আমাদের মেয়েরা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছে। সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর জেমির কান্নায় আমারও চোখ ভিজে উঠছিল অনেকের মতই। এখন আমরা আনন্দে ভেসে চলেছি।
কিন্তু এই মেয়েদের জায়গা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ঠিক কতটা নীচে আমরা রেখেছি সেকথা কি ভাবছি কখনও? প্রতিদিনের আমাদের বাড়িতে গৃহকর্ম থেকে শুরু করে, কর্ম ক্ষেত্র, সমাজের প্রতিটি স্তরে মেয়েরা পুরুষের মর্জিমাফিক ঠিক কোথায় অবস্থান করেন, আমরা ভাবি না। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা বেড়ে উঠি তাই এই প্রচলিত ব্যবস্থাকেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। পুরুষতন্ত্র আমাদের মজ্জায়।
যে দেশে মেয়েদের দেবী হিসেবে পুজো করা হয় সে দেশে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের বিপুল আয়োজনের ব্যাখ্যা ওইখানে মেলে। শুধুমাত্র কঠোর শাস্তি দিয়ে এই মানসিকতা থেকে বেরোনো মুশকিল। নিজের ভেতরটাকেও তলিয়ে দেখতে হবে আমাদের। পুরুষতান্ত্রিকতাকে প্রতিটি স্তরে সামাজিকভাবে প্রশ্ন করতে হবে এবং বদলানোর চেষ্টা করতে হবে।
অন্যদিকে দেখুন মেয়েরাও কেমন পতিদেবতার মঙ্গল কামনায় শাঁখা, সিঁদুরের সজ্জিত হতে কিংবা বোরখা হিজাবে নিজেকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। কোনো ধর্মীয় কারণে বা আচারে ছেলেদের কিন্তু এসবের বালাই নেই, কেন নেই এটা মেয়েরা ভাবেন না। তারা এই ব্যবস্থাকেই স্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছেন, এর ভেতরে যে কোথাও নারীসত্ত্বার একটা অবমাননা আছে, শৃঙ্খল আছে, এটা তাঁরা বুঝতে চাইছেন না তার কারণ তারাও এই পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেই জন্মেছেন আর বেড়ে উঠেছেন।
মূলত ধর্ষণ এবং এই পুরুষতান্ত্রিকতা নিয়ে কয়েকবছর আগে একটা গান লিখেছিলাম। সেটা আমার ইউটিউব চ্যানেলে ছিল। তরতর করে লাখের কাছাকাছি ভিউজ হল, তারপর কী কারণে জানি না হঠাৎ একটা নোটিফিকেশন দিয়ে সেটার রিচ একদম সীমিত করে ফেলা হল। এখন ভিডিওটি দেখতে পাচ্ছি না।
ইদানীং এত এত এত ধর্ষণের খবর দেখতে অসহায় লাগে। তার ভেতর মেয়েদের এই জয়, একঝলক তাজা বাতাস নিয়ে এল। কিন্তু মহিলা ক্রিকেটারদের এই বিশ্বকাপ চলাকালীনই যৌন হেনস্হা করার চেষ্টা হয়েছিল এটাও দগদগে সত্য হয়ে রইল। এই আবহে আমার ভেতরের পুরুষতন্ত্রকে প্রশ্ন করা সেই গানকে একটু নতুন করে সামনে আনতে ইচ্ছে হল। জানি না এটাও আবার বন্ধ হয়ে যাবে কি না!









