ইদানীং কালে আমার এক কনিষ্ঠ বন্ধু প্রবীর সামাজিক মাধ্যমে অসাধারণ কিছু মন ছুঁয়ে যাওয়া লেখা দিচ্ছে। ওর লেখার সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিতি ছিল, আর ওর অত্যন্ত sensitive বা সংবেদনশীল মানসিকতার সঙ্গে তো অনেক অনেক আগে থেকেই। যাহোক,ওরই ব্যাচের আমাদের আর এক বন্ধু অমিতাভ বলছে ‘এ হতে পারে না, দেখো এ নিশ্চয়ই AI দিয়ে লিখছে নাহলে ফিজিক্সের কোয়ান্টাম থিওরিকে কেউ গল্পের বিষয় করতে পারে? তুমি যাই বলো আমার হজম হচ্ছে না।’
কিছু বলার আছে? বিশেষত যদি সমস্যাটা হজমের হয়, তাও আবার বাঙালির যাদের হজম শক্তি ঐতিহাসিক ভাবে চিরকালই শুধু দুর্বল নয় অতীব দুর্বল।
হজম নিয়ে আবার একটা
পৌরাণিক গল্প আছে, ইল্বল ও তার ভাই বাতাপি দুই ‘রাক্ষস’ অদ্ভুত কৌশলে মানুষকে হত্যা করে তাদের যথাসর্বস্ব লুঠ করতো। মেষরূপী বাতাপিকে কেটেকুটে অতিথি আপ্যায়ন করতো দাদা ইল্বল, তারপর সঙ্কেত পাঠালেই সেই পাককরণ সত্ত্বেও বেঁচে থাকা বাতাপি অতিথির পেট ফেটে বেরিয়ে আসতো। এই serial killing এর সমাপ্তি ঘটে অগস্ত্য মুনির হাতে, যিনি পুরো ব্যাপারটাই অবগত ছিলেন এবং আরাম করে খেয়েদেয়ে বলে উঠলেন, ‘বাতাপি, জীর্ণ ভব’। বেচারি বাতাপি হজম হয়ে গেলো আর ঋষি মহাশয় ঊর্ধে ও নিম্নে মহা বায়ু নিঃসরণ করে তার ভবলীলা সাঙ্গ করলেন।
অগস্ত্য মুনি বাঙালি ছিলেন এরকম কোথাও শুনিনি। পৌরাণিক কোনো চরিত্রই কি বাঙালি ছিল? জানিনা। আর ইল্বল-বাতাপি তো বোধহয় অধুনা কর্ণাটকের, কারণ বাদামি – পাট্টাডাকাল – আইহোলের বাদামি নামটা নাকি বাতাপি থেকেই এসেছিল। অর্থাৎ, উত্তরের মুনি এসে দাক্ষিণাত্যের রাক্ষসকে আত্মসাৎ বা হজম করে নিয়েছিল। রাক্ষসরা তো সব বোধহয় দক্ষিণ ও পূর্বেই বাস করতো।
তা ভালো,অগস্ত্য মুনির পক্ষে হয়তো সম্ভবপর হয়েছিল। কিন্তু তা বলে এই মহা শয়তানগুলোকে গলাধঃকরণ করা, যাদের কাছে দুই রাক্ষস ভাই প্রায় নস্যিই বলা যেতে পারে!! তাছাড়া, পুরো ব্যাপারটার ব্যবস্থাপকরা কেউ আর যাই হোক কোনো মুনি-ঋষি নয়।
জানা নেই, শেষমেষ কী হবে, তবে ঐ শয়তানগুলোর দৌলতে নাকি এমন এক ‘বিল’ পাশ হয়ে যাবে যাতে শাসক দলকে আর ছোঁয়াই যাবে না। সেই ‘জয়মঙ্গল’বারে ছিল না, ‘আগুনে পোড়ে না খাঁড়ায় কাটে না মরে গেলে বেঁচে ওঠে…….’, মানে একেবারে মরণশীলদের ধরাছোঁয়ার বাইরে!!!
তাহলে আর কী?! আমরা বরং এই অতীব দুঃসাহসীদের জন্য মঙ্গল কামনা করি, ঐসব দুর্বৃত্তদের হজম করা কী সোজা কথা!!!











