১ লা মার্চ, ২০২৫
যাদবপুরের আজকের বিক্ষোভ এবং পরবর্তী গোলমাল সম্বন্ধে এখনো সবকিছু বিশদভাবে জানি না। ইউনিয়ন ইলেকশনের দাবি তুলে বিক্ষোভ হতেই পারে এবং বহু জায়গায় বহুবার হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকে, কিছুক্ষেত্রে অশান্ত হয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন কঠোর হতে পারেন বা হবার ভয় দেখাতে পারেন। এই অব্দি আমরা জানি এবং প্রতিটাই আগে দেখেছি। কিন্তু কিছু ঘটনা বা দৃশ্য হঠাৎ দেখতে বাধ্য হলে অস্তিত্বের সংকট উপস্থিত হয়। যেমন, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি যদি ছাত্রকে চাপা দিয়ে চলে যায়।
সন্ধে থেকে দুটো ফুটেজ দেখতে পেয়েছিলাম। একটা ফুটেজে একটি গাড়ির সামনে বিক্ষোভ চলছে, গাড়ি তার মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, পরে সামান্য গতি বাড়িয়ে চলে যায়। শেষে দেখা গেল একজন ছাত্র পড়ে আছেন। অন্যটিতে সেই ছাত্র আহত, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন, একজন ছাত্রী তাঁর মাথাটি কোলে নিয়ে সামলাচ্ছেন, একজন সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন। ভেবেছিলাম গাড়ি বা মানুষের ধাক্কায় পড়ে গেছেন ছাত্রটি। তারপর এই ছবিটা পেলাম। স্তম্ভিত হলাম।
গাড়ি ধীরে ধীরে চলছিল, ভিডিওতে দেখেছি। সুতরাং দ্রুত চলতে থাকা গাড়িতে হঠাৎ ধাক্কা নয়। এই ছবির মুহূর্তটি আসার পর সেই গাড়ির দাঁড়িয়ে না পড়া অভাবনীয়। মন্ত্রীকে ঘেরাওমুক্ত করার জন্য নীলবাতিওয়ালা গাড়ির ড্রাইভার বা পুলিশ সতর্ক, সচেষ্ট হতেই পারেন, কিন্তু শান্তভাবে ছাত্রের শরীরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিতে পারেন না। কিছুতেই না। যোগীরাজ্যের নিন্দা এবং অত্যাচারের কথা আমরা নিয়মিত শুনি। অত্যাচারের নিরিখে যোগীরাজ্যের তুলনায় আমরা কি আর পিছিয়ে রইলাম?
মাননীয় ব্রাত্যবাবুকে মন্ত্রীত্ব ছাড়তে বলছি না। বিবেক ছাড়ার পর মন্ত্রীত্বও ছাড়তে হলে আর থাকে কী? তিনি দয়া করে অন্য কোনো দপ্তরে চলে যান। যুদ্ধমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, বাইসন দপ্তরের স্বাধীন পূর্ণমন্ত্রী… কিছু একটা। ছাত্রকে চাপা দেওয়া শিক্ষামন্ত্রী ব্যাপারটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে।









