যে বিপরীত। নেতা – পুলিশ দের ঘুষ দিয়ে যেরকম ইচ্ছা নির্মাণ করা যায়, সেরকমই ব্যাঙ্ক ইত্যাদি থেকে লোন নিয়ে গাড়ি কিনে রাস্তাঘাটে ফেলে রাখা যায়, কোন রকম নিয়ম না মানলেও চলে। আর বাম আমলে খুঁড়িয়ে চলা গণ পরিবহন কে মমতা সরকার প্রায় তুলে দিয়েছে। ফলে আমাদের দেশে শহর ইত্যাদি অঞ্চলে ফসিল ফুয়েল পোড়ানো গাড়ির এত হেভি ট্রাফিক এবং তদজনিত প্রবল বায়ু ও শব্দ দূষণ।

উন্নত দেশগুলিতে রাজপথে প্রবল গতিতে গাড়ি চলে। এমন সুন্দর প্রশস্থ রাস্তা, ট্রাফিক ও সিগন্যাল সিস্টেম, তার সঙ্গে পুলিশের নজরদারি ও নাগরিকদের মান্যতা যে কোন অসুবিধা হয়না এবং হর্ন বাজানো র কোন প্রয়োজন হয়না। সেখানকার গ্রাম ও পাড়ার রাস্তা গুলিতে গাড়ি আস্তে চলে, কোন রাস্তার মোড়ে দুদিক থেকে আসা দুটি গাড়ি যদি এক রাস্তায় যেতে চায়, একজন অন্যজন কে ছেড়ে দেয়, কোন হর্ন বাজায় না। হাসপাতাল, স্কুল ইত্যাদি জায়গায় তো হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমাদের এখানে উল্টো। যে যেরকম পারছে আইন ভাঙ্গছে, ওভারটেক করছে, ফাঁক দিয়ে অন্যকে চেপে এগিয়ে যাচ্ছে, আর তার সঙ্গে ইলেকট্রিক হর্নের তুমুল ক্যাকোফনি। এখানে ট্রেন লাইন দিয়েও মানুষ, পশু, গাড়ি ইত্যাদি সম্পূর্ণ নিয়ম বিরুদ্ধ ভাবে চলাচল করে, লাইন ঘেষে বস্তি বাজার ইত্যাদি তাই ট্রেন কেও ঘন ঘন জোরালো ইলেক্ট্রিক হর্ন বাজাতে হয়।

আমরা বাঙালি রা যেকোন কাজ হৈ চৈ করে করতে পছন্দ করি। হাজার সমস্যা থাকলেও আমাদের বছরভর লক্ষ উৎসব এবং সেখানে ঘরের উৎসবও পাড়া কাঁপিয়ে মাইক বাজিয়ে সবাইকে জানান দেই, আর সেটি যদি বারোয়ারি হয় লাগাতার মাইকরাজির অত্যাচারে কানের দফারফা। আমরা যেমন রাস্তা, সরকারি জমি দখল করে মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বারা নির্মাণ করি, পাশাপাশি আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উচ্চকিত মাইকের উৎপাতে মানুষ সহ প্রাণী জগৎ অতিষ্ঠ। হিন্দু, মুসলমান আর শিখদের মত জৈন, বৌদ্ধ, জুর্থ্রষ্ট (পার্সি), ইহুদি, ক্রিশ্চিয়ান রা কিন্তু এখানে এরকম উচ্চকিত নন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খেলা থেকে পিকনিক থেকে ভাসান সর্বত্র ডিজে নামক ভয়ংকর শব্দ ব্রহ্মের উৎপীড়ন। রাজ্য সরকার সম্প্রতি দুর্গা পুজো তে ডিজে বন্ধ করে সাধু কাজ করেছেন। কিন্তু তাদের ডিজে কে সর্বক্ষেত্রে সারা বছর নিষিদ্ধ করা উচিত। আবার কালী পুজো দেওয়ালি ছাড়াও বিভিন্ন খেলা, বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠানে রেওয়াজ হয়েছে রাত বিরেতে এলাকা কাঁপিয়ে শব্দ বাজি ফাটানোর। আসলে শিক্ষিত অশিক্ষিত মানুষদের এক বড় অংশের কাছে শব্দ দূষণ সেইভাবে দূষণ হিসাবে জ্ঞাত নয়, এর কুফলও তারা বোঝেন না। চারিদিকে বিরাজমান পথ কুকুর ও বিড়াল যেমন পরিবেশ নোংরা করে, তাদের থেকে মারণ জলাতঙ্ক ছাড়াও নানা ধরনের অসুখ হয়, তেমনই তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শব্দ দূষণ সৃষ্টি করে।

WHO জানিয়েছে: Noise pollution is one of the most dangerous environmental threat to health। শব্দের পরিমাপ ৭৫ ডেসিবেলের (dB) বেশি হলে অন্তকর্ণ (Inner Year) নষ্ট হয়ে মানুষের শ্রবণশক্তির ক্ষতি অথবা মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে। ১২০ dB এর বেশি হলে ব্যথা শুরু হয়। এছাড়াও স্নায়ুতন্ত্রে Cerebrovascular Accident (CVA) অথবা স্ট্রোক হতে পারে। Hypertension, Myocardial Infarction (Heart Attack) হতে পারে। Diabetes mellitus type2 এর মত Metabolic Diseases হতে পারে। নিদ্রার বিঘ্ন ঘটে দুর্বলতা, সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। Anxiety, Irritability, psychological stress, depression ইত্যাদি Mental Health এর সমস্যা হতে পারে। শিশুদের কোন কিছু শিখতে দেরি (Learning Delay) হতে পারে। পশু পাখি দের জীবনেও নানানরকম গভীর সমস্যা দেখা দেয়।

Central Pollution Control Board (CPCB) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী Commercial Zone এ দিনে ও রাতে ৬৫ ও ৫৫ dB এর নিচে, Residential Zone এ দিনে ও রাতে ৫৫ ও ৪৫ dB এর নিচে এবং Silence Zone এ দিনে ও রাতে ৫০ ও ৪০ dB এর নিচে শব্দ সীমা থাকতে হবে। অথচ কলকাতার গড় শব্দ সীমা ৭০ – ৮৫ dB যা বিপজ্জনক সীমার অনেক উপরে। ডিজে র শব্দ সীমা ৯০ – ১১০ dB ও তার বেশি। দানবীয় শব্দ বাজি গুলির সীমা ১২৫ – ১৫০ dB।

শব্দ জব্দ: সরকারি – বেসরকারি গণ পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় ভেঙ্গে ফেলায় এবং তার পরিবর্তে ব্যয়বহুল ক্যাব সার্ভিস ও প্রচলিত অটো রুট গুলি ভেঙ্গে দুটি – তিনটি করে ফেলায় বিশেষ করে কোভিড অতিমারীর পর অনেকে বাইক বা স্কুটার কিনে ফেলেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন মফস্বল শহর সহ সর্বত্র প্রচুর টোটো পথে নেমেছে। ফলে সর্বত্র জ্যাম জট বেড়ে গেছে। অলিতে গলিতেও এখন অসংখ্য দ্রুতগামী বাইক, তার সঙ্গে অটো, টোটো, রিক্সা, গাড়ি, মিনি ট্রাক ইত্যাদি চলায় ছোট রাস্তা গুলিতেও পথচারীদের চলাফেরা করা এবং সাইকেল চালানো বিপদজনক হয়ে উঠেছে। জ্যাম, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছাড়াও এর সঙ্গে বেড়ে চলেছে প্রবল বায়ু ও শব্দ দূষণ।

এরমধ্যে দেখা গেল শহর মফস্বলের শয়ে শয়ে প্যাডল চালানো রিক্সা ব্যাটারি চালিত হয়ে গেল। খুবই ভালো কারণ রিক্সা চালকদের শ্রম অনেকটা লাঘব হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার ও পুরসভা গুলির নির্দিষ্ট কোন নিয়ম না থাকায় ও নজরদারির অভাবে দেখা গেল রিক্সা গুলি তাদের আয়তন দুদিকে বাড়িয়ে নিয়েছে, রিকশায় কদর্য ডিজাইন এঁকে দৃশ্য দূষণ সৃষ্টি করেছে এবং পূর্বের ম্যানুয়াল হর্নের পরিবর্তে যথেচ্ছ ইলেকট্রিক হর্ন বাজানোয় প্রবল শব্দ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। শব্দে জব্দ হতে হতে মানুষ আজ কোণঠাসা এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশও হারিয়ে ফেলেছে।

সুতরাং সার্বিক দূষণের মধ্যে শব্দ দূষণ কেও চিহ্নিত করে সেটি উপশমের (Mitigation) সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। সাধারণ মানুষ কে সচেতন করে এই কাজেও নেতৃত্ব দিতে হবে বিজ্ঞান ও পরিবেশ আন্দোলনের অদম্য সৈনিকদের।

১০.০৯.২০২৬

PrevPreviousশারদোৎসব… ইয়ে… সরি, সরি দুর্গাপুজো
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

শারদোৎসব… ইয়ে… সরি, সরি দুর্গাপুজো

September 13, 2026 No Comments

পৃথিবীতে আপাতত একটাই কাজ বাকি আছে। শারদোৎসব… ইয়ে… সরি, সরি দুর্গাপুজো। আমরা আবার প্রকাশনীর পক্ষ থেকে পুজোয় বুক স্টল করি। রাগ করবেন না প্লিজ৷ রোজ

ত্রাণ কাজ নেপালে

September 13, 2026 No Comments

নেপালের বন্যাদুর্গত অঞ্চলগুলোর মধ্যে নুয়াকোট জেলার কিষ্পাং গাঁওপালিকা সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। গতকাল লালী গুরাস সমুহ এবং শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এই

পুজো মণ্ডপের আশেপাশে, সামনে পেছনে, কাছে, দূরে প্রচুর দোকান হোক

September 12, 2026 No Comments

এক স্বঘোষিত বাবার নিরামিষ ভক্ষণের নিদান শুনে এবং আমিষ ভোজী বাঙালিকে পাষন্ড ফাসন্ড গাল শুনে কাল থেকে মাথাটা এমন গরম হয়ে গেসলো যে গুছিয়ে কিছু

বিচারহীন ২৫ মাস।। অভয়া ও অভয়াদের বিচারের দাবিতে আমরা অনড়

September 12, 2026 No Comments

রঘুনাথপুর মহকুমা দূষণ বিরোধী ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা মঞ্চের আহ্বান

September 12, 2026 No Comments

আর কোন রেড ক্যাটাগরি কারখানা নয় শ্রমনিবিড় গ্রীন ক্যাটাগরি শিল্প চাই স্পঞ্জ আয়রণ, রামিং মাস, ক্রেসার ও সিমেন্ট কারখানার ভয়াবহ দূষণ রোধ ও প্রাকৃতিক সম্পদের

সাম্প্রতিক পোস্ট

শব্দে জব্দ

Bappaditya Roy September 13, 2026

শারদোৎসব… ইয়ে… সরি, সরি দুর্গাপুজো

Dr. Aindril Bhowmik September 13, 2026

ত্রাণ কাজ নেপালে

Doctors' Dialogue September 13, 2026

পুজো মণ্ডপের আশেপাশে, সামনে পেছনে, কাছে, দূরে প্রচুর দোকান হোক

Dr. Samudra Sengupta September 12, 2026

বিচারহীন ২৫ মাস।। অভয়া ও অভয়াদের বিচারের দাবিতে আমরা অনড়

Abhaya Mancha September 12, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

674760
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]