তেমন ভালো লিখছে না কেউ এই কথাটা
রোজই দেখি লিখেছে কেউ.
সে এক সময় সাগর ছেঁচে মুক্তো মানিক,
আনতো খুঁজে বিদ্রোহী আর প্রাতিষ্ঠানিক,
এখন তা ঠিক হয় না আদৌ,
এই ব্যাপারে এক্কেবারে ঐক্য মতের সব শিবিরে,
একটি আসল রত্ন অমিল ঝকমকে সব ঝুটোর ভিড়ে
বিদ্রোহী তো কবেই মৃত, হয়তো লেখা নয় উচিৎ-ও,
বেলাইন হলে বেল মেলে না,
জেল যেতে হয় কথার দোষে,
খুব স্বাভাবিক,
ছন্দ-রসিক আগাম লাগাম লাগান কথায় তাই আপোষে,
চারদিকে যা ঘটে ঘটুক,
দেখতে ওসব পুলিশ আছে,
সমাজ থেকে থাকলে দূরে,
পদ্য এবং লেখক বাঁচে,
তাই নিরাপদ শব্দমালায় দ্রোহের থেকে গা বাঁচিয়ে,
বাগ-মনোহর গুলমোহরের চারাতে যান জল ছিটিয়ে।
আর যারা সব প্রাতিষ্ঠানিক,
প্রতিষ্ঠিত নিজের গুণে,
খুব ধারালো শব্দ কিছু রাখেন না আর কাব্য-তূণে,
ছুঁড়লে সে-সব
নিজের সাথে প্রতিষ্ঠানের দফারফা,
একটা লেখার বিচ্যুতিতে বন্ধ হবে পরের অফার,
ভাবনা বেঁধে কাঁটাতারে
তাই কবিতা সীমায় রাখা
বন্ধ চোখের অন্ধকারে ভান করা চাই তাকিয়ে থাকার
সুষম কথায় শোভন হাতে
ছন্দে মোহন কারিকুরি,
বস্তুত তা ভাবের ঘরে করতে থাকা পুকুর-চুরি!
কাজেই যারা বলেন
এখন তেমন ভালো হয় না লেখা,
আগামীতেও হবে কিনা অনিশ্চিতে আলোর রেখা,
ঠিকই বলেন,
লিখতে হলে উগড়ে আসা কথা গিলে,
মেক-আপ করা সঙের সাজে সার্কাসই হয় অন্তমিলে,
শো শেষে কেউ হাততালি দেয়,
কেউ বা বলে খরচ বেকার,
কিন্তু আজ-এই ভাবনাটা শেষ,
স্মৃতিতে তার নেই অধিকার,
তেমনিভাবেই এখন কিছু কমেন্ট এবং লাইক পেয়ে,
কবিতারা ঘুমিয়ে পড়ে
আজ-এর পরে, আজ-এর খেয়ে,
একদিনই যার আয়ুর মেয়াদ, পুজোর গাঁদা ফুলের মতন,
কেমন করে হবে সে আর আঁধারমানিক অরূপরতন?
যে ‘আজ’ মুখর বাজে কথায়,
সমাজ নিয়ে নয় ভাবিত,
অসার শোনায়
ভাবীর কোলে বসার হেতু তার দাবী তো,
ঠিকই বলেন বিদগ্ধজন , আজ লেখা সব ভস্মে ঘৃত।








