সুধী পাঠক, লেখার শুরুতেই খটোমটো দু একটা অপরিচিত শব্দ দেখে লেখাটা এড়িয়ে যাবেন না কারণ এটি জনস্বার্থে প্রচারিত। ১৯২২ সালে গবেষক ওয়ালথার স্প্লিলমেয়ার মাথার একটা বিদঘুটে ব্যামো আবিষ্কার করেন এবং দুই জার্মান নিউরোলজিস্ট হানস ক্রুজ্ফিল্ড এবং আলফোনস জ্যাকব এর নামে অসুখটার নামকরণ করেন, CJ ডিজিজ। এই অসুখটা জনস্বাস্থ্যের চর্চায় আবার ফিরে আসে ১৯৮০ এবং ৯০ এর দশকে।
ওই সময় বিলেতে কিছু গরু এবং কিছু মানুষ মাথার ব্যামোতে ভুগে মারা যান। দেখা গেল যে গরুদের মধ্যে যে অসুখটা হয়েছে তার পোশাকি নাম বোভাইন স্পঞ্জিফরম এনসেফ্যালোপ্যাথি বা BSE যার জনপ্রিয় নাম হল ম্যাড কাউ ডিজিজ। বিজ্ঞানীরা জানালেন যে এটা আসলে ঐ সিজে ডিজিজেরই ছোটভাই, মানুষের বদলে গরুর মধ্যে হয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে আরো জানা গেল যে বেচারি নিরীহ গরু গুলি একটি বিশেষ ধরনের গো খাদ্য খেয়ে ই অসুস্থ হয়েছে যার নাম মিট এন্ড বোন মিল বা MBM।
মোদ্দা কথা কিছু ব্যবসায়ী গরুগুলিকে গায়েগতরে নাদুসনুদুস করার জন্য এমন খাবার খাইয়েছে যাতে গরুর মাংসের ছাট ও হাড়ের টুকরো মেশানো আছে। গরুকে গরুর মাংস খাওয়ানোর মতো অশৈলী কাজকম্ম করার জন্য ই ওই মহামারী।
আজ সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম কলকেতার এক নামি রেস্তরাঁয় একটি গরুকে নাকি ইচ্ছে করে সেই রেস্তোরার ওয়েটার গরুর মাংস খাইয়ে দিয়েছে। গরুটা নাকি আসলে মাটন খেতে চেয়েছিল, খিদের মুখে বুঝতে পারেনি যে সে আসলে বিফ খাচ্ছে। খবরটা পড়া ইস্তক খুব চিন্তায় আছি। সময়টা খারাপ যাচ্ছে। চারদিকে বিদঘুটে সব অসুখ হচ্ছে এই তো দুদিন আগেই বাদুড়ের হিসু থেকে ছড়ানো নিপা অসুখ হয়ে দুজন মরমর হয়েছিল (একজন সুস্থ হয়ে ছুটি পেয়েছে)। এর মধ্যে আবার যদি ঐ সব BSE বা CJ ডিজিজের প্রাদুর্ভাব হয় তাহলে তো গেছি।
তাই শহরের সব রেস্তোরাঁ মালিকদের কাছে অনুরোধ আপনারা দয়া করে গরুদের বিফ বা মাটন, কোনো ধরনের মাংসই সার্ভ করবেন না, ওদের কেবল ঘাসপাতাই খেতে দেবেন প্লীজ। আর গরুদের বলি, তোমরা ভাই ঘাসপাতা ছেড়ে মাটন তো বটেই কোনো ধরনের মাংসই খেতে যেও না। গরু রা গরু খেলে তো বটেই এমনকি মাটন খেলেও তাদের জাত যায় বলে গেছেন ক্রুজ্ফিল্ড আর জ্যাকব নামের দুই খাঁটি আর্য ঋষি।












দূর্দান্ত! ইন্টেলেকচুয়াল স্ল্যাপ একটা।😏😎😂
খুব ভালো।