উত্তরাখণ্ড, হিমাচল, পঞ্জাব একে একে বিধ্বস্ত হয়েছে বন্যায়। এবার উত্তরবঙ্গ, সিকিম, ভূটান, নেপাল গেল। লক্ষণ যে খুবই খারাপ, তা বোঝার জন্য খুব বেশি পড়াশোনার প্রয়োজন হয় না। এবছর লা নিনার কারণে একটু বেশি হচ্ছে হয়ত, কিন্তু সবটা শুধু ওই কারণে নয়। এল নিনো অথবা লা নিনাকে অজুহাত বানিয়ে বালিতে মুখ গুঁজে থাকলেও সাধের উটপাখি ডুবে যাবে। পাহাড়, পরিবেশ সব ধ্বংস করে মিথ্যা উন্নয়নের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা বেশিদিন টিকতে পারে না। “অতি লোভে তাঁতী নষ্ট।” এই প্রচলিত কথাটুকু মনে রাখা প্রয়োজন।
কদিন আগে কোলকাতা জলে ডুবে থাকার অভিজ্ঞতার একটা সামান্য আভাস পেয়েছে। মুম্বাইও এসব জানে। ক’বছর বাদে হয়ত কোলকাতা শহর স্থায়ীভাবে জলের আড়ালে মুখ লুকোবে যাবতীয় কার্নিভাল সমেত। মুম্বাইও হয়ত ডুবে যাবে। তার আগেই হয়ত আমরা শহরের প্রতিটি ইঞ্চি সিমেন্টে বাঁধিয়ে ফেলব। সহস্রাব্দ পরের প্রত্নতাত্ত্বিকরা মাটি খুঁড়ে বের করবেন গঙ্গার পাড়ে এক আজব শহরের কঙ্কাল, যেখানে আদৌ কোনো মাটি ছিল না।
আর হ্যাঁ, কোলকাতা ডুবে গেলে খবরের চ্যানেলে যদি ক্রমাগত দেখাতে থাকে দিল্লি বা লন্ডন থেকে সফরে আসা কয়েকজনের আটকে পড়ার খবর আর না দেখায় আপনার অসুবিধার কথা? কেমন লাগবে? উত্তরবঙ্গও শুধুমাত্র পর্যটকদের বিনোদনমঞ্চ নয়, সেখানে মানুষ থাকেন… অনেক মানুষ। উৎসবপ্রিয় শহর সেকথা ভুলে যায়। কার্নিভাল কখন আপনাকে ক্যানিবাল বানিয়ে দেবে, টেরও পাবেন না।











