৪ তারিখ থেকে ১১টি রাজ্যে এস আই আর চালু হচ্ছে।এই রাজ্যেও হবে।এর আগে বিহারে এস আই আর হয়ে গেছে, তার ভিত্তিতেই বিহারে ভোট হচ্ছে।দেখা যাচ্ছে সংসদীয় দলগুলো এস আই আরের বিরুদ্ধে বললেও যেখানে তাদের সরকার আছে, সেখানে এস আই আর কার্যকর করতে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করছে। নির্বাচন কমিশনের তো লোকবল প্রচুর নয়। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের দিয়ে তাদের কাজ করতে হয়। সংসদীয় দলগুলো যদি ঘোষণা করত, এস আই আর জনবিরোধী কাজ, এটা যে রাজ্যে তাদের সরকার আছে সেখানে লাগু হবে না,তা হলে কী হত, বড়জোর একটা সংকট তৈরি হত, সেটা কিভাবে সমাধান হতো সেটা দেখা যেত।
আর এস এস বিজেপি জানে তাদের যে ফ্যাসিবাদী এজেন্ডা থাকে সেটাকে আটকাবার জন্য অন্য সংসদীয় দলগুলো নিয়মতান্ত্রিকতার বাইরে বেরোবে না।তাই অনায়াসে তাদের এজেন্ডা লাগু হয়ে যাবে।এখন প্রশ্ন আসে তাহলে কৃষি আইন প্রত্যাহার হলো কিভাবে? আসলে কৃষি আইন প্রত্যাহারের অভূতপূর্ব লড়াইয়ে সংসদীয় দলগুলোর প্রধান ভূমিকা ছিলো না।পাঞ্জাবের “নকশাল পন্থীদের” প্রভাবাধীন খেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের প্রধান ভূমিকা ছিল।যারা দিল্লী অবরোধের মূল ভূমিকায় ছিল। আপসহীন এই সংগ্রামের সেদিন জয় হয়েছিল। কিন্তু এই সংগঠন বা” নকশাল পন্থীরা ” ভোটের বিষয়ে অন্য অবস্থানে থাকে, অপরদিকে এস আই আরের সাথে ভোটার তালিকা সম্পর্কিত,এই জোনে তাদের ভূমিকা কম।বা অন্যভাবে বলতে গেলে, এ বিষয়ে তারা মাথা ঘামায়ও অনেক কম।এই এস আই বিরোধী আন্দোলনে কার্যকরী ভূমিকাও নিতে পারেনা। যদিও এই সংগঠনগুলো সবাই এস আই আর বিরোধী অবস্থানে আছে।
এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস মুখে প্রবল এস আই আর বিরোধী প্রচার করছে, মিছিল করছে। আবার জ্ঞানেশ কুমারের ভাষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি বলছেন, “জীবন” থাকতে এস আই আর করতে দেব না।একটা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা রুখতে কেউ যদি জীবন দেয় ভালো কথা।জীবন তো অমূল্য সম্পদ।সেটা মানুষের সবচেয়ে ভালোবাসার বিষয়।সেই জীবন দেবার কথা,কেউ যদি ঘোষণা করে ইতিহাসে সবচেয়ে সন্মান তারা পান। কিন্তু দেখা গেলো জীবনের চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীত্ব অনেক দামী মমতার কাছে। লড়াই করতে গিয়ে নিয়মতান্ত্রিকতার গন্ডী পেরোলে পাছে মুখ্যমন্ত্রীত্ব চলে যায়, তাই এস আই আরের কাজে সহযোগিতা করো। শুধু ভোট বাড়ানোর জন্য কিছু লড়াই লড়াই খেলা করো। বিজেপি একদিকে আতংক ছড়াচ্ছে। পাল্টা তৃণমূল অন্যভাবে আতংক বাড়িয়ে তুলেছে।আর মানুষ নাম আছে কি নেই এটা জানার জন্য সবকাজ ফেলে দৌড়াদৌড়ি করে হাঁপিয়ে যাচ্ছে।
মানুষের পাল্টা লড়াইয়ের শক্তি যতক্ষণ না এই রাজ্যে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সজোরে আছড়ে পড়ছে, মানুষের এই হয়রানি বন্ধ হবে না।









