যে লোকগুলো ভোটের আগে হাত জোড় করে ভোট ভিক্ষে করে তারাই গদিতে বসলে জনগণকে আর মানুষ বলে ভাবে না। নিজেদের ভাবে ভগবান। তাদের হুহুংকার শুনলে করুণা করতে ইচ্ছে করে।
যেভাবে হাজার হাজার গরীব মানুষকে কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই বুলডোজার চালিয়ে উৎখাত করা হল তাকে ঘৃণা ছাড়া কী বা দিতে পারেন আপনি? ওই লোকগুলোর কাছেও এই নেতারা ভোট ভিক্ষে করেছে দুমাস আগে।
পাশাপাশি দেখুন তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানকে নিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, বলেছিলেন, জাভেদ খান ও তাঁর ছেলের নাকি ৯০ টা বে আইনি নির্মাণ আছে। অথচ কোনো বুলডোজার ভেঙে দিল না সেসব! জাভেদ নিজেকে বাঁচিয়ে নিয়েছেন শাসকের পোষ্য বনে গিয়ে!
শাসক দলের অন্যতম প্রধান নেতা সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য প্রকাশ চিক বরাইক সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘তুমি সন্ধ্যাবেলায় গোরু পাচার করো, কোনও অসুবিধা নেই বাবা প্রকাশ। তুমি ওটা চালিয়ে যাও! তুমি বালি পাচার করো, তুমি চালিয়ে যাও! আর আপনারা কী করবেন? আপনারা ডায়েরিতে হিসাব করুন ব্যাটা কত কামাচ্ছে। যত কামাবে তার দশ গুণ পেটে পাড়া দিয়ে বের করে আমরা জনগণের মধ্যে ডিস্ট্রিবিউট করে দেব। এদের রাখা যাবে না।’ শোনা যায় তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি গত তিন বছরে নাকি বেড়েছ ২২০১ শতাংশ! সেই প্রকাশ তৃণমূল হেরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে চোখের পলকে বিজেপি বনে রাজ্যসভায় ফিরে গেলেন।
এইভাবে তৃণমূলের বড় বড় চোরেরা রাজ্যসভায়, লোকসভায়, বিধানসভায় (এবং তার বাইরেও) কেমন ল্যাজ নেড়ে নেড়ে শুদ্ধ হয়ে গেলেন। যারা বাকি আছেন এখনও, তাঁরাও ক্রমশঃ ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে যাবেন। শুধু সময়ের অপেক্ষা। যাঁরা বিজেপি বিরোধী ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলেন তাঁরা দলে দলে চলে গেলেন বিজেপিতে। জনগণের সঙ্গে যেভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন তার কারণ নাহয় দুর্নীতি থেকে বাঁচা, কিন্তু তাঁদের যাঁরা বাঁচিয়ে নিচ্ছেন তাঁরাও জনগণের সঙ্গে কতবড় বেইমানী করছেন! এখন কে বড় বিশ্বাসঘাতক সেটা জনগণই বিচার করুন!
অর্থাৎ শাসকের কাছে একমাত্র জরুরী হল ক্ষমতায় টিঁকে থাকা। দুর্নীতির নিরসন, নীতি-নৈতিকতার টুপি ওসব ভোটে জেতার জন্য জনগণকে পরাতে হয়, তারপর স্বমূর্তি ধারণ। জনগণকে চাবুকের নীচে, বুটের নীচে বন্দুকের ডগায় রাখো!
দেখুন দিল্লীতে কী চলছে! বছরের পর বছর বিভিন্ন পরীক্ষায় দুর্নীতি হয়ে চলেছে হয়েই চলেছে! লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর রক্ত-ঘাম জল করা পরিশ্রম নিয়ে ছেলেখেলা করছে শিক্ষাদপ্তর। নিট পরীক্ষায় বারবার প্রশ্ন ফাঁসে আত্মহত্যা করেছেন ২২ জন ছাত্র। ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন দিল্লীর যন্তর মন্তরে। তাঁদের সঙ্গী হয়েছেন সোনাম ওয়াংচুকের মত ব্যক্তিত্ব। এতে ছাত্রদের অন্যায় কী হয়েছে? নানান প্রচার চলছে এই আন্দোলনের বিরোধিতা করে। আমেরিকার নাকি চীনের চক্রান্ত, ডিপ স্টেট ইত্যাদি, আমি সেই বিতর্কে ঢুকছি না। যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে শেষ করছে এরা সেখানে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন কি অযৌক্তিক? মোদ্দা কথা হল সেটা। সেটা এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন হে শাসক?
আমাদের নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীমান্ত্রাদের উচিত ছিল না কি অনেক আগেই ছাত্রদের কাছে গিয়ে অন্তত কথা বলা? আলাপ চালানো? তা কেন করবেন? আমাদেরই ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাঁরা তো তখন ক্ষমতার ঈশ্বর মনে করছেন নিজেদের! জনগণের কাছে গেলে তো তাঁদের নত হতে হয়! তাই কী করল সরকার? ২০ দিনের মাথায় যখন অনশন প্রাণ সংকটের দিকে গড়াচ্ছে তাঁরা সোনমকে জোর করে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ! অবস্হা আরও জটিল হয়ে উঠল। তারপর ছাত্রদের মরিয়া সংসদ অভিযান, আর পুলিশের নির্মম লাঠি চার্জ। শতাধিক আহত (সঠিক সংখ্যা জানি না), একটি মেয়ে আশংকাজনক অবস্থায় আইসিইউতে ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন সরকার আলোচনায় বসছেন। এত বছর ধরে শিক্ষা দুর্নীতি! এত এত প্রশ্ন ফাঁস প্রধানমন্ত্রী এতদিন পর বিবৃতি দিয়েছেন ‘প্রশ্নফাঁস হল পাপ!’ শোনা যাচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও নাকি পদত্যাগ করতে পারেন।
জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে জনগণকেই লাথিমারা, ক্ষমতার ঈশ্বর ভাবা নেতাদের একটা কথাই বলতে হয়, ‘ঠেলার নাম বাবাজী’!
**আসুন ভক্তকুল। এবার আামাকে চরম আক্রমণ করুন। খিস্তি দিন। যতদূর কদর্য হওয়া যায়!











