★বহ্নিশিখা প্রীতিলতা★
সুস্মিতা গুহ মজুমদার
পৃষ্ঠা ৯৬
হার্ড বাইন্ডিং
মূল্য ৯০ টাকা। ছাড় দিয়ে ৭০টাকা
প্রণতি প্রকাশনী
নতুন বছরে ছোটোদের হাতে তুলে দিন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ
। বাংলা বই। এর চেয়ে মূল্যবান উপহার আর হয় না।
এটা ২০২৬। আমরা যারা এই সময়ে আছি, ১০০ বছর আগের মানুষ সেভাবে কাটানোর কথা সুদূর কল্পনাতেও ভাবতে পারতেন না। চিকিৎসাশাস্ত্রে, যোগাযোগ ব্যবস্থায়, কৃষি ক্ষেত্রে, বিনোদন জগতে আমাদের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।
কিন্তু চাকচিক্যের নীচে শতাব্দীর অন্ধকার। সে অন্ধকার ঘোচেনি, বরঞ্চ আরও চিটচিটে হয়েছে। ১০০ বছর আগের মানুষ ভাবতে পারত না একজন মহিলা চিকিৎসক তাঁর নিজের কর্ম ক্ষেত্রে অত্যাচারিতা হচ্ছেন। তারপর তাকে নিষ্ঠুরভাবে খুন করা হচ্ছে। যাবতীয় প্রমাণ কে তুড়ি মেরে অপরাধী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আমরা কি আদৌ এগিয়েছি। জানিনা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একশ বছর কেটে গেছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমাদের দোরগোড়ায়।
চুল না ঢেকে রাখার অপরাধে কোনো রাস্ট্র মেয়েদের ফাঁসি দিচ্ছে। কুমারী মেয়েকে হত্যা করলে তারা বেহেস্তে যাবে, তাই রাষ্ট্রের অনুমোদনে আইনরক্ষকরা তাদের হত্যা করার আগে অত্যাচার করছে।
কোন রাষ্ট্রে মেয়েদের গৃহবন্দী করে ফেলা হয়েছে। তারা স্কুলে যেতে পারবেনা, কোনরকম উপার্জন করতে পারবে না, আপাদমস্তক না ঢেকে পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবে না।
সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এক শতাব্দী আগের প্রীতিলতার কথা শুনলে রূপকথা বলে মনে হয়। সাধারণ চেহারার কালো মেয়ে, যাদের পরিবারে মেয়েদের পড়াশোনার চল ছিল না, তিনি কিভাবে তখনকার সবচেয়ে শক্তিশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
তিনি বেঁচে ছিলেন মাত্র একুশ বছর। কিন্তু একুশ বছরের প্রতিটি দিন তিনি নিজের ইচ্ছামত বেঁচেছেন। বাঁচার মতো বাঁচা।
ইচ্ছামত মানে কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতা নয়। যাই করেছেন, সোনা ফলিয়েছেন। জেদ ধরে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। তিনি আই এ পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে মেয়েদের মধ্যে প্রথম আর সম্মিলিত মেধাতালিকায় পঞ্চম হন।
অত্যন্ত শান্তশিষ্ট নম্র ভদ্র প্রীতিলতার ভিতরে ছিল আগুন। সে আগুনে নিজেই হয়ে উঠেছেন ইস্পাতের ঝকঝকে তলোয়ার। ভাষণ নয়, নিজের প্রাণের বিনিময়ে তিনি বাঙালী মেয়েদের ঘরের বার করতে চেয়েছেন। তিনি পুরুষ বিপ্লবীদের সাহায্যকারী নন, তাঁদের আশ্রয়দাত্রী নন, তাঁদের অনুপ্রেরণা নন, তাঁদের কমরেড হতে চেয়েছেন।
তিনি জানতেন ভয়ে ভয়ে বাঁচার থেকে, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে মরে যাওয়াই আসলে সত্যিকারের বাঁচা। চট্টগ্রামে ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের আগের দিন মাকে যে চিঠি লিখেছিলেন, তাতেই স্পষ্ট বোঝা যায় তিনি শহীদ হতে চেয়েছিলেন। যেই শহীদ ভারতের সব মেয়ের বুকে স্বাধীনতার আগুন জ্বেলে দেবে। যাবতীয় শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা।
যতদিন না তা হচ্ছে, ততদিন প্রীতিলতার ওয়াদ্দেদারের কথা আমাদের বারবার বলে যেতে হবে। বিশেষত কিশোর কিশোরীদের কাছে। তার একুশ বছরের জীবন, তার জীবন বোধ, তার অসাধারণ মেধা, তার অবিস্মরণীয় লেখা সব কিছুর সাথে পরিচিত হোক এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। তাকে আদর্শ করে এগিয়ে চলুক৷
প্রীতিলতা চেয়েছিলেন নিজের জীবনের বিনিময়ে হাজার হাজার প্রীতিলতার জীবনে আলোক বর্তিকা হয়ে উঠতে। সেই আলো অনির্বাণ রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
বইটি প্রকাশিত হয়েছে পয়লা বৈশাখ, ১৪৩৩ শে।











