
পুনে সংলগ্ন জলগাঁও ও ধুলে জেলার আদিবাসী পরিবারের সদস্যরা আখের ক্ষেতে কাজ করতে এসেছিল পুনেতে সেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। এমনটা নতুন কিছু নয়।রুটি রুজির টানে এভাবে নিজেদের চেনা পরিচিত জায়গা ছেড়ে দূরান্তের পথে পা বাড়ানো একটি পরিচিত ব্যবস্থা। খবরের শিরোনামে উঠে আসা আদিবাসী পরিবারের সদস্যরা এভাবেই এসেছিল শিরপুরের রঞ্জনগাঁও – সান্দাস গ্রামের রঙ্গকিসে ভাইদের খামারে। তাদের বলা হয়েছিল অতিথি হিসেবে থাকবে, কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। আদতে যেমনটা হলোনা। পরিবারটি মিষ্টি কথার ফাঁদে পড়ে বন্দিদশা মেনে নিতে বাধ্য হলো। আসলে পরিবারটি নন্দু রঙ্গকিসে ও আপ্পা রঙ্গকিসের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। কথা হয়েছিল দীর্ঘ তিন মাসের কাজের আগাম বাবদ এই টাকা নেওয়া হলো। আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে পরিবারটি হাতে পেয়েছিল মাত্র ৮৫০০০ টাকা। বাকি টাকা গেল দালালের কব্জায়। চমৎকার ব্যবস্থা !
এই দলের অন্যতম সদস্যা জীজাবাঈ ভীলের ( ৪৬ বছর) কথায় – নিয়োগের সময় আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল যে আখ কাটার সময় মেয়াদের তিন মাস আমরা রঞ্জনগাঁওতে থাকবো এবং তারপর দেশে ফিরে যাব। কিন্তু কাজের শেষে দেশে ফিরে যাবার কথা বলতেই তাঁরা আমাদের পণবন্দি করে আটকে রাখে এবং বলে টাকা শোধ না হলে আমরা দেশে ফিরে যেতে পারবোনা।
ঋণ শোধের নামে তাদের ওপর শুরু হলো শারীরিক ও মানসিক পীড়নের পর্ব। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে অমানুষিক পরিশ্রমে তাদের বাধ্য করা হয় যা মানবিক অধিকারের সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। “ আমাদের মাথাপিছু গড়পড়তা ৫০ টাকা মজুরি দেওয়া হতো ১৪ ঘন্টা হাড়ভাঙা পরিশ্রমের জন্য। আমাদের চিকিৎসার জন্য কোনোরকম সুযোগ ছিলনা। আপদেবিপদে নিয়োগকর্তাদের তরফে মিলতো না কোনো রকম সাহায্য। আমাদের যথেচ্ছ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো। একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকতে হতো আমাদের।” – নিজেদের দুর্দশার কথা মুখফুটে প্রকাশ করে দলের অন্যতম সদস্য বছর ৩৫ এর দাদাভাউ ভীল। তিনি আরো জানান – “আমাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অনুমতি ছিলো না পাছে আমরা আমাদের দুর্বিষহ জীবন যাপনের কথা আমাদের আত্মীয় স্বজনদের জানাতে পারি। ধরা পড়লে অকথ্য গালিগালাজ আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে আমাদের। পরিবারের সাত জন সদস্যের কোনো সাপ্তাহান্তিক ছুটি ছিলো না। সারা মাসের খাটাখাটনির পর পরিবারপিছু মাসের শেষে মজুরি মিলতো মাত্র ৩০০০ টাকা।”
পরিবারটির ওপর চলতে থাকা অত্যাচার সম্পর্কে জানান। গত ২৭ জুন ২০২৫ পুনে জেলার আইনি সহায়তা প্রদান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বহুউদ্দেশিয়া বিকাশ সংস্থার কর্মীদের সহায়তায় অভিযান চালানো হয় ওই আখের খামারে।
কাজটা কিন্তু মোটেই সহজ ছিলনা আধিকারিকদের পক্ষেও । গ্রামের মানুষজন তাদের ঘিরে ধরেছিল ,বাধা দেয় বন্দিদের ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে। এতবড় একটা অভিযানে মাত্র একজন পুলিশকর্মী। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম দিনের অভিযান এক রকম অসমাপ্ত রেখেই ফিরে যেতে হয় সকলকে। পরের দিন সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও অভিযান চালানো হয়। সম্মিলিতভাবে অভিযান চালানোর জন্য চাপের কাছে নতিস্বীকার করে বন্দি ভীল পরিবারের সদস্যদের মুক্ত করতে সক্ষম হয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা, তবে অসংলগ্ন পুলিশি জবানবন্দির কারণে অপরাধীদের এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। ইয়ে হ্যায় ইন্ডিয়া যেখানে অর্থবলে ক্ষমতাশালীরা শত অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
জুলাই ৭, ২০২৫











লেখকের নজর বিচিত্র বিষয়ে। এরফলে তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে আমরা নানান বিষয়ে জানতে পারি। স্বাধীনতার এতোদিন পরেও দেশের এক শ্রেণীর মানুষ এমন অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন জেনে সত্যিই হতাশ ও লজ্জিত হই।
দুঃখটা সেখানেই যে এতো দিন ধরে এই ব্যবস্থা এখানে টিকে আছে। সমস্যার গভীরে পৌঁছে তাকে দূর করার সদিচ্ছা নেই।
এতো ভয়ঙ্কর ঘটনা।
এমন ঘটনা এদেশে ঘটে, আমরা তার কতটুকু খবর পাই। এতো বৈষম্য নিয়ে দেশ এগোতে পারে? ভয়ঙ্কর খবর বলেই হয়তো নজরে পড়ে। অন্যদের নজরে আনার জন্য কলমে শান দিই।
অজানা তথ্য। স্বাধীনতার এত দিন পরেও এই অবস্থা
এটাই হলো সবথেকে অবাক করা কাণ্ড। এমন পরিস্থিতির শিকার হয়তো আরও অনেকেই।তারা অজ্ঞাত থেকে যায়।
প্রতি দিনই এরকম ঘটনা ঘটছে, দেশে নয়তো বিদেশে। তার ই দুএকটা কাগজে রেরোয়। তখন আমরা সেটা পড়ে চমকে উঠি। চিন্তা নেই….2047 এ সব ঠিক হয়ে যাবে।
সত্যি কথা বিষয় বৈচিত্র্যে লেখক যে অনেক অজানা বিষয়কে আমাদের সামনে তুলে আনছেন তাযথার্থ ই অভিনবত্বের দাবি রাখে।আর এখনো এই ধরনের মধ্যযুগীয় প্রথার আশু বিলুপ্তির প্রয়োজন।
রোজ এই মহান দেশের আনাচে কানাচে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকে। তার সামান্য অংশ সামনে আসে। আজ ওড়িশার এক ঘটনা নজরে এলো । বর্বরোচিত বললে কম বলা হবে। প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতার। এই লেখা দিয়ে তার উন্মেষ সম্ভব নয়।
ভারতীয় হিসেবে খুবই লজ্জার ঘটনা। আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, মূল্যবোধ এর সত্যিই বড় অভাব।
কেন এমন হাল হলো? আত্মজিজ্ঞাসা দরকার।
The further we step out of the cities the darker the picture is… still feudalism is at full force…