ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন শেষ ১৬ দিন ধরে গোটা রাজ্যকে উত্তাল করেছে। আমরা এই ন্যায্য আন্দোলনের সংহতি তে রয়েছি প্রথম থেকেই। এই আন্দোলন যদিও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিলো, মূলগত ভাবে এই আন্দোলন শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের দাবি করেছে। যে আন্দোলন চরিত্রগত ভাবে আসলে দেশ জুড়ে সরকারি শিক্ষাকে ধ্বংস করার ও বেসরকারিকরণের চক্রান্ত চলছে তার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আমরা জানাতে চাই দেশজুড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানুষের অধিকার, ন্যায্য দাবিতে যেখানে যে আন্দোলন চলছে নৈতিকভাবে আমরা তাদের পাশে আছি, কার বিরুদ্ধে সে আন্দোলন হচ্ছে বা ক্ষমতায় কোন দল আছে তা এই সংহতির মাত্রাকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করে না। এর জন্য আমরা, WBJDF দিল্লির যন্তর মন্তরে যেমন ছুটে গিয়েছিলাম, ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রেও আমরা নিরন্তর আমাদের সমর্থন জানিয়েছি।
অভয়া আন্দোলন আমাদের দেখিয়েছে যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে থাকলে শাসক আন্দোলনকারী প্রতিবাদীদের উপর নির্লজ্জ প্রতিহিংসাপরায়ণ হওয়া থেকে শুরু করে তাদের রাজনৈতিক রঙে রাঙিয়ে কালিমালিপ্ত করার অপপ্রয়াস করে যায়! এই শিক্ষা নিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এটা মনে রাখতে হবে যে যুক্তির সামনে শাসকের চিত্রটা সমান, সে শাসকের পরিচয় যাই হোক না কেনো। সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে তারা মিডিয়া ন্যারেটিভ থেকে জলকামান, কোনোকিছু ব্যবহার করতে পিছপা হয়না। কিন্তু সাধারণ মানুষ যখন জোটবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ায় তখন শাসক ন্যায্য দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়, তার ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেশের শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া থেকে আজ ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকারীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে JSSC-CGL পরীক্ষা এবং TDPL এর অধীনে আয়োজিত সকল পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের ছাত্রদের এই জয়, শাসকের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে ছিনিয়ে নেওয়ার আরেক নিদর্শন। অভয়া আন্দোলনের শিক্ষা নিয়ে আমরা সকলকে বার্তা দিতে চাই, যেখানেই শিক্ষা ,স্বাস্থ্য , সাধারণ মানুষের অধিকার, জল জঙ্গল জমি কিংবা পরিবেশ এর উপর আক্রমণ নামবে , যেখানেই অন্যায় হবে সেখানে ভুল কে ভুল বলার সাহস দেখাতে হবে, ন্যায্য দাবিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করতে হবে, তবেই আমরা এক সুস্থ ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে পারবো। আমরা WBJDF নীতিগতভাবে সবসময় এই সমস্ত লড়াই আন্দোলনের পাশে থাকার জন্য দায়বদ্ধ… শাসকের রাজনৈতিক রঙ নিরপেক্ষ ভাবেই।











