গত নভেম্বর থেকে কলকাতা হাইকোর্টে অভয়ার মামলা ৩৫ বারের ও বেশি তালিকাভুক্ত হলেও একবারও কার্যকর শুনানি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অসহ্য বিলম্ব ও দীর্ঘসূত্রিতার বিরুদ্ধে, যাতে অভয়ার মামলায় বিচার পেতে আর দেরি না হয়, সেই দাবিতে সম্প্রতি বিশেষত মহিলা জুনিয়র ডাক্তারদের একটি প্রতিনিধিদল মাননীয় প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে ৩০০-রও বেশি মহিলা চিকিৎসকের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। সেখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল আমাদের সহপাঠীর জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার দাবিকে।
কিন্তু আজ আদালতে যা ঘটল, তা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিল। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে এবং জানিয়েছে যে এই বেঞ্চ নিয়মিত ক্রিমিনাল অ্যাপিল বেঞ্চ নয়, ফলে এই মামলার দ্রুত বা নিয়মিত শুনানি তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে মামলাটি আবার প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে, যিনি পরবর্তী বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।
আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা এই মামলায় তদন্তের গতি ও বিচার প্রক্রিয়ার এই বিলম্ব ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য যেমন মানসিক যন্ত্রণার, তেমনই গোটা চিকিৎসক সমাজের কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক। একজন কর্তব্যরত চিকিৎসকের নির্মম মৃত্যুর ন্যায়বিচার বারবার প্রক্রিয়াগত জটিলতায় আটকে থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক শুধু নয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি করে।
আর কতোদিন এভাবে প্রতীক্ষার দিন গুনতে হবে, আর কতোদিন বিচারের জন্য এই কোর্ট থেকে ওই কোর্ট আর এই বেঞ্চ থেকে ওই বেঞ্চ ছুটতে হবে অভয়ার পরিবার সহ আপামর প্রতিবাদী মানুষদের? এই দীর্ঘসূত্রিতা শুধু লজ্জাজনক নয়,এ এক চরম বিচারবিভাগীয় অব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি সাথে এই বৃহত্তম গণআন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষের আবেগের সাথে অপমানসূচক আচরণ বলে west bengal junior doctors’ front মনে করে।










