চটকল শ্রমিকদের একটি ‘আইনি সহায়তা কেন্দ্র’ আছে চন্দননগরে। শ্রমিকদের বকেয়া বিশেষত অবসরকালীন পাওনা উদ্ধারে, আইনি লড়াইয়ে এরা বহুদিন ধরেই সক্রিয়। সাধারণত স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়নগুলির কাছ থেকে আলাদা করে ব্যক্তিগত সমস্যাকে লাগাতার ভাবে অনুসরণ করার( follow up) দৃষ্টান্ত কতটা ‘সাধারণ’ জানি না। কিন্তু এরা এই কাজটি করে চলেছেন যথেষ্ট নিষ্ঠা সহকারে, অবশ্যই কয়েকজন সহৃদয় সক্রিয় আইনজীবীর সহায়তায়। এদের একটা নিয়ম আছে, কেউ যখন তাঁর প্রাপ্য টাকা পেয়ে যান, তার একটা অংশ দিয়ে দেন ‘আইনি সহায়তা’কে যাতে পরবর্তীদের জন্য লড়াই চালু থাকে। এদের মধ্যে অনেকেই চাকরির শেষে চলে গেছেন পুরোনো জায়গায়, বিহার বা উত্তর প্রদেশে। কিন্তু যোগাযোগ থেকে গেছে এখানকার সঙ্গে। শ্রমিক হিসাবে সম্ভবত তাঁদের একটা তাগিদ থাকে অন্যদের পাশে থাকার।
এই দৃষ্টান্তটা তুলে ধরার একটা কারণ আছে। অতি সম্প্রতি আমার মতো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা ঢুকেছে Arrear D A হিসেবে। পরিমাণটা যে সময়সীমার জন্য নির্ধারিত ছিল, তার অনেক কম। এবং, সেই সময়ের টাকাটাও সম্ভবত সঠিক ভাবে দেওয়া হয়নি। কিন্তু যাই হোক, একটা পরিমাণ টাকা সে যতই কম হোক সেটা তো আমাদের অনেকের প্রাপ্তি ঘটেছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রাপ্তিতে আমাদের প্রায় সকলেরই কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল না। না আমরা আইনি লড়াইয়ে ছিলাম, না কোনো ধর্নায় বা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।
ব্যক্তিগত ভাবে, আমি তো চিরকাল D A আন্দোলনের বিরোধী। কারণ, আমার ভয় আছে যে বর্ধিত D A নিয়ে সমস্যাতে শেষে পেনশনটাই বন্ধ না হয়ে যায়। এই ভদ্রমহিলাকে কোনো বিশ্বাস নেই, যে কোনো সময়ে বলতে পারেন সরকারের টাকা নেই।
সে যাই হোক, চাকুরীজীবী ও পেনশনারদের অনেকের কাছেই এই বর্ধিত D A এর মূল্য অপরিসীম, বিশেষত বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায়। তাই, যত কম পরিমাণই হোক, এই আংশিক প্রাপ্তিরও একটা মূল্য আছে। আর এটা সম্ভবপর হয়েছে, এতকাল ধরে কিছু মানুষের লাগাতার আন্দোলন ও সফল আইনি প্রক্রিয়ারই কারণেই। কেউ দয়া করে এই টাকা দিয়ে দেয়নি।
সেক্ষেত্রে আমার পরিষ্কার বক্তব্য একটাই যে চটকলের শ্রমিকরা যদি পারেন, তাঁদের ন্যায্য পাওনার একটা অংশ সংগ্রামী তহবিলে দিয়ে দিতে, তাহলে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা কেন পারবেন না তাঁদের প্রাপ্তির একটা অংশ সংগ্রামী তহবিলে প্রদান করতে? অন্তত, আগামি দিনেও রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের খাতিরে !!
কর্মচারীদের হকের টাকা আদায়ে যাঁরা সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন, যাঁদের সহায়তা ছাড়া কখনোই সম্ভব ছিল না এই প্রায় অসম্ভব কাজকে সম্ভবপর করতে,তাঁদের পাশে দাঁড়ানোরও তো কিছু বাধ্যবাধকতা থাাকে কর্মচারীদের (ও পেনশনভোগীদের) তরফ থেকে। শাসকের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াইতে…..
তাই নয় কি??










