মাদারীদের ভোজবাজির খেলা দেখেছেন কখনও? একেবারে সাধারণ পোশাক পড়া কতগুলো দেহাতি মানুষ । ঘমাসান শোরগোল তুলে নিমেষেই লোকজন জড়ো করতে এদের জুড়ি মেলা ভার! ঢোল পিটিয়ে আর হাঁক ছেড়ে কথা কইতে শুরু করলেই আশপাশের লোকজন গোল হয়ে ঘিরে দাঁড়ায় অকুস্থলে। ভিড় জমতেই শুরু হয় আসলি কারনামা!
দেশে এই মুহূর্তে এমনিই কাণ্ড চলছে। “ইয়ে দেখো পাহাড়,পেড় পৌধোসে ভরা হুয়া কিতনী সুন্দর হরিয়ালি, জঙ্গল। ইহা পে শের হ্যায়,ভালু হ্যায়, শিয়ার হ্যায়। হর কিসিমকা চিড়িয়া হ্যায়। পাহাড় সে বহতী হুয়া নদী হ্যায়, মিট্টিকা নিচে কিমতি পাত্থর হ্যায়, পানি হ্যায়। অব হাম ইস সবকো ভ্যানিশ কর দুঙ্গা।” কি আশ্চর্য! বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়তেই এক লহমায় সব চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে যায়। মাদারী চিৎকার করে বলে – “দেখো বাবুয়া! সব ক্যায়সে বদল দিয়া এক হী মন্তর সে। ইয়ে হ্যায় ডেভেলপমেন্ট! তালিয়া,তালিয়া। ইয়ে বাত ইয়াদ রাখিয়ে বাবুলোগ,যব তক ইয়ে মাদারী হ্যায়,তবে তক ইয়ে সব মুমকিন হ্যায়। হাম সব কুছ বদল দেঙ্গে! হা,হা হা ,হো হো হো।” মাদারীর আকাশ কাঁপানো অট্টহাসিতে ভরে যায় চতুর্দিক।পাহাড়তলির ছোট্ট এক গ্রামে তখন সবে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। এদিকে ঠাণ্ডার দাপট খুব বেশি। পাহাড়ের পাদদেশে ইতস্তত ছড়িয়ে রয়েছে ছোট ছোট গ্রাম্য বসতি। তারই একটার নাম সোহনা, ভিখুরামের বাস এখানেই। ছোট্ট ভিখু স্বপ্ন দেখে, একদিন সে মস্ত বড়ো ইনসান হবে। ইস্কুলের মাস্টারজী এমনটাই বলেন সবসময়। ভিখুর পিতাজী সুখু পাহাড়ের ঢালের নাবাল জমিতে বকরি চড়ায় আর সামান্য খেতিবাড়ির কাজ করে। সুখুর পিতাজী হলেন লাখান,লাখানের পিতাজী ভীমা…… কত পুরুষের সম্পর্ক এই পাহাড় আর পাহাড় লাগোয়া এলাকার পরিবেশের সঙ্গে। রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা সম্পর্ক। ভিখুর ইচ্ছে তাদের ইস্কুলের কুন্দন মাস্টারজীর মতো সেও একদিন মাস্টারমশাই হবে। মাস্টারজীরা কি আচ্ছা ইনসান হোতা হ্যায়? এর উত্তর ভিখুর জানা নেই।
কুন্দনলাল তোমর, সোহনা গাঁওয়ের প্রাইমারি ইস্কুলের মাস্টারজী। কুন্দন এই এলাকার মানুষ নন, কিন্তু মাস্টারজী হয়ে এই সোহনায় আসার পর থেকেই আর কোথাও যাবার কথা ভাবেননি কুন্দন। এই পাহাড় আর তাকে জড়িয়ে থাকা পরিবেশ কেমন মায়ার বাঁধনে যেন বেঁধে ফেলেছে তাঁকে। মাঝেমাঝেই কুন্দনলালের মনের ভেতর ঝড় ওঠে – প্রবল ঝড়। কুন্দন জানে এই বন পাহাড় নদী পাখপাখালি শিং নাড়িয়ে ঘুরে বেড়ানো চিঙ্কারারা আর তাদের সহযোগী প্রাণিকুল সব হারিয়ে যাবে একদিন। উন্নয়নের অশ্বমেধের ঘোড়া একদিন এসে তাদের ভালোবাসার সবকিছুই কেড়ে নিয়ে যাবে। কবে? কুন্দন তা জানে না, তবে এইটুকু শুনেছে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা হলে সব রাতারাতি উজাড় হয়ে যাবে। এরপর নেতারা সব গাড়িতে চেপে আসবে, গালভরা প্রতিশ্রুতি আর মিথ্যে আলোর ফানুস উড়িয়ে এই পাহাড়তলির ছোট্ট ছোট্ট বসতিতে থাকা মানুষজনকে বিভ্রান্ত করবে। চাপ দেবে,ভয় দেখাবে, থলি ভর্তি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের সবাইকে ভিটেমাটি ছাড়া করবে রাতারাতি। গাঁও গুলোর সরল, সাধাসিধে মানুষদের ভিটেমাটি চাটি করে গড়ে তুলবে নিজেদের মুনাফার পাহাড়, একদিন যা ছাপিয়ে যাবে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এক সুপ্রাচীন প্রাকৃতিক পরম্পরাকে যাকে গোটা দুনিয়া জানে দ্যা গ্রেট আরাবল্লি নামে। হিমালয় পর্বতের থেকে ঢের ঢের প্রাচীন এই ভাঁজ পর্বত এক জীবন্ত মিউজিয়াম। পর্বতের পূর্ব দিকে থাকা জনপদের ফুসফুস।অথচ এসবের প্রতি খেয়াল না করে, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গড়াপেটা সংজ্ঞায় সায় দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে গোটা দেশ জুড়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন – পর্বতের ১০০ মিটারের নিচে থাকা অংশ এখন থেকে আর পর্বতের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে না। অর্থাৎ এর নিচের এলাকায় অবাধে খননের কাজ শুরু করতে পারবে তথাকথিত উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত মতলববাজ মানুষেরা – জমি মাফিয়া,খনি মাফিয়া আর লোভাতুর বেওসায়ীর দল। লাভের বখরা জমা হবে সরকারি কোষাগারেও। পরিবেশবাদীদের কথা শোনা যাক্। কী বলছেন তাঁরা? ইতোমধ্যেই পরিবেশবাদীদের গায়ে তকমা জুড়ে দেওয়া হয়েছে উন্নয়ন বিরোধী হিসেবে। শুনে নেওয়া যাক্ ওদের কথা।
তাঁদের মতে – আরাবল্লির নতুন সংজ্ঞা কেবলমাত্র এই পর্বতের অন্তর্জলি যাত্রার আয়োজনই সম্পূর্ণ করবে না, সাথে সাথে সারা দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছেও এক মহা অশনি সংকেত বয়ে নিয়ে আসবে। এখন থেকে স্থানীয় ভূপৃষ্ঠের ১০০ মিটারের ওপরের অংশই নাকি আরাবল্লির অংশ! এই সংজ্ঞার বৈধতা স্বীকার করে নিলে দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে হরিয়ানা, রাজস্থান রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে দক্ষিণে গুজরাট পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া ৬৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ আরাবল্লির ১০০ মিটারের নিচের অংশ আর এই সুপ্রাচীন পর্বতের অপরিহার্য অংশ হিসেবে মান্যতা পাবেনা। কি চমৎকার সিদ্ধান্ত!! এমন সিদ্ধান্তে সায় দিলে আরাবল্লি পর্বত সন্নিহিত ৯০% এলাকাই আরাবল্লির গরিমা চিরতরে হারিয়ে ফেলে উন্নয়নের যথেচ্ছাচারের রম্য ভূমিতে পরিণত হবে। সবথেকে দুঃখের বিষয় হলো এই যে, এই নতুন ঘোষণার জোরে বিগত তিন দশক ধরে পাওয়া বিশেষ আইনি সংরক্ষণের সুবিধা থেকে আরাবল্লিকে মুক্ত করে দিয়ে নিলামদারদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সরকার ও তার সহযোগী এজেন্সিগুলো এই অঞ্চলের ব্যাপক রূপান্তর ঘটাবে যা ভেঙে চুরমার করে দেবে এই বিস্তির্ণ অঞ্চলের একান্ত নিজস্ব বাস্তুতন্ত্রের শৃঙ্খলাকে। মনে রাখতে হবে মানুষও এই জীববৈচিত্র্য তথা বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এও এক আশ্চর্য লুন্ঠন যজ্ঞের আয়োজন যা সংগঠিত হচ্ছে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে।আরাবল্লি পর্বতের অবস্থান গোটা দেশ তথা উত্তর পশ্চিম ভারতের পক্ষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তর দক্ষিণে প্রসারিত এই সুদীর্ঘ পর্বতমালার পশ্চিমে রয়েছে থর মরুভূমির সুবিস্তৃত এলাকা। এই মরুভূমির সূক্ষ্ম বালুকণা নিরন্তর বায়ু বাহিত হয়ে জমা হচ্ছে পূর্বোত্তর অংশের জনবহুল এলাকায়। আরাবল্লি একটি প্রাকৃতিক প্রাচীর। সুদীর্ঘ সময় ধরে এই পার্বত্য প্রাচীর একদিকে যেমন মরুভূমির প্রসার রোধ করেছে, তেমনি গরম হাওয়ার দাপট থেকে রক্ষা করছে পর্বতের পূর্ব প্রান্তের সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষকে। দেশের রাজধানীকে রক্ষা করার পেছনে এই পর্বতমালার উত্তর প্রান্তীয় অংশ দিল্লি রিজ এর ভূমিকা অপরিসীম। দিল্লির পরিবেশ ভারসাম্য একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে – উন্নয়নের প্রবল জোয়ারে এখন দিল্লির বাতাস, পৃষ্ঠীয় নদীজল, মাটির গভীরে থাকা ভৌম জল, মাটি সব আজ প্রবল ভাবে দূষণের শিকার। যেতার ওপর আরাবল্লির অপসারণ, যা দিল্লির ফুসফুস নামেই সমধিক পরিচিত, কফিনের শেষ পেরেক হয়ে উঠবে বলেই আশঙ্কিত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। তাঁদের প্রশ্ন – দিল্লির গরিমা কি এবার চিরতরে অস্তমিত হবে? সরকারের তৈরি করা সংজ্ঞায় সায় দেবার আগে মাননীয় বিচারপতিরা এই সব ওৎ পেতে থাকা সমস্যা সম্পর্কে খুঁটিনাটি খোঁজখবর নিয়েছেন? রায় শুনে কিন্তু এমনটা কখনোই মনে হচ্ছেনা।পৃথিবী আজ এক ঘোরতর সংকটের মধ্যে রয়েছে – বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তন। কি আশ্চর্য আহাম্মকি আমাদের! গোটা দুনিয়ার নানান প্রান্তে যখন মরুভূমির সক্রিয় আগ্রাসনকে প্রতিহত করতে গ্রীন বেরিয়ার বা সবুজ প্রাকার তৈরির নিরলস প্রচেষ্টা চলছে তখন আমাদের বিকশিত ভারতে পাহাড় উপড়িয়ে, বনাঞ্চল নিকেশ করে, আবাসিক মানুষদের উৎখাত করে শ্মশান তৈরির কাজ চলছে। সত্যিই সেলুকাস! কি বিচিত্র এই দেশ! গোটা দুনিয়া এখন যে পথে হাঁটছে, আমরা তার উল্টো দিকে হাঁটতে চাইছি কেবলমাত্র বস্তাপচা উন্নয়নের বাহানায়।
১৯৯২ সালে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশের সমস্ত বনভূমি এবং ইকো সেন্সিটিভ অঞ্চলকে সংরক্ষণের আওতায় আনার কথা বলেছিল টি এন গোদাবর্মন বনাম তৎকালীন তামিলনাড়ু সরকারের মামলার রায়ে। দুর্ভাগ্যের বিষয় বর্তমান সরকার এই আইনের তোয়াক্কা না করেই নিজেদের তৈরি নতুন আইনের দৌরাত্ম্যে গোটা এলাকা তছনছ করার ফন্দি করেছে। আরাবল্লিকে ঘিরে রেখেছে সব তথাকথিত ডবল ইঞ্জিনের সরকার – দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং গুজরাট। এরফলে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সায় দিতে বিন্দুমাত্র সংশয়ী নয় এই সব রাজ্যের সরকারগুলো। হরিয়ানার সরকার ইতোমধ্যেই নোটিফিকেশন জারি করে আরাবল্লির কিছু অংশকে “নন্ ফরেস্ট” এলাকা বলে ঘোষণা করেছে।সরকারের মাথার মধ্যে বনবনিয়ে ঘুরছে উন্নয়নের রেকর্ড। তারজন্য চাই জমি। অতয়েব গাছ কেটে, জঙ্গল , পাহাড় সাফা করে পরিবেশের কথা উপেক্ষা করেই হচ্ছে এইসব। সরকার এখন নতুন জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার নামে ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর, SEZS এমন সব গালভরা শব্দের আমদানি করছে যা আদতে পরিবেশ বিনাশের ছল মাত্র। পরিবেশ নষ্ট করলেই GDP বাড়বে? এইসব ছেদো যুক্তি দিয়ে আরাবল্লিকে লোপাট করার পরিকল্পনা। খাদানের জন্য, লাভজনক রিয়াল এস্টেটের জন্য সস্তায় জমি হাসিলের চক্রান্ত। এভাবে জমি উজাড় করে তা সস্তায় তুলে দেওয়া হবে রিয়াল এস্টেটের কারবারি আর খনি মাফিয়াদের হাতে। এদের হাতে পড়ে দেশের অমূল্য সম্পদ লোপাট হয়ে যাওয়াকে উন্নয়ন বলে মেনে নিতে হবে? ভিখু,সুখুদের কী হবে? যাঁরা কয়েক পুরুষ ধরে আগলে রেখেছে আরাবল্লিকে নিজেদের মায়ের মতো করে পরম মমতায়! নাকি এঁদের রক্ষা করার জন্য সামান্য দায়বদ্ধতা নেই এইসব পাপেট সরকারের? পরিবেশ মন্ত্রী মাননীয় ভূপেন্দ্র যাদবজী জানাচ্ছেন – “এই সব কর্মকাণ্ডের ফলে আরাবল্লির মূল কাঠামোর কোনো রকম ক্ষতি হবে না। সরকার ইকোনমি আর ইকোলজিকে সঙ্গে নিয়েই চলতে চায় ।” তালিয়া,তালিয়া।এসব কথা যে নিছকই মুখের কথা, অন্তরের কথা নয় তা মনে করেন না এই এলাকার সাধারণ গুজ্জর এবং মিনা জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। মনে করেন না দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষজনও । একের পর এক ঘটনা থেকে এই বিষয়টি পরিষ্কার যে তথাকথিত উন্নয়ন হলো কতিপয় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের পকেট ভরার উন্নয়ন। আরাবল্লিকে উচ্ছন্নে পাঠিয়ে এই এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পছন্দের শিল্পগোষ্ঠীর একাধিপত্য কায়েম করতেই এই আরাবল্লি মডেলের ছক কষেছে সরকার। মনে রাখতে হবে এমন ঘটনা ঘটছে দেশের অন্যত্রও। গণ সচেতনতাই পারে এমন আত্মঘাতী প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে।ভিখু, তুমি চিন্তা করোনা। আমরা কথা দিচ্ছি হঠাৎ করে মেঘলা হয়ে যাওয়া তোমার স্বপ্নের আকাশে আমরা নতুন ভোরের সূর্যোদয় ঘটাবো।
সুপ্রিম কোর্টকে অতি প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণ করেন, এ’ বিশ্বাস আরো বদ্ধমূল হল। আগামীদিনের জন্য প্রকৃতিকে রক্ষা করার চাইতে এদের কাছে অনেক জরুরী হল ব্যক্তিগত স্বার্থ, মুনাফা আর ক্ষমতা দখল।
সমস্ত কিছুর ওপরই নিয়ন্ত্রণের খাঁড়া নামিয়ে আনা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গঠনের সংজ্ঞাও এখন নির্ধারিত হচ্ছে আদালতের সিদ্ধান্তে। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে সন্দেহাতীতভাবে।
Abhradeep Roy
2 months ago
ভয়ংকর দিন আসছে। আরাবল্লী উজাড় হয়ে গেলে মরুভূমি সম্প্রসারণের জন্য দিল্লির পতন অনিবার্য, হরপ্পা সভ্যতার মতো। আরও আশঙ্কার কথা যে থর মরুভূমির বালুকারাশি যত সহজে বাতাসে ভেসে হিমালয়ের দিকে যাবে তত হিমালয়ের উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হবে, গাঙ্গেয় সমভূমি প্লাবিত হবে অচিরেই। ক্ষণিকের মুনাফার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোর কথা কি দেশের হর্তাকর্তারা কেউ আদৌ ভেবে দেখে না?
যে সহজ সত্যটাকে আমরা বুঝতে পারি, তথাকথিত প্রশাসনিক কর্তারা উপলব্ধি করতে চাননা। হরপ্পা সভ্যতার পতনের পেছনে ঐতিহাসিকরা পরিবেশের অবনমনের বিষয়টিকে অন্যতম কারণ হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। এতকাল পরে আমরা সেই আত্মঘাতী পথেই হাঁটছি।কি আশ্চর্য সমাপতন! পরিণতি কী করে আলাদা হবে?
ভাবতে হবে।
কখনো আমার প্রপিতামহকে দেখলে প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাস জেনে নেবেন আর্যরা বহিরাগত ছিলেন কিনা মনুদেব তখনো বৌ পেটাতেন কিনা জেনে নেবেন কখনো আমার পিতামহকে দেখলে পরাধীন
“ধরনা মঞ্চ” আজ সন্ধের পর উঠে গেল, বঙ্গজীবনে এর তুল্য দুঃসংবাদ, সাম্প্রতিককালে, খুব একটা আসেনি। রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের ভাষণ নিয়ে বেশী কিছু বলার থাকে না, তাই
আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।
সুপ্রিম কোর্টকে অতি প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণ করেন, এ’ বিশ্বাস আরো বদ্ধমূল হল। আগামীদিনের জন্য প্রকৃতিকে রক্ষা করার চাইতে এদের কাছে অনেক জরুরী হল ব্যক্তিগত স্বার্থ, মুনাফা আর ক্ষমতা দখল।
সমস্ত কিছুর ওপরই নিয়ন্ত্রণের খাঁড়া নামিয়ে আনা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গঠনের সংজ্ঞাও এখন নির্ধারিত হচ্ছে আদালতের সিদ্ধান্তে। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে সন্দেহাতীতভাবে।
ভয়ংকর দিন আসছে। আরাবল্লী উজাড় হয়ে গেলে মরুভূমি সম্প্রসারণের জন্য দিল্লির পতন অনিবার্য, হরপ্পা সভ্যতার মতো। আরও আশঙ্কার কথা যে থর মরুভূমির বালুকারাশি যত সহজে বাতাসে ভেসে হিমালয়ের দিকে যাবে তত হিমালয়ের উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হবে, গাঙ্গেয় সমভূমি প্লাবিত হবে অচিরেই। ক্ষণিকের মুনাফার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোর কথা কি দেশের হর্তাকর্তারা কেউ আদৌ ভেবে দেখে না?
যে সহজ সত্যটাকে আমরা বুঝতে পারি, তথাকথিত প্রশাসনিক কর্তারা উপলব্ধি করতে চাননা। হরপ্পা সভ্যতার পতনের পেছনে ঐতিহাসিকরা পরিবেশের অবনমনের বিষয়টিকে অন্যতম কারণ হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। এতকাল পরে আমরা সেই আত্মঘাতী পথেই হাঁটছি।কি আশ্চর্য সমাপতন! পরিণতি কী করে আলাদা হবে?
ভাবতে হবে।