দেশের রাজধানী শহর দিল্লি এই মুহূর্তে নানাভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশের রাজধানী শহরের পক্ষে অবশ্য এমনটা কখনোই বেমানান বিষয় নয়। দেশের শাসনব্যবস্থার ভরকেন্দ্র এই মহানগরীকে আলোচনা যত হবে,ততই নাকি নতুন পালক যোগ হবে তার শরীরে ! দিল্লির যমুনার জল নিয়ে, জলের গুণগত মান নিয়ে একপ্রস্থ বাগবিতণ্ডা হলো। তার জের মিটতে না মিটতেই এলো মহানগরীর বার্ষিক দূষণোৎসব। দেওয়ালিকে জড়িয়ে ধরে দিল্লিবাসী মানুষেরা বাজি বারুদের গন্ধে ভরিয়ে দিল মহানগরীর আকাশ বাতাস, মানুষের ফুসফুস। গুলেরিয়া সাহেব,যার কথায় অতিমারি কালে আপামর ভারতবাসী প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধের মধ্যে নিজেদের বেঁধে রেখেছিলেন, জানিয়েছেন যে এই মুহূর্তে রাজধানী শহরে প্রতি সাত জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটছে বায়ুদূষণের ফলে। এতোদিন পাশের রাজ্যের কৃষকদের নাড়া পোড়ানোকেই এর কারণ বলে দেগে দিয়ে দায় এড়াতেই ব্যস্ত ছিলেন সবাই। অবশ্য সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এমন পরিস্থিতি তৈরিতে দিল্লিওয়ালাদের ভূমিকা মোটেই কম নয়। এখানেই শেষ নয়। নতুন এক বিপদের আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে বিখ্যাত Nature পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র। কী বলছে তারা?
সমীক্ষকরা দেশের পাঁচটি মেগা সিটিকে সমীক্ষার আওতায় রেখেছিলেন। এদের মধ্যে প্রভাবিত অঞ্চলের আয়তনের নিরিখে দিল্লি হলো তৃতীয় বৃহত্তম (১৯৬. ২৭ বর্গ কিলোমিটার) এর ওপরে রয়েছে যথাক্রমে মুম্বাই (২৬২.৩৬ বর্গ কিলোমিটার )এবং কোলকাতা ( ২২২.৯১ বর্গ কিলোমিটার)।
গবেষকদের মতে জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মানুষের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ জারি থাকলে এই বসে যাওয়ার মাত্রা বাড়বে বৈ কমবে না। এই বিষয়টি সকলেই বুঝতে পারি যে জল তুলে নিলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয় তা পূরণ করা না গেলে ভাণ্ডার অপূরিত থেকে যায়। আমাদের দেশে এই পরিপূরণের কাজটি করে বর্ষার বৃষ্টি। কিন্তু এখানেও লেগেছে অনিয়মের হাওয়া। বৃষ্টি কখনো আসে দেরিতে, ফিরে যায় সাত তাড়াতাড়ি। ফলে আকাশকলের নিচে বালতি পাতা থাকলেও তা পরিপূর্ণ ভাবে ভরে ওঠেনা। এর ওপর রয়েছে বৃষ্টিপাতের অনিয়মিতি। পাটিগণিতের অংকের সেই পুরনো সমস্যা – এক নলের জলে চৌবাচ্চা ভরে আর পাঁচ নল দিয়ে জল বেরিয়ে যায়। এই কারণে মাটির গভীরে থাকা চৌবাচ্চা বা অ্যাকুইফারটি কখনোই ভরেনা। এরফলে ভৌমজল ভান্ডারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে অবিরত। এই সমস্যা কেবলমাত্র দিল্লির নয়, দেশের সমস্ত মহানগরীর।
উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দিল্লিকে ইতোমধ্যেই ‘সাবসিডেন্স হট স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন । সবথেকে দ্রুত হারে বছর পিছু মাটি বসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বিজওয়াসান (২৮.৫ মিলিমিটার), ফরিদাবাদ (৩৮.২ মিলিমিটার) এবং গাজিয়াবাদ ( ২০.৭ মিলিমিটার ) এলাকায়।
এরই পাশাপাশি বেশ কিছু শহরে ভূ- উত্থানের ঘটনাও নজরে এসেছে গবেষকদের। দ্বারকা এবং দিল্লির কিছু কিছু অংশের ভূমি বছর পিছু ১৫. ১ মিলিমিটার হারে উঠে আসছে। এখানেই সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্বেগের। গবেষকদের অনুমান একই সঙ্গে উত্থান ও নিমজ্জনের এই ঘটনা ঘটতে থাকলে আগামী ৩০ বছরে দিল্লির ৩১৬৯ টি, মুম্বাইয়ের২৫৫ টি এবং চেন্নাইয়ের ৯৫৮ টি বাড়ি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়ের পরিসর ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হলে দিল্লির ১১৪৫৭ টি, মুম্বাইয়ের ৩৪৭৭ টি, ব্যাঙ্গালুরুর ১১২ টি, চেন্নাইয়ের ৮২৮৪ টি এবং কোলকাতার ১৯৯ টি বাড়ি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গবেষকরা জানিয়েছেন যে ভূমির এই অসম হারে বসে যাওয়ার ফলে আগামীদিনে স্থাপত্য সংস্থানে খুব বড়ো মাপের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে এখন থেকেই বিষয়টির ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন যাতে করে ভূ- সংস্থানিক পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতি রেখে বাড়িগুলোর সংরক্ষণে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এ জন্য একটি তথ্য ভান্ডার গড়ে তোলার ওপরে বিশেষ জোর দিয়েছেন তাঁরা। দূর সঞ্চার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেবার কথা বলা হয়েছে গবেষণাপত্রের সুপারিশে।
মনে রাখতে হবে কোনো একটি কারণে এমন ঘটনা ঘটছে তা নয়। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক কারণের সামগ্রিক ফল হচ্ছে এই বসে যাবার কারণ। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি জটিল ফলে জলবায়ু পরিবেশের প্রতিটি পরিবর্তন এই বসে যাবার পেছনে দায়ী। তাই শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই হবে না, সুচারুভাবে তার বিশ্লেষণ করা দরকার। খতিয়ে দেখতে হবে সমস্ত দিকগুলোকে যাতে ভবিষ্যতে কোনো রকম আকস্মিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে না হয় দিল্লি সহ অন্যান্য মহানগরীর বাসিন্দাদের।
ঋণ স্বীকার : বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন।
একই বিষয় অনেক বড়ো প্রেক্ষাপটে লেখা। স্বপ্ন হলেও সত্যি – https://go.shr.lc/48Po3YN















Ekhono shomoy achey shabdhan howar !
Sab kichu shesh hoye Jay ni.
Course correction kara jetey parey.
Kintu keu shunben ki ?
একজন কড়া ধাতের হেডমাস্টার মশাই দরকার। ঠিক আমাদের মতো।
নূতন নূতন তথ্য পাওয়া যায় আপনার কলমে।অনেক ধন্যবাদ। তবে একদম বসে যাওয়ার আগে কেউ পাত্তা দেবে না।
এই যে আপনারা পড়ছেন, মতামত দিচ্ছেন এটাই পরম পাওয়া। এক থেকে দুই, দুই থেকে চার — এভাবেই আমাদের পাল্লা ভারী হবে। হয়তো সোনালী ডানার চিল হয়ে ওপর থেকে স্বপ্ন ভরা চোখে সেই বদলে যাওয়া পৃথিবীর ছবি দেখবো!
খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই সমস্যা কেবলমাত্র দিল্লির নয়। ভারত সহ পৃথিবীর সমস্ত মহানগরীর সমস্যা এইটি। আমাদের সমস্যা আরও গভীর কেননা এখানে অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন হচ্ছে। লেখক সমানে ভেবে চলেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
একদম ঠিক কথা বলেছেন। সমস্যাটি কেবলমাত্র দিল্লির নয় গোটা দেশের সমস্ত মহানগরীর। কলকাতার বেশ কয়েকটি এলাকায় এই সমস্যা বেশ উদ্বেগজনক। লেখক ভাবছেন আপনাদের ভাবানোর জন্য।ভাবুন, ভাবুন। ভাবতে শিখুন।
Now more problems are added to Delhi last week. May god bless the souls.
It will be increasing day by day unless we the people get concerned. Keep on commenting.