২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ AIIMS Jodhpur-এর Anaesthesiology বিভাগের জুনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ রাজনরেশ যাদব-কে কর্মরত অবস্থায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তিনি ডিউটির সময় বিরতিতে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি; পরে তাঁকে হাসপাতালের একটি কক্ষে/ওয়াশরুমে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করছে; ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্তের ফল এখনও অপেক্ষমাণ।
৩৬ ঘণ্টারও বেশি টানা ডিউটি, জ্বর থাকা অবস্থায় কাজ করা, ছুটির আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং তার পরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা—মৃত্যুর পর উঠে আসা এই অভিযোগগুলি যদি সত্যি হয় তাহলে তা নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা শুধু নয় বরং চিকিৎসকদের এক অসুস্থ ও অমানবিক কর্মপরিবেশের ইঙ্গিত বহন করে।
চিকিৎসক ও তার চিকিৎসা পদ্ধতি কোন AI পরিচালিত যান্ত্রিক পরিকাঠামো নয়। প্রশাসনকে বুঝতে হবে ২৪ ঘণ্টা রোগীর পাশে দাঁড়ানোর অর্থ একজন চিকিৎসককে বিশ্রামহীন অবস্থায় সবকিছু নিকড়ে নেওয়ার মানবিক প্রচেষ্টাকে যেন দুর্বলতা হিসেবে প্রতিপন্ন না করে।তাই যে চিকিৎসক অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য নিজের ঘুম, বিশ্রাম, ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দেন—তাঁর নিজের জীবন ও মানসিক সুস্থতার নিরাপত্তার দায়িত্বও প্রতিষ্ঠানকে অবলম্বে নেওয়া উচিত।
WBJDF- এই ঘটনায় পরিবার ও সতীর্থদের পাশে দাড়িয়ে স্পষ্ট ভাবে জানাতে চায়-
১. ডাঃ রাজনরেশ যাদবের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত করতে হবে এবং সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে।
২. তাঁর দীর্ঘ ডিউটি, ছুটির আবেদন, ডিউটি রোস্টার, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কর্মপরিবেশ—সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
৩. চিকিৎসকদের অসুস্থতার সময় ছুটি ও বিশ্রামের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অসুস্থ চিকিৎসককে জোর করে ডিউটিতে রাখার সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে,
৪. Resident doctors-এর জন্য নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক duty-hour system, পর্যাপ্ত manpower এবং বাধ্যতামূলক rest period নিশ্চিত করতে হবে।
৫. প্রতিটি Medical College ও Institute-এ কার্যকর Resident Welfare & Grievance Redressal Mechanism গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনও resident প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই duty hours, harassment, leave বা workplace safety নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
৬. Resident doctors-এর নির্বাচিত/স্বীকৃত প্রতিনিধিদের প্রশাসনিক আলোচনায় বাস্তব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
৭. কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ, অপমান, হয়রানি ও অতিরিক্ত workload-এর অভিযোগকে “residency-এর স্বাভাবিক অংশ” বলে এড়িয়ে যাওয়া চলবে না।
আর কত মৃত্যু হলে বদলাবে এই ব্যবস্থা?
প্রতিবার একজন করে তরুণ চিকিৎসক তলিয়ে যাওয়ার পর শোকবার্তা আসে আর তদন্তের কথা বলা হয়। কিছুদিন আলোচনা চলে, কিছুদিন প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়, তারপর আবার একই দীর্ঘ ডিউটি, একই manpower crisis এর অজুহাত , একই নিদ্রাহীনতা, একই প্রশাসনিক চাপের ঘূর্ণিচক্র চলতে থাকে।
আর না, এই চক্র এবার থামাতেই হবে।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—
Resident doctor কোনও disposable workforce নয় আর চিকিৎসকের নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য যেন করা না হয়।
তাই west bengal junior doctors’ front স্পষ্টত জানাতে চায়- এই মৃত্যু যেন আর একটি “incident” হয়ে ফাইলবন্দি না হয়।এই মৃত্যুর পূর্ণ সত্য সামনে আসুক। দায়বদ্ধতা নির্ধারিত হোক। এবং এমন মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি রোধে কাঠামোগত পরিবর্তন হোক।











