বয়স যে একালে কোনো সমস্যা নয় সে কথা নতুন করে প্রমাণ করলেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শ্রী দ্বিজেন্দ্রনাথ ঘোষ। সরকারি নিয়ম মেনে অবসর গ্রহণ করেছেন আজ থেকে দেড় দশকেরও আগে। কিন্তু সেই যে চক্ ডাস্টার ব্ল্যাকবোর্ডের পাশাপাশি একদল স্বপ্ন আর জিজ্ঞাসাভরা মুখ আর চাহনি নিয়ে ক্লাসঘরের বাধা চৌখুপীর মধ্যে হাজির নবীন শিক্ষার্থীদের প্রেমে মজেছিলেন, সেই টান এখনও ছাড়তে পারেননি। আর পারেননি বলেই অবসর গ্রহণের পর সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে পূর্ব বর্ধমান জেলার বসন্তপুর গ্রামে সমাজের সুযোগ না পাওয়া ঘরের ছেলেমেয়েদের জন্য সরকারি সহায়তায় গড়ে তুলেছেন এক অবৈতনিক বিদ্যালয়।
নিজের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে খুব ঢাক পেটানো প্রচারে তীব্র অনীহা দ্বিজেন্দ্রনাথ বাবুর। তাই জিজ্ঞাসু সাংবাদিকরা যখন তাঁকে তাঁর এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে কিছু বলতে অনুরোধ করেন তখন তিনি প্রবল কুন্ঠার সঙ্গে বলেন –
“ আমার মতো একজন ৭৬ বছর বয়সী অতি সাধারণ প্রবীণ মানুষের সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন বলে প্রথমেই আমি আপনাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি যে সামান্য কাজটুকু করতে পেরেছি তার সবটাই এইসব মৌন ম্লান মুখের মানবকদের মুখে ভাষা ফোটাতে। ওরাই আমাকে এই বয়সেও সচল সক্রিয় রেখেছে।”
বসন্তপুর জুনিয়র হাইস্কুলটিকে ঘিরেই দ্বিজেন্দ্রনাথ ঘোষ অনেক স্বপ্ন দেখেন। তাঁর বার্ধক্য শরীরে মুখের হাসিটুকুই যে আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে বসন্তপুর সহ আশেপাশের গ্রাম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সামনে। আসুন আমরা জেনে নিই তাঁর কথা , তাঁর অনবদ্য কর্মপ্রচেষ্টার কথা।
“বসন্তপুর গ্রামেরই এক অতি সাধারণ দরিদ্র পরিবারে আমার জন্ম। ছোটোবেলা থেকেই দারিদ্র্য আর কষ্টের মধ্যে আমার বেড়ে ওঠা। দুবেলা দুমুঠো ভাতের জোগাড় করতেই আমাদের কালঘাম ছুটে যেত, পড়াশোনার কথা তখন মনে হতো এক বিলাসী স্বপ্ন। আমি বুঝতে পারছিলাম যে আমার মতো গরীব পরিবারের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত একজন কিশোরের পক্ষে নিজেকে প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত করা কতটা কঠিন। আমি হাল ছাড়িনি। নিজেকে কঠিন লড়াইয়ের ময়দানে টিকিয়ে রেখে, মনের ভেতরে বাড়তে থাকা ইচ্ছে আর স্বপ্নকে আমি আগলে রাখতে পেরেছিলাম সংগোপনে। আর হয়তো তাই ,কিছু না পাওয়া দরিদ্র পরিবারের মানুষদের দুঃখ কষ্টকে বুঝে নিতে আমার কোনো বাড়তি অনুশীলনের প্রয়োজনই হয়নি।”
নিজের সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে হেসে ফেলেন তিনি।
আমাদের দেশে নিজের উদ্যোগে কিছু করার মানুষের সংখ্যা বেশ কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখে আড়ালে থাকতে পছন্দ করি আমরা। আর এই কারণেই দ্বিজেন্দ্রনাথ ঘোষ এর মতো মানুষ অনন্য হয়ে ওঠেন। খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর নৈতিক কর্তব্য। “ আমি যদি দিনরাত কাজ আর পরিশ্রম করে এই অসম ব্যবস্থাটাকে বদলানোর সামান্য চেষ্টাটুকু না করতাম তাহলে আমার গ্রামের দরিদ্র, অসহায় পরিবারের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শেখার সামান্য সুযোগ থেকে চিরকাল বঞ্চিতই থেকে যেত। তাছাড়া আমার গ্রামে শিক্ষা প্রসারের জন্য আমি উদ্যোগী না হলে অন্য কেউ এগিয়ে আসবে কেন?” ঘোষ মশাইয়ের সহজ সরল অকপট যুক্তি।
জমিতে চাষ করার আগে যেমন কৃষককে শরীরে ও মনে প্রস্তুতি নিতে হয় , দ্বিজেন্দ্রনাথ সে ভাবেই তিলতিল করে গড়ে পিটে নিয়েছিলেন নিজেকে। সেই “আপনি আচরি ধর্মের” নীতি। তাঁর ঝুলিতে জমা রয়েছে ইংরেজি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সহ , শিক্ষা বিজ্ঞানের ব্যাচেলর ডিগ্রি। এই পুঁজিকে পাথেয় করে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
“১৯৭৫ সালে আমি জামালপুর হাই স্কুলে সহ শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। ২০০৮ সালে সুদীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করার পর অবসর গ্রহণ করি। আসলে এটাও ছিল আমার কাছে এক প্রস্তুতির পর্ব। আর ঐ মুহূর্তে আমার নিজেকে আর্থিক দিক থেকেও একটা জায়গায় পৌঁছাতে হতো।”
— তাঁর জবানবন্দি।
প্রদীপ জ্বালানোর আগে যেমন সলতে পাকিয়ে নেওয়া দরকার ঠিক সেভাবেই তিনি শুরু করলেন। নিজের পড়াশোনার পাট মেটার পর গ্রামের আরও পাঁচ বন্ধুর সহায়তায় গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য গড়ে তুললেন এক বিদ্যালয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারলেন যে অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলে কোনো প্রয়াসই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেনা। নিজেদের বিদ্যালয়টিকে যথোপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হলে নিজেদের তরফে অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু সেই সময় তাঁর নিজের কাছে যথেষ্ট অর্থ ছিলনা । তাছাড়া নিজের সংসার প্রতিপালনের দায়িত্বও তাঁর ওপর এসে পড়েছিল। এই অবস্থায় তিনি নিতান্তই নিরুপায় হয়ে চাকরি জোগাড় করতে উদ্যোগী হলেন । ফলে গ্রামের সেই ছোট্ট স্কুলটির সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেকটাই কমে গেল। মন থেকে না চাইলেও তিনি পরিস্থিতির কারণে নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তোলা স্কুলটি থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। যদিও তাঁর মন জুড়ে তখন জামালপুরের পাশাপাশি বসন্তপুরের ছোট্ট পাঠশালাটিও বিরাজমান ছিল।
“আমি কুন্ঠিত হই এ কথা বলতে যে ,জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমার সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্যকে ছেড়ে একান্ত ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে আমাকে প্রাধান্য দিতে হয়েছিল। আমি এমনটা কখনোই চাইনি। এই সিদ্ধান্তর বিষয়টি আজও আমাকে দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে ফেরে। অবশ্য আমি জানতাম যে সমাজের কাছে নিজের দায়বদ্ধতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আর একটা সুযোগ আমি অবশ্যই পাব । আমি হাল ছাড়িনি, বরং আমি আশাভরা হৃদয় নিয়ে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম।”
–দ্বিজেন্দ্রনাথ বাবু এই কথাগুলো বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে যান।
“২০০৮ সাল সেই কাঙ্খিত সময়টি এসে যেন আমার দরজায় এসে কড়া নাড়লো। আমি আমার রোজগেরে কর্মজীবন থেকে মুক্তি পেলাম ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণের সুবাদে। জামালপুরের পাট চুকিয়ে আমি ফিরে এলাম সেই বসন্তপুরে যেখানে আমার নির্মাণের পর্ব কেটেছে।”
– তাঁর কথায় অন্য এক নির্মাণের প্রত্যয়।
ফিরে তো এলেন, কিন্তু এসে প্রথমে একটু মুষড়েই পড়তে হয় তাঁকে। এসে দেখেন অবস্থার বিশেষ কিছু পরিবর্তন হয়নি। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাবার পর, নতুন করে আর কোনো বিদ্যালয় তৈরি করা হয় নি। আশপাশের গ্রামেরও একই দশা।
“গ্রামের ভেতর স্কুল না থাকায় ছেলেমেয়েদের দূরে যেতে হচ্ছে। অর্ধেকের বেশি ছাত্র ছাত্রী মাঝপথেই পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দেওয়ার জন্য স্কুলছুটের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে অত্যধিক হারে। গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশই দুর্বল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর পরিবারের সন্তান। জাতি বর্ণের বিভাজন এদের সামাজিক তথা অর্থনৈতিকভাবে আরও দূরে সরিয়ে রেখেছে। ফলে এদের শিক্ষার অঙ্গনে পুনরায় ফিরিয়ে আনা মোটেও সহজ কাজ ছিলনা।”
কিন্তু দ্বিজেন্দ্রনাথ ঘোষ মশাই হাল ছাড়েননি।
তিনি প্রথমে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন যাতে গ্রামে একটি জুনিয়র হাইস্কুল স্থাপন করা হয়। তিনি সমস্ত রকম তথ্য নিয়ে রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দিনের পর দিন ছোটাছুটি করে অবশেষে ২০১০ সালে সরকারি উদ্যোগে গ্রামে বিদ্যালয় তৈরির অনুমোদন আদায় করেন।
“কিন্তু সরকারি দফতরে কাজকর্ম চলে শামুকের গতিতে।পদে পদে নিয়মের গেড়ো। স্থানীয় সরকারি দলের নেতারা অনেকেই আমার কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিদ্যালয় তৈরির কাজের তদারকি করেছি। সমাজের তথাকথিত মাতব্বররা সহায়তা না করলেও গ্রামের সাধারণ মানুষেরা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সবসময়। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০১৪ সালে স্কুলটিতে পঠনপাঠন শুরু করা সম্ভব হলো।”
পঠনপাঠন তো শুরু হলো কিন্তু সমস্যা পিছু ছাড়লো না। বাড়ি হলো, ক্লাসঘর হলো, ছাত্রছাত্রীও জুটে গেল বেশ কিছু, কিন্তু তাদের শেখাবে,পড়াবে কে? সরকারি কর্মকর্তাদের এই এক মজা, স্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ প্রায় বন্ধ। সংগঠক শিক্ষক হিসেবে দ্বিজেন্দ্রনাথ বাবু হয়তো কিছুটা সামলে নেবেন কিছুদিন কিন্তু তারপর? এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বেতনহীন শিক্ষক রূপে কাজ করে চলেছেন। এমন মাগ্গি গণ্ডার দিনে বিণা বেতনের অথবা স্বল্প বেতনের শিক্ষক মিলবে কোথায়? বসন্তপুরের মতো ছোট্ট প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষকতা করার জন্য কাকেই বা পাওয়া যাবে ? এদেশে সরকারি স্কুলে কাজ করার মতো শিক্ষকের বিপুল ঘাটতি রয়েছে। ইউনেস্কোর সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভারতে এক মিলিয়নেরও বেশি সংখ্যক শিক্ষকের বিপুল ঘাটতি রয়েছে।
“বসন্তপুর স্কুলে এখন চারজন শিক্ষক আছেন, তবে সকলেই অস্থায়ী। স্কুলে এখন ১৪০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তবে জোয়ার ভাটার মতো এই সংখ্যাটাও পরিবর্তনশীল। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়লে শিক্ষকের সংখ্যা গাণিতিক নিয়মে বেড়ে যায়। প্রথম যখন আমার স্কুল শুরু করেছিলাম তখন ছাত্রছাত্রী ছিল ৪০ জন,আজ তা বেড়ে হয়েছে ১৪০জন। বিষয়টি অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক। এই গ্রাম ছাড়াও আশপাশের গ্রামেরও ছাত্রছাত্রীরাও এখানে পড়তে আসছে। স্কুলছুটের সংখ্যা এখন শূন্য,কিন্তু স্থায়ী শিক্ষক না পেলে কতদিন এই ধারা বজায় রাখতে পারবো আমরা জানিনা।”
দ্বিজেন্দ্রনাথ বাবুর গলায় তীব্র হতাশার সুর ঝরে পড়ে।
সরকারি সাহায্য কিছু পান না? প্রশ্ন শুনে খানিকক্ষণ চুপ করে থাকেন দ্বিজেন্দ্রনাথ। তারপর ধীর কন্ঠে বলেন – “একদম পাইনা সে কথা বললে তো মিথ্যে বলা হবে,পাই প্রতিবছর ২৫০০০টাকা অনুদান মেলে। এই সামান্য টাকায় স্কুলের কোনো প্রয়োজনই ঠিকঠাক মেটাতে পারিনা। তবুও রক্ষণাবেক্ষণের পেছনেই অনেকটাই ব্যয় হয়ে যায়। এর থেকে শিক্ষকদের বেতন দেবার মতো কিছুই থাকে না। কোনো রকম ভাবে চলছে।”
স্কুল সহ সামগ্রিক শিক্ষা পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে দ্বিজেন্দ্রনাথ বাবুর আশাবাদী কন্ঠেও খানিকটা হতাশার আভাস পাওয়া যায়।
“স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুব আশাবাদী নই , কেননা চারপাশের সমাজে এখনও জমাট বাঁধা অন্ধকার। আমি কতদিন এই ছোট্ট প্রতিষ্ঠানকে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবো জানিনা। তবে বিশ্বাস করতে ভালো লাগে যে স্কুল চালু থাকলে, ছেলেমেয়েরা স্কুলে এলে সমাজের অন্ধকার অনেকটাই হালকা হয়ে যাবে। আমাদের স্কুলে অনেক মেয়েরা পড়তে আসছে। এটা অবশ্যই আনন্দের খবর। পাশাপাশি যখন ভাবি যে স্কুলটা বন্ধ হয়ে গেলে ঐ মেয়েদের বাপ মায়েরা ওদের বিয়ে দিয়ে দেবে এই নাবালিকা বয়সে, তখন রীতিমতো আৎকে উঠি। তবে বিশ্বাস করি যে স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকারা এলে তাঁরা নতুন করে হাল ধরবেন। সমস্যার জট কেটে যাবে। আমি তদবির করে যাচ্ছি সমানে। হয়তো এবার আমাদের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে।”
কথা হলো উত্তম বাবুর সঙ্গে। বসন্তপুর স্কুলে তিনি এক আমন্ত্রিত অবৈতনিক স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন এই এক বছর হলো । তাঁর কথায়, “ আমি ঘোষ স্যারকে দেখে প্রাণিত হয়েছি। তাঁকে দেখেছি কীভাবে নিরলস শ্রমে তিনি এই স্কুলটাকে আগলে রেখেছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিণা বেতনে এখানে পড়িয়ে যাচ্ছেন কেবলমাত্র ছেলেমেয়েদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে। আমরা অতি সামান্য সাম্মানিক পাই। কিন্তু ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমরা আটকে রয়েছি। অন্তত একজন স্থায়ী শিক্ষক খুব দরকার।”
ফিরে আসার আগে দ্বিজেন্দ্রনাথ বাবুকে জিজ্ঞাসা করলাম, “বিনা বেতনে এতদিন ধরে পড়াচ্ছেন, নিজেকে মোটিভেট করেন কীভাবে?” এবার হো হো করে হেসে ওঠেন তিনি। তারপর আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“ওদের মুখ আর চোখে আমি আলোর ঝলকানি দেখতে পাই।এর থেকে বড়ো সাম্মানিক কিছু আছে নাকি? এই পাওয়ার আনন্দই একজন শিক্ষকের সেরা বেতন, অনেক অপ্রাপ্তির মধ্যে সেরা প্রাপ্তি।”
এরপর আর কথা হয় না । ভরপুর প্রাপ্তির আনন্দ আমাকেও ছুঁয়ে যায়। সেই আনন্দ পথ পাড়ি দিয়ে আমিও এক নতুন উপলব্ধির স্তরে পৌঁছে যাই এক লহমায়।
তথ্যসূত্র / ছবি
- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা
- Better India Report
কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি এই দুই সংস্থার কাছে।
১৬, জুলাই,২০২৪
















এমন মানুষ আছেন বলে পৃথিবী এখনও চলছে। মাস্টারমশাই সবাই হয়ে উঠতে পারেন না। দ্বিজেন্দ্রনাথ ঘোষ পেরেছেন,তাই তিনি প্রনম্য। খুব ভালো লাগলো।