অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যু আবার আমাদের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের প্রতি বর্ণবাদ ও হিংস্রতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে:
অ্যাঞ্জেল চাকমা কে ছিলেন?
অ্যাঞ্জেল চাকমা ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরার নন্দননগরের ২৪ বছর বয়সী একজন এমবিএ ছাত্র। তিনি উত্তরাখন্ডের দেরাদুনে পড়াশোনা করছিলেন।
তিনি এমবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং সম্প্রতি একটি চাকরির অফারও পেয়েছিলেন।
কী ঘটেছিল?
২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর, অ্যাঞ্জেল এবং তার ছোট ভাই মাইকেল দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় মুদি বাজার করতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে ছয়জনের একটি দল তাদের উদ্দেশ্য করে জাতিগত গালিগালাজ করে, তাদের “চাইনিজ”, “নেপালি”, “চিঙ্কি”, “মোমো” ইত্যাদি বলে ডাকে — যা উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের প্রতি অত্যন্ত অপমানজনক শব্দ। দুই ভাই এর প্রতিবাদ করলে, বাদানুবাদ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। জানা গেছে, অ্যাঞ্জেল তার ভাইকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকে ছুরি এবং অন্যান্য ভোঁতা অস্ত্র, যার মধ্যে একটি ধাতব ব্রেসলেট (কড়া) ছিল, দিয়ে আক্রমণ করা হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের ক্ষত হয় এবং মাথা, ঘাড় ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে, যার ফলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু
অ্যাঞ্জেলকে দ্রুত দেরাদুনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি প্রায় ১৭ দিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি আঘাতের কারণে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ২৪ বছর।
তদন্ত এবং গ্রেফতার
তার মৃত্যুর পর পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; এদের মধ্যে দুইজন নাবালক, যাদের সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। ষষ্ঠ সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছে এবং সম্ভবত নেপালে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; কর্তৃপক্ষ তার খোঁজ করছে এবং তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
অ্যাঞ্জেলের বাবা, বিএসএফ জওয়ান তরুণ চাকমা দেশেকে রক্ষা করার কাজ করেন। কিন্তু দেশ তার সন্তানকে রক্ষা করতে পারল না।
অ্যাঞ্জেলের এই ঘটনাটি উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ এবং দেশের অন্যান্য অংশের উপজাতি সম্প্রদায়ের ওপর বর্ণবাদ ও বৈষম্য নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আমরা যদি সত্যিই সমস্ত সম্প্রদায় এবং ধর্ম/বর্ণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সংহতি চাই – তবে ভারতের গভীর আত্মোপলব্ধি বা আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন। উত্তর-পূর্ব ভারত নিঃসন্দেহে ভারতেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।










