সরকারি হাসপাতালগুলোতে PPP মডেলে একাধিক পরিষেবা চলছিল বেশ রমরমিয়ে। এবারে সরাসরিভাবে সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণভাবে প্রাইভেট চিকিৎসা সরকারি ভাবে চালু করে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেসরকারিকরণের পথে পাকাপাকি ভাবে নামল পশ্চিমবঙ্গ সরকার । রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নোংরা রাজনীতির ক্রীড়াক্ষেত্রে নামিয়ে আনা হলো প্রাইভেট কেবিন এর উদ্বোধন এর মাধ্যমে । SSKM এর Woodburn 2 ওরফে অনন্য বিল্ডিং এ এখন থেকে বেসরকারি হাসপাতলের ধাঁচে ৩৫০ টাকা দিয়ে প্রাইভেট ওপিডি এবং ৫০০০ টাকা দিয়ে প্রাইভেট কেবিন এর ‘ সু ‘ বন্দোবস্ত করেছে রাজ্য সরকার ।
এই বন্দোবস্তটা ঠিক কি উদ্দেশ্যে, তা আমাদের কাছে খুব স্পষ্ট। চিকিৎসা পরিষেবা কে গরীব, সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে নিয়ে গিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করাটাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য সর্বোপরি চিকিৎসকদের ২ টো অব্দি OPD তে বসার পর সরকারের এই তুঘলকি মডেলের চাপে ৩ তে থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বসতে হবে প্রাইভেট OPD তেও – যা রীতিমতো সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রের নগ্ন প্রতিরুপকে তুলে ধরছে ।
জনগণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাদেরই ট্যাক্সের টাকায় সরকারি হাসপাতালে বড়লোকদের জন্যে প্রাইভেট চিকিৎসার পরিকল্পনা কে তীব্র ধিক্কার জানায় MCDSA। আসলে, সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার ন্যূনতম দায়িত্বটিও নিজেদের ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে চাইছে।
বছর দুয়েক আগে, ঠিক একই কায়দায় আমাদের মেডিকেল কলেজের সুপারস্পেশালিটি বিল্ডিংয়ের ৮ ও ৯ তলায় প্রাইভেট কেবিন চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু MCDSA এর নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে, সেই পরিকল্পনা বানচাল করতে হয়। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেসরকারিকরণের এই ধৃষ্ট প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের সোচ্চার হওয়া দরকার। SSKM এর সাথীদের কাছেও আহ্বান রইল, সাধারণ মানুষের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবে, এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখরিত হও!











