এ দেশের দূষণ এখন আম নাগরিকদের সহনসীমাকে ছাপিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আজকাল আমরা সকলেই আর খুব বেশি ভাবিনা,সব কিছুই কেমন গা – সওয়া হয়ে গেছে আমাদের সকলের অথচ পরিশুদ্ধ শ্বাস বায়ু পাওয়ার অধিকার নাগরিকদের জন্মগতভাবেই প্রাপ্য। অপরিকল্পিতভাবে সবকিছুকে গড়া হলে তার হাল যে এমনটাই হবে তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে।
খুব টাটকা এক হিসেব থেকে জানা গেছে যে বিদায়ী শীতের সময় ভারতবর্ষের ২৩৮ টি শহরের মধ্যে ২০৪টি শহরের বায়ু দূষণের পরিমাণ ছিল সহনীয় মাত্রার অনেক অনেক ওপরে ; অর্থাৎ আমাদের দেশের শহরগুলো, যতই তাদের শরীরে স্মার্ট, হাই টেক ইত্যাদি তকমা জুড়ে দেওয়া হোক না কেন, বায়ুদূষণের বিচারে তাদের হাল রীতিমতো সঙ্গিন। বায়ুর দূষণ মাত্রা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে বায়ুতে হাজির PM 2.5 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের মতানুসারে এই দূষকের গ্রাহ্য ভারতীয় মান হলো প্রতি ঘন মিটারে ৪০ গ্রাম। সেখানে গাজিয়াবাদের বায়ুতে PM 2.5 এর পরিমাণ ছিল ১৭২ g / m3, নয়ডায় ১৬৬ g /m3 এবং দিল্লিতে ১৬৩ g / m3। ফিনল্যান্ডের গবেষণা সংস্থা CREA তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে এই কঠিন সত্যটাকে আমাদের সামনে এনেছে। 
পার্টিকুলেট ম্যাটার PM 2.5 এতোটাই সূক্ষ্ম যে প্রতিবার শ্বাস গ্রহণের সময় তা নাসারন্ধ্রের পথ বেয়ে একেবারে আমাদের ফুসফুস ও রক্তনালীতে পৌঁছে যায় এবং নানান রোগের সৃষ্টি করে।
২০২৫ সালের পয়লা অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে Continuous Ambient Air Quality Monitoring Stations থেকে সংগৃহীত তথ্য ভান্ডারকে কাজে লাগিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ছোটো শহরগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশের মহানগরী গুলোতে বায়ুর দূষণ মাত্রার খোঁজ নিয়ে দেখা যাক্। নির্ধারিত সময়ে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের বায়ুতে প্রতি ঘন মিটারে PM 2.5 এর উপস্থিতির হার ছিল যথাক্রমে ১৬৩, ৭৮, ৪৮ এবং ৪৪ । বলাবাহুল্য এই মান ভারতীয় মানেরও অনেকটাই ওপরে , যার অর্থ হলো আমাদের শ্বাস বায়ু অত্যন্ত দূষিত। আমরা সবাই বাধ্য হয়ে তাকেই গ্রহণ করছি এবং নানান রোগের শিকার হচ্ছি।
তথ্যসূত্র: ডাউন টু আর্থ পত্রিকা।
মার্চ ১২.২০২৫











পরিস্থিতি দিনকে দিন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। উন্নতির কোনো লক্ষণই নাই। বেজিংয়ের অবস্থাও ২০১৩ সালে ঠিক এরকমই ছিলো। ওরা কিন্তু সদিচ্ছা নিয়ে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আইন তো আমাদের দেশেও আছে। প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত হলেই এসব সমস্যা ধীরে ধীরে মিটতে শুরু করবে বলে আমার ধারণা।