অভয়ার ন্যায়বিচারের লড়াই, জনস্বাস্থ্যের লড়াই এর চাপে স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্যপদ ও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হল রাজ্য সরকার!
গতবছর ৯ই আগস্ট আর জি করের নারকীয় ঘটনার অভিঘাতে উত্তাল হয়েছিল গোটা বাংলা, এমনকি দেশ ও বিশ্ব। আমরা ভুলিনি সেই অভিশপ্ত রাতে পাশবিক অত্যাচারের মুহূর্তে অভয়ার টানা ৩৬ ঘণ্টার ডিউটির ক্লান্তি।
তারপর অভয়ার ন্যায়বিচার এবং আরেকটা অভয়া না হতে দেওয়ার অঙ্গীকারে, ব্যাপক নাগরিক আন্দোলনের ঢেউ উঠে আসে। উঠে আসে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা, দুর্নীতি, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী, রোগীদের নাজেহাল অবস্থার চিত্র।
আমরা বারবার বলেছিলাম—ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সহ সমস্ত শূন্যপদে অবিলম্বে নিয়োগ করতে হবে। বলেছিলাম কেন?
কারণ কোনও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপত্তা কেবলমাত্র পুলিশ বা সিসিটিভি দিয়ে নয়, নিশ্চিত হয় তখনই যখন রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়—যাতে তাদের রেফার সমস্যা, পরিকাঠামোর ঘাটতি বা কর্মীর অভাবে হেনস্থার শিকার না হতে হয়।
প্রয়োজন জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন। প্রয়োজন প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যথাযথ পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ।
সম্প্রতি NMC (ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন) পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মেডিক্যাল কলেজে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট আসন কমিয়ে দিয়েছে পর্যাপ্ত শিক্ষক চিকিৎসকের অভাবে—এ ঘটনাও দেখিয়েছে আমাদের দাবি কতটা বাস্তব।
আজ West Bengal Health Recruitment Board-এর তরফ থেকে MES ব্রাঞ্চে ৬২১ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ১২৮৭ জন General Duty Medical Officer এবং ৫৮০০ জন স্টাফ নার্স নিয়োগের ঘোষণা এসেছে।
আমরা মনে করি—এটা কেবল নিয়োগ নয়, এটা অভয়া আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। গণ-আন্দোলনই পারে মানুষের প্রকৃত দাবি আদায় করতে—এ আজ ফের প্রমাণিত।
আমাদের দশ দফা দাবির মধ্যেই ছিল—হাসপাতালে সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ হল শূন্যপদে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের অবিলম্বে নিয়োগ। আজকের নিয়োগ সেই দাবির প্রতি এক স্পষ্ট স্বীকৃতি—সরকার মাথানত করেছে।
তবে উদ্বেগের বিষয়, ঘোষিত পদসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। MES-এ শূন্যপদের হার প্রায় ৩৩%, GDMO-দের শেষ নিয়োগ হয়েছিল ২০২১ সালে, বিগত তিন বছর ধরে নিয়োগ নেই নার্সদের, আর ডেন্টাল চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে বিগত ১০ বছর ধরে কোনো নিয়োগই হয়নি।
আমরা আবারও বলছি—স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে হলে এই বিপুল শূন্যপদ অবিলম্বে পূরণ করতে হবে এবং স্বচ্ছ ট্রান্সফার নীতি বাস্তবায়িত করতে হবে।
এবং এটাও স্পষ্ট করে দিতে চাই—এই নিয়োগ প্রক্রিয়া যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, যদি কোনও লবির দাপট বা থ্রেট সিন্ডিকেটের উপস্থিতি দেখা যায়, তাহলে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট গণতান্ত্রিক পথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে।
আমরা ভুলে যাইনি—স্বাস্থ্য দুর্নীতির মামলায় সন্দীপ ঘোষ, আশীষ পান্ডে সহ একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। ভুলে যাইনি কলেজে কলেজে ছড়িয়ে থাকা থ্রেট কালচারের কথাও।
অভয়ার নিথর দেহ বাংলার চিকিৎসা সমাজকে শিখিয়ে দিয়ে গেছে—কীভাবে মেরুদণ্ড সোজা রেখে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।
তাই অভয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে, কেবল তার ন্যায়বিচার নয়—প্রতিশ্রুতি নিতে হবে, এক উন্নত, সুনির্মিত, দুর্নীতিমুক্ত জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবো আমরা।
আসুন, সেই লড়াইতে আমি, আপনি, আমরা সবাই অংশীদার হই।
West Bengal Junior Doctors Front










