অভয়া মঞ্চ-এর আবেদন
___________________________
প্রিয় সাথী,
মধ্যরাতে বিশ্বজয়ী এদেশের মেয়েরা। ২নভেম্বর,২০২৫ বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ভারতের মেয়েরা। পরের দিন সংবাদ মাধ্যম লিখলো, ‘মধ্যরাতে নতুন ভোর আনলো মেয়েরা’। আরব সাগরের পাড়ে রচনা হলো নতুন ইতিহাস। শরীর শূন্যে ছুঁড়ে বাঁহাতে তালুবন্দি বল আর ক্যাচ, বাউন্ডারি লাইন ধরে হরমনপ্রীত কৌরের দৌড়, তারপর সবই ইতিহাস। দীপ্তি, শেফালী, রিচা ওরা সবাই অপরাজিতা, ওরা সবাই অভয়া। চোদ্দতলার মনুবাদী নির্দেশকে উপেক্ষা করে মাঝরাতে এই বাংলা, এই ভারত নেমে এলো রাস্তায়, রাস্তায় মেয়েরা, আবির, রঙীন বাজি, মধ্যরাতের উৎসব।
১০অক্টোবর, শুক্রবার দুর্গাপুরে বেসরকারী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ধর্ষিতা। কয়েকদিন বাদেই দত্তপুকুরে মূক ও বধির, মানসিক প্রতিবন্ধী ধর্ষিতা। লাগাতার, একের পর এক। ১২অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীর নিদান, ‘মেয়েরা রাতে বেরোবে না’। ২০১২ সালে ১৬ ফেব্রুয়ারী মহাকরণে দাঁড়িয়ে পার্ক স্ট্রীট ঘটনার পর একই ধরণের কথা বলেছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। অভয়া হত্যার পরও তারই পুনরাবৃত্তি । মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরণের কথায় ধর্ষকরা, দুষ্কৃতীরা উৎসাহিত হয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েই চলেছে। কারণ ‘মহিলা’ মুখ্যমন্ত্রী মেয়েদের রাতে বেরোনোকে অপরাধ মনে করেন! ওনার কথা ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিতারা গভীর রাতেও রাস্তায়।
আমাদের মেয়ে অভয়া চলে গেছে ১৫ মাস, দূরে তারার দেশে। বিচারহীন ১৫ মাসে বিচারের আশায় আজও নিদ্রাহীন অভয়া’র মা,বাবা। ‘থ্রেট কালচার’ আর অসহনীয় দুর্নীতির প্রতিবাদের শিকার অভয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই তরুণী চিকিৎসকের হত্যা নাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য, দেশ তথা দুনিয়ার বিবেককে। প্রতিবাদে, প্রতিরোধে জ্বলে উঠেছে সমগ্র দুনিয়া। ১৪আগস্ট,২০২৪ থেকে ‘রাত দখল’ আর রাত জাগার শুরু। সিবিআই তদন্ত করছে জেনে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিল বাংলার মানুষ। অচিরেই প্রমাণ হলো তদন্তের নামে প্রহসন। প্রথমে সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের অতি সক্রিয়তা। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বললেন বন্ধ খামে ভয়ংকর কিছু আছে। কিন্তু এতদিন পরেও আমরা জানতে পারলাম না সেটা কি। শিয়ালদহ কোর্টের মহামান্য বিচারপতির ভাষায় ৯আগস্ট নাগাসাকির পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মতোই অভয়া হত্যা ভয়ঙ্কর,ভয়াবহ। তারপর নীরবতা। সর্বোচ্চ আদালতেরও নির্দিষ্ট দৃঢ় পদক্ষেপে অনীহা। জনমানসে প্রবল ক্ষোভ আর হতাশা।
মন্দ রাজনীতিক, দুষ্কৃতি, ধর্ষক, আইন রক্ষক, সর্বোপরি শাসকের এই নেক্সাসের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার ডাক দিয়েছে ‘অভয়া মঞ্চ’। ভাঙতেই হবে এই নেক্সাসকে। জোটবদ্ধ করতে হবে প্রতিবাদী মানুষকে। ‘আর জি কর থেকে দত্তপুকুর’- বিচার চাই। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক — দেশজুড়ে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে নারী নির্যাতন। শাসককূলের মতাদর্শ উৎসাহিত করছে দুষ্কৃতীদের।আর এর আড়ালে শাসকের লুটতরাজ চলছে। বিচার ব্যবস্থাকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। সঠিক বিচার দিতেই হবে। পাঁচ লক্ষ মানুষের সই সংগ্রহ করে ‘অভয়া মঞ্চ’ যাবে দিল্লিতে, সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য প্রধান বিচারপতির সকাশে, স্মারকলিপি জমা দিতে।
আপনার কলমের কালির স্বাক্ষর দুষ্কৃতিরাজ অবসানে, অপরাধীর শাস্তি সুনিশ্চিত করতে নতুন ইতিহাস রচনা করুক।
অভিনন্দনসহ,
পুণ্যব্রত গুণ
মনীষা আদক
তমোনাশ চৌধুরী












