যে মেয়েরা কর্মরত, যাঁরা কাজ খুঁজেও পাচ্ছেন না, এবং যে মেয়েরা নানা সাংসারিক ও সামাজিক কারণে কাজ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তাঁদের বক্তব্য ২০২৪ সালে নানা মঞ্চে শোনা গিয়েছে। সেগুলি থেকে পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের, এবং ট্রান্স-কুইয়র মানুষদের আর্থসামাজিক প্রয়োজন, চাহিদা, দাবি এবং আকাঙ্ক্ষাগুলিকে এক সঙ্গে গুছিয়ে এই নথিটি তৈরি করা হয়েছে। নারী দিবস, ২০২৫ উপলক্ষে এ রাজ্যে বিভিন্ন মঞ্চে ও সভায় যে সব আলোচনা হবে, সেগুলিতে এটি কাজে লাগতে পারে, এই আমাদের আশা। এই নথি তৈরি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সকলের পরামর্শ প্রার্থনীয়।
তিনটি শিরোনামের নীচে চাহিদা ও দাবিগুলি সাজানো যায়।
প্রথম, কাজের জায়গায় মেয়েদের প্রতি বৈষম্য ও বঞ্চনাই ‘নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১.১) অসম মজুরি — একই কাজের জন্য পুরুষ ও মহিলার মজুরির ফারাক রয়েই গিয়েছে। যেমন, খেতমজুর মেয়েরা গড়ে পুরুষদের চাইতে একশো-দেড়শো টাকা কম পান। রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করে পুরুষ নির্মাণ শ্রমিকরা ৬০০-৭৫০ টাকা দৈনিক মজুরি পান, মেয়েরা একই কাজে পান ৩০০-৪৫০ টাকা। ট্রান্স-পুরুষ বা ট্রান্স-মহিলারা কাজের জায়গায় তাঁদের বেশভূষা, আচরণের জন্যই কাজ থেকে ছাঁটাই হয়ে যান, বা কাজ করেও মাসের শেষে বেতনটুকু পান না।
দাবি: সংবিধানের ৩৯-ক ধারায় সমকাজে সমবেতন সুনিশ্চিত করার কথা বলা আছে। তার ভিত্তিতে মজুরি আইন (দ্য ইকোয়াল রেমুনারেশন অ্যাক্ট) পাশ হয় ১৯৭৬ সালে। সেই আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের একটি পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করার কথা, এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবার কথা। এছাড়া লেবার অফিসার ও অন্য আধিকারিকদের এ ব্যাপারে প্রাপ্ত অভিযোগের সুরাহা করার কথা।
আমাদের দাবি পর্যবেক্ষক কমিটি বর্তমানে আছে কিনা, থাকলে সেই কমিটি রাজ্য সরকারকে সম কাজে সম বেতনের প্রশ্নে কি কি পরামর্শ দিয়েছে, এবং লেবার অফিসার ও অন্যান্য আধিকারিকেরা এ ব্যাপারে কি সুরাহা করেছেন তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। কমিটি না থাকলে সরকারকে অবিলম্বে বিশেষ কমিটি গঠন করে অসম মজুরি বিষয়ে সমীক্ষা করে প্রকৃত চিত্র পেশ করতে হবে। এর প্রতিকার কী করে হবে, তা সর্বসমক্ষে জানাতে হবে। তাঁদের প্রান্তিক লিঙ্গ-যৌন পরিচিতির সম্পর্কে সচেতন ও যত্নবান হতে হবে, যাতে তাঁরা সেই পরিচিতির মানুষদের চাহিদাগুলিকে চিহ্নিত করতে পারে।
১.২) অত্যন্ত কম মজুরি, ন্যূনতম মজুরি না দেওয়া —কৃষি, শিল্প বা পরিষেবা ক্ষেত্রে যে কাজগুলি বিশেষ ভাবে মেয়েরাই করেন, সেখানে মজুরি অত্যন্ত কম রাখা হয়েছে। যে ৩০টি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণ করেন তার প্রায় কোনটিতেই মেয়েরা ন্যূনতম মজুরি পাচ্ছেন না। যেমন, পটলে ফুল ছোঁয়ানো (এক বিঘের জন্য ৩০ টাকা)। হাজার বিড়ি বাঁধলে পাওয়ার কথা ২৬৭ টাকা, মেলে ১৬৫ টাকা। কোচবিহারের শিতলকুচি, দিনহাটা ১ এবং দিনহাটা ২ ব্লকে তামাক পাতা বাছাই, বাঁধার কাজ মেয়েরা করেন কেবল তিন বেলা খাবারের বিনিময়ে, হাতে কোনও টাকা পান না।
কারখানায় উৎপাদন, ঘরে বসে উৎপাদন, প্যাকেজিং, সাফাই, রান্না, প্রভৃতি নানা ধরনের কাজে নিযুক্ত মেয়েদের মজুরির হার অত্যন্ত কমিয়ে রাখা হচ্ছে। দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা রোজগারে দশ-বারো ঘণ্টা কাজ করানোই ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছে। গৃহপরিচারিকাদের বেতনে অসমতা, বোনাস অনিশ্চিত, সহজে ছাঁটাই করা হচ্ছে। মেয়েরা বহু পরিশ্রম করেও সংসার চালানো, সন্তান প্রতিপালনের উপযুক্ত অর্থ রোজগার করতে পারছেন না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্যুয়ার-ট্রান্স মানুষদের জন্য যে ধরনের কর্মসংস্থানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে তাতে ১০ ঘন্টা কাজের মধ্যে পুরোটাই দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করতে হয়। প্রায়ই ‘পুরুষালি’ ট্রান্স-পুরুষদের দিয়ে বেশি কাজ করিয়ে নিয়ে যথেষ্ট বেতন দেওয়া হয় না।
দাবি: শ্রম দফতরের অধীনে রাজ্য ও জেলাস্তরে একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করতে হবে, যেখানে মহিলা শ্রমিকরা তাঁদের মজুরি বঞ্চনা এবং অন্যান্য অভিযোগ জানাতে পারবে। ট্রান্স-কুইয়র মানুষরাও যাতে সেখানে অভিযোগ জানাতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
একটি কমিটি গঠন করতে হবে, যা বিভিন্ন পেশায় মেয়েদের মজুরির পরিস্থিতি সমীক্ষা করবে এবং ন্যূনতম মজুরি ‘লুট’-এর অঙ্কটি সামনে আনবে। মেয়েদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার কী করতে চায়, সে বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।
গৃহপরিচারিকাদের কাজের সময়, শর্ত ও মজুরির বিষয়ে আইন তৈরি করতে হবে। অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে এই আইন থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গে নেই।
১.৩) মেয়েদের অস্থায়ী কর্মী, চুক্তি কর্মী, ভাউচার কর্মী করে রাখা — কেবল অসংঠিত ক্ষেত্রে নয়, সংগঠিত শিল্পেও মহিলা কর্মীদের কার্যত অস্থায়ী, চুক্তি-কর্মী রাখা হচ্ছে। অস্থায়ী কর্মী, এমনকি দৈনিক মজুরি-ভিত্তিক কর্মী করে রাখা হচ্ছে। যেমন, চটকলে ৯০ শতাংশ মেয়ে স্থায়ী কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট কাজ করেন কিন্তু ভাউচারে টাকা পান। দুর্ঘটনা ঘটলে চিকিৎসা বা ক্ষতিপূরণ পান না, পেনশন প্রভৃতি সামাজিক সুরক্ষাও পান না। পারিবারিক হিংসা বা অপর কারণে যথাযথ পরিচয়পত্র না নিয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হলে মহিলা বা ট্রান্স-কুইয়র কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা কঠিন হয়, চুক্তিপত্র পাওয়াও কঠিন হয়। তাঁদের নগদে মজুরি দেওয়া হয়, যা প্রায়ই অংশত দেওয়া হয়।
স্কুল-কলেজ, সংবাদ পত্র, সরকারি দফতর-সহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের চুক্তি-কর্মী, বা কাজ-ভিত্তিক মজুরিতে নিয়োগের ঝোঁক বাড়ছে। এর ফলে সমান কাজ, সমান দায়িত্ব নিয়েও অতি কম টাকায় মেয়েদের কাজ করতে হচ্ছে।
দাবি: যে সব কাজ নিয়মিত এবং ধারাবাহিকভাবে করা হয়, যে ধরনের কাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মেয়েদের বহন করতে হয়, এবং লক্ষ্যপূরণ না হলে জবাবদিহি করতে হয়, সেই কাজগুলিতে মেয়েদের অস্থায়ী ও ভাউচার কর্মী করে রাখা যাবে না। মেয়েদের পূর্ণ কর্মী হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। প্রান্তিক লিঙ্গ-যৌন পরিচিতির মানুষদের শ্রমের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।
১.৪) মেয়েদের ‘স্বেচ্ছাকর্মী’ করে রাখার সরকারি নীতি — সরকারের বিভিন্ন স্কিম-এ কর্মরত মেয়েদের (অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা, আশা কর্মী, মিড ডে মিল রন্ধনকর্মী) ‘স্বেচ্ছাসেবক’ করে রাখা হয়েছে। মিড ডে মিল কর্মীদের পরিচিতির শংসাপত্রও নেই। ন্যূনতম মজুরির চাইতে অনেক কম টাকা দিয়ে কাজ করাচ্ছে সরকার। মিড ডে মিল কর্মীদের দৈনিক বেতন ১০-১২ টাকাতে দাঁড়ায়, তা-ও মেলে অনিয়মিত। কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার, যাঁরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করেন, তাঁরা মাসে মাত্র দেড় হাজার টাকা মাইনে পান। অথচ এঁরা অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা দিয়ে থাকেন। দেশের মানব উন্নয়নের মূল কয়েকটি সূচকের উন্নতি এঁদের কাজের উপরেই নির্ভর করে।
দাবি: সব সরকারি স্কিম কর্মীদের পূর্ণ সময়ের কর্মীর স্বীকৃতি, সরকারি কর্মীর হারে বেতন, বছরে নির্দিষ্ট হারে ইনক্রিমেন্ট, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মাতৃত্ব ও অন্যান্য ছুটি, পেনশন, পিএফ দিতে হবে।
১.৫) কাজের অতি-দীর্ঘ সময়, কাজের অত্যধিক চাপ: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা কর্মী, গিগ কর্মী, পিস-রেটে মজুরি পাওয়া কর্মী, এঁদের উপর উপর এত রকম দায়িত্ব, কাজের চাপ এত বেশি, এবং প্রায়ই তাঁদের এত দুর্ব্যবহার, ভীতিপ্রদর্শন সহ্য করতে হচ্ছে, যে তাঁরা শারীরিক ভাবে অসুস্থ, মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছেন। ক্যুয়ার-ট্রান্স গিগ কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যাগুলি দেখা যায়। থার্ড-পার্টির আন্ডারে কাজে ঢুকলে কোনও মেডিক্যাল এমার্জেন্সির ক্ষেত্রে কোম্পানি তার দায়িত্ব নিতে চায় না।
দাবি: বিশ্রামের জন্য অত্যন্ত আট ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করতে হবে। কোন ধরনের কাজে সর্বোচ্চ কত সময় ব্যয় করা চলে, শ্রম দফতর অথবা সরকার নির্ধারিত কোনও বোর্ড-এর তরফে তা নির্দিষ্ট করতে হবে।
সুলভে ও সহজে যাতে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যায়, তার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র-সহ নানা সরকারি ও অসরকারি হাসপাতাল, ক্নিনিকে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যকে ‘পেশাগত স্বাস্থ্য’-এর (অকুপেশনাল হেলথ) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই সকল পরিষেবা প্রান্তিক লিঙ্গ-যৌন পরিচিতির মানুষদেরও সহায়ক হতে হবে।
১.৬) মাতৃত্বের পেনাল্টি: অসংগঠিত ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি তো মেলেই না, সংগঠিত শিল্পেও তা দেওয়ায় প্রবল অনিচ্ছা দেখা যায়। সাড়ে ছয় মাসের পরিবর্তে চার মাস বা তিন মাস ছুটি দেওয়া হচ্ছে। কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। যেমন, মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ মেয়েরা প্রসবের পর ফিরে এলে তাদের কাজের জায়গা বদলে দেওয়া হয়, দূরের এলাকায় পাঠানো হয়, যাতে তারা কাজ ছাড়তে বাধ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনার অধীনে সন্তান প্রসবের পরে মেয়েদের ছ’হাজার টাকার যে অনুদান পাওয়ার কথা, এ রাজ্যে তা বহু মেয়ে পাচ্ছে না। কখনও এক-দেড় বছর পরে পাচ্ছে।
দাবি: ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত সমস্ত গর্ভবতী মেয়েকে ওই প্রকল্পে নথিভুক্তি করাতে হবে, এবং তাদের অ্যাকাউন্টে যথাসময়ে ছ’হাজার টাকা পৌঁছে দিতে হবে।
মাতৃত্বের ছুটি না দিলে, বা গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েদের কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিলে নিয়োগকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে হবে শ্রম দফতর, মহিলা কমিশনকে। অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিয়োগকারীদের মধ্যে মাতৃত্বের ছুটি বিষয়ে প্রচার করতে হবে সরকারকে।
১.৭) সব রকম লিঙ্গ-যৌন পরিচিতির মানুষের জন্য যত্নের অভাব — কোনও ট্রান্স পুরুষ বা ট্রান্স নারীর সার্জারির পর শারীরিক বা মানসিক যত্ন নেওয়ার সুযোগটুকু পান না। তাঁকে কাজে ফিরতে হয়। প্রথমত সামাজিক কারণবশত তিনি তাঁর সার্জারির কথা কাজের জায়গায় উল্লেখই করতে পারেন না। অবাঞ্ছিত প্রশ্নের ভয়ে ট্রান্স-কুইয়র মানুষরা তাঁদের পার্টনারের/ সঙ্গীর কথা কাজের জায়গায় উল্লেখ করতে চান না। ফলে বীমা সহায়তার তালিকা থেকে তাঁর সঙ্গীটি বাদ পড়ে যান।
দাবি– কর্মক্ষেত্রগুলিতে ক্যুয়ার-ট্রান্স পরিচয়, তাঁদের অধিকার ভিত্তিক সচেতনতার বিশেষ প্রয়োজন। আর তা যেন শুধুমাত্র খাতায়-কলমে দেখানোর জন্য না হয়ে সুস্থভাবে হয় তার দিকে নজর রাখতে হবে।
১.৮) কাজের অভাব: সর্বোপরি, কাজের অভাব তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বেআইনি ভাবে এনআরইজিএ-র কাজ বন্ধ করে রেখেছে। কৃষিতে যন্ত্রের ব্যাপক প্রয়োগের ফলে খেতমজুরিতে নিয়োগ কমছে। সরকারি অনুদান মেয়েদের কিছুটা সুবিধে দেয়, কিন্তু তা নিয়মিত কাজের বিকল্প হতে পারে না।
দাবি: অবিলম্বে এনআরইজিএ পশ্চিমবঙ্গে চালু করতে হবে।
গ্রামীণ সম্পদ কাজে লাগিয়ে কী ভাবে গ্রামেই মেয়েরা কাজ পেতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হতে হবে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে।
১.৯) পরিবারে শিশুশ্রম: পরিবারও শিশু ও কিশোরী মেয়েদের থেকে অবৈতনিক শ্রম দাবি করে, গৃহকাজ ও ছোট ভাইবোনদের দেখার কাজের জন্য। এটা করা হয় আবেগের কাছে আবেদন করে। পরিবারের খেত-খামারে মেয়েদের কাজকে ‘শ্রম’ বলে দেখা হয় না। পরিবার-নিযুক্ত কাজের জায়গায় কিশোরীদের হেনস্থা, নির্যাতন হলে পরিবার অনেক সময়ে তা গোপন করতে চায়।
দাবি: প্রচ্ছন্ন শিশুশ্রমের অনৈতিকতা বিষয়ে সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিশু পরিচর্যার সরকার-পোষিত ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে সেই দায়িত্ব পরিবারের কন্যাদের উপরে না পড়ে।
দ্বিতীয়, মেয়েরা যাতে কাজে যোগ দিতে পারে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও সুস্থ থাকতে পারে, তার উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং পরিষেবা নেই।
২.১) শৌচাগারের অভাব: হকার, নির্মাণকর্মী, বাজারে ফুল-সবজি বিক্রেতা থেকে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, সমস্ত পেশার, সব কর্মক্ষেত্রের মেয়েরা শৌচাগারের অভাবে ভুগছেন। বড় প্রতিষ্ঠানও ব্যতিক্রম নয়। উদাহরণ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিল্ডিং-এ মেয়েদের টয়লেট নেই। বহু কর্মক্ষেত্রে ট্রান্স-কুইয়রদের জন্য ‘জেন্ডার নিউট্রাল’ টয়লেট নেই, থাকলেও তা বেসমেন্ট-এর মতো কোনও জায়গায়, যার ব্যবহার দুঃসাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানেও জেন্ডার নিউট্রাল টয়লেটের সংখ্যা অত্যন্ত কম। দীর্ঘ সময় শৌচাগার ব্যবহার না করে রোগগ্রস্ত হওয়ায় অনেকে কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
দাবি: সবকটি পুরসভা ও গ্রামীণ অঞ্চলের বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে মহিলাদের কত শৌচাগার রয়েছে, তার সমীক্ষা প্রকাশ করতে হবে। শহর, মফসসল ও গ্রামে ২৪x৭ সুলভ এবং ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার চাই মেয়েদের। সেগুলিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন থাকতে হবে, ব্যবহৃত ন্যাপকিন বর্জনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সুলভ শৌচাগারগুলিতে পুরুষ, মহিলা ছাড়াও ট্রান্সমানুষদের জন্য জেন্ডার-নিউট্রাল টয়লেট চাই।
২.২) ক্রেশের অভাব: কেন্দ্রের আইন এবং প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও, কর্মরত মায়েদের শিশুদের পরিচর্যার জন্য ক্রেশ-এর কোনও ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে নেই। নির্মাণ শ্রমিকরা এখনও পিঠে শিশুকে বেঁধে, না হলে নির্মীয়মান বাড়িতে বিপজ্জনক কোনও জায়গায় তাকে রেখে, কাজ করতে বাধ্য হন।
শিশুশিক্ষা ও পরিচর্যার অন্যান্য যে পরিষেবাগুলি সরকারের দেওয়ার কথা, সেগুলিও অনেকাংশে রয়ে যাচ্ছে খাতা-কলমে। যেমন, নতুন শিক্ষা নীতির (২০২০) নির্দেশে স্কুলগুলিতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি শুরু হয়েছে, অথচ তার জন্য শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। বহু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খিচুড়ি বিতরণ করা হয় কেবল, শিশুদের বসিয়ে খাওয়ানো, পড়ানো হয় না। প্রাথমিক স্কুল ভবনেই হস্টেল তৈরির নীতি নিয়েছে সরকার, কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় তার প্রসার হয়নি। শিশুশিক্ষা ও শিশুপরিচর্যার এই পরিষেবাগুলি মায়েদের কর্মনিযুক্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দাবি: অবিলম্বে গ্রাম, মফসসল, শহর, সর্বত্র মেয়েদের সুবিধা-অনুসারে পুরসভা ও পঞ্চায়েত পোষিত ক্রেশ-এর ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্য অর্থ কমিশনের যে অনুদান সব পঞ্চায়েত ও পুরসভা পায়, সেই অনুদানে ক্রেশ তৈরিতে প্রাথমিকতা দিতে হবে। কর্মস্থলে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এবং অন্যান্য জায়গায় ক্রেশ চালানোর জন্য সরকারকে বাজেটে বরাদ্দ করতে হবে, যাতে নিম্নবিত্ত, দরিদ্র মায়েরা বিনা পয়সায় এর সুযোগ নিতে পারে। ক্রেশ তৈরি বিষয়ে নীতি এবং বাজেট বরাদ্দ ঘোষণা করতে হবে।
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে শিশুদের শিক্ষা ও পরিচর্যার যে ব্যবস্থাগুলির কথা শিক্ষানীতিতে রয়েছে, সেগুলি বাস্তবায়িত করতে হবে।
প্রতি পঞ্চায়েত এলাকায় স্কুলপড়ুয়া শিশুদের অন্তত একটি হস্টেল দরকার, যাতে পরিযায়ী শ্রমিক বাবা-মায়েরা শিশুদের রেখে কাজে যেতে পারেন।
২.৩) বিশ্রামের ঘরের অভাব: হাসপাতাল, হাউসিং-এস্টেট থেকে চটকল, চালকল, ইটভাটা, সর্বত্র সুরক্ষিত এবং স্বাস্থ্যকর বিশ্রামকক্ষের অভাবে মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দাবি: সব কর্মক্ষেত্রে, বিশেষত যেখানে নাইট ডিউটি করে মেয়েরা, সেখানে তাদের জন্য বিশ্রামকক্ষ চাই। যেখানেই মেয়েরা বেশি সংখ্যায় কর্মরত সেখানে বিশ্রামকক্ষ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স বা বাড়ি তৈরির অনুমতি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
২.৪) সুলভ পরিবহণ: বহু ধরনের কাজে মেয়েদের বাড়ি ফিরতে রাত হয়, অথচ তাঁরা বাড়ি ফেরার যান-বাহন পান না। অনেক সময়েই পরিবহণ অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ।
ব্যবসায়ী মেয়েদের লোকাল ট্রেনের ভেন্ডর কামরায় উঠতে দেওয়া হয় না। তাঁরা জেনারেল কামরায় উঠতে বাধ্য হন এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হন। মালপত্র নিয়ে বাসে উঠলেও তাদের সঙ্গে নানা দুর্ব্যবহার করা হয়।
দাবি: মেয়েদের ও ট্রান্স, কুইয়র মানুষদের জন্য সরকারি গণ-পরিবহন, এবং সরকার-পোষিত অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থা চাই, যা ভোর থেকে, এবং অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করবে, এবং এলাকা ও প্রয়োজন অনুসারে চব্বিশ ঘণ্টাও কাজ করবে। নিম্নবিত্ত, দরিদ্র মেয়েরা যাতে যে কোনও গণপরিবণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারে, তার ব্যবস্থা চাই।
ভেন্ডর কামরায় মেয়েদের জন্য জায়গা সংরক্ষিত রাখতে হবে।
২.৫) বাজারে মহিলা বিক্রেতাদের জন্য সুব্যবস্থা: রাজ্যের যে কোনও বাজারে মহিলা বিক্রেতাদের সংখ্যা অনেক, অথচ তাঁদের সুবিধার জন্য শৌচাগার, বিশ্রামের ঘর প্রভৃতি নেই। বাজারে মেয়ে বিক্রেতাদের নানা ভাবে হয়রান করা হয়, যেমন তাদের বসার জায়গা দেওয়া হয় না।
মেয়েদের অসুবিধার অন্যতম কারণ, বাজার কমিটিতে মেয়েদের প্রতিনিধিত্ব নেই।
দাবি: বাজার কমিটির সদস্যদের মধ্যে মহিলা বিক্রেতাদের মধ্যে থেকে যথেষ্ট সংখ্যায় প্রতিনিধি রাখতে হবে। মেয়েদের প্রয়োজনগুলির সমীক্ষা করে, উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। পুরসভা, পঞ্চায়েতকে এই সব নির্মাণের খরচের অংশ দিতে হবে।
তৃতীয়, মেয়েদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পরিকাঠামো, নারীহিংসার তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থায় বহু ঘাটতি রয়েছে, যার জন্য মেয়েদের রোজগার, সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের হানি হচ্ছে।
৩.১) কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি: এ বিষয়ে আইন (২০১৩) পাশ হলেও তা কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে ছোট মাপের কর্মক্ষেত্রে তা নেই, কিংবা আইনের বিধি অনুসারে তৈরি হয়নি। নিগৃহীত মেয়েদের ‘মানিয়ে নিতে’ পরামর্শ দেওয়া হয়। ইটভাটা, নির্মাণ শিল্প-সহ নানা ধরনের কাজে যৌনহেনস্থা মেনে নেওয়া মেয়েদের কাজের শর্ত হয়ে রয়ে গিয়েছে।
এ বিষয়ে দাবিগুলি নীচে দেওয়া রইল —
-প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (আইসিসি) এবং প্রতিটি জেলায় স্থানীয় অভিযোগ কমিটি (এলসিসি)ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে নির্দিষ্ট কমিশন গঠন করতে হবে, তার অনুসন্ধান রিপোর্ট পেশ করতে হবে আগামী তিন মাসের মধ্যে।
– যে সংস্থাগুলিতে আইসিসি নেই, এবং যে সব জেলায় এলসিসি-র সদস্যরা নেই, অথবা সক্রিয় নেই, সেখানে এখনই সেগুলি গঠন করার (অথবা পুনর্গঠন/সক্রিয় করার) জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
– আইন অনুসারে আইসিসি, এলসিসি কেবল অভিযোগ গ্রহণের সংস্থাই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিও তাদের কাজ। সেই অনুসারে সব শিক্ষাক্ষেত্রে এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা বিরোধী সচেতনতা কার্যসূচি সারা বছর চালাতে হবে, তার জন্য বিশেষ সেল তৈরি করতে হবে।
— রাজ্য সরকারের কাছে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে আইসিসি-সংক্রান্ত বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করতে হবে, যা জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
—কর্মক্ষেত্রে ট্রান্স, কুইয়র মানুষদের উপর হয়রানি হলে তার প্রতিরোধের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। যেখানে সম্ভব, তাঁদের প্রতিনিধিকে আইসিসি, এলসিসি-তে স্থান দিতে হবে। ট্রান্স বোর্ড অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। তাকে আবার চালু করা চাই।
—যে মেয়েরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন, শারীরিক বা মানসিক দিক থেকে যাঁরা বিশেষ ভাবে সক্ষম, তাঁরা কর্মক্ষেত্রে, রাস্তাঘাটে, পরিবহণে যৌন হয়রানির সহজ লক্ষ্য বলে বিবেচিত হন। তাঁদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার কী ব্যবস্থা করা যায়, তা বিবেচনা করে ঘোষণা করতে হবে সরকারকে।
—নিয়মিত জেন্ডার অডিট এবং সেফটি অডিটের আওতায় আনতে হবে সব প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, রাস্তা, বাজার, স্টেশন, বাস স্টপ এবং জনবসতি এলাকা। তার ফলাফল সকলকে জানাতে হবে। মেয়েরা যেন কোনও এলাকায় যাওয়ার আগে জানতে পারে, তা কতটা সুরক্ষিত। পুলিশের কাছে প্রতিটি এলাকার ‘সেফটি ম্যাপ’ থাকা দরকার।
৩.২) ওয়ান স্টপ সেন্টার: এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রগুলিতে হিংসা-আক্রান্ত মেয়েদের একই সঙ্গে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, মানসিক সহায়তা ও মাসিক স্বাস্থ্যের পরামর্শ পাওয়ার কথা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই কেন্দ্রগুলি কেবল খাতায়-কলমে রয়ে গিয়েছে।
দাবি: অবিলম্বে এই কেন্দ্রগুলিকে পূর্ণ মাত্রায় চালু করতে হবে।
৩.৩) ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট — পশ্চিমবঙ্গে শিশু হিংসা এবং নারী হিংসার অভিযোগের দ্রুত বিচারের জন্য যথেষ্ট সংখ্যায় পকসো আদালত, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত চালু নেই। যে ৮৮টি বিশেষ আদালত চালু রয়েছে সেগুলিতে আশি হাজারেরও বেশি মামলা ঝুলছে। ধর্ষণের মামলা সাত-আট বছর, পাচারের মামলা দশ-বারো বছরেও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। আইনে নির্দিষ্ট বিচারসমাপ্তির সময়সীমা কেবল কাগজেই থাকছে। যা বিচার না পাওয়ারই শামিল।
দাবি– অবিলম্বে যথেষ্ট বিচারক, মুহুরি, পেশকার এবং অন্যান্য কর্মী নিযুক্ত করতে হবে, আদালতগুলির ডিজিট্যাল পরিকাঠামো-সহ সব পরিকাঠামোর উন্নতি করতে হবে। মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিতে হবে।
৩.৪) তদন্তের পরিকাঠামো: দ্রুত তদন্তের জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট সংখ্যায় প্রশিক্ষিত পুলিশ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষিত কর্মী দলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তদন্ত অত্যন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এখনও থানায় নানা মাত্রার নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে গিয়ে মেয়েরা আধিকারিকদের অসংবেদনশীল আচরণের সামনে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ সংরক্ষণের পরিবর্তে প্রমাণ লঘু করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রান্তিক লিঙ্গযৌন পরিচিতির মানুষদের অভিযোগকে অগ্রাহ্য করা হয়, এমনকি তাঁদের অবমাননা করা হয়।
দাবি: কেন্দ্রের আইন মেনে প্রতি জেলায় ফরেন্সিক সাক্ষ্য সংগ্রহে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে হবে, যারা ধর্ষণ-সহ নারী নির্যাতনের ঘটনাস্থলে যাবে পুলিশের সঙ্গে। মোবাইল ফোনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য ‘ডিজিটাল অ্যানালিটিক্যাল ইউনিট’ চাই জেলায় জেলায়। নারী হিংসার ঘটনাগুলির তদন্তের জন্য যথেষ্ট সংখ্যায়, বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মীদের নির্দিষ্ট করতে হবে।
সব থানায় মহিলা এবং প্রান্তিক পরিচিতির পুলিশ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
এ সব বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়মিত জানাতে হবে।
৩.৫) সাইবার নিরাপত্তা: ব্যক্তিগত পরিসর এবং কাজের পরিসরে ডিজিট্যাল প্রযুক্তি এবং সমাজ মাধ্যমের ব্যবহার এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সমাজ মাধ্যম প্রায়ই নারী হিংসা, অমর্যাদা, হয়রানির মাধ্যম হয়ে ওঠে। ক্যুয়ার-ট্রান্স মানুষ হামেশাই সাইবার-বুলিং এর শিকার হয়ে থাকেন তাঁদের লিঙ্গ-যৌন অভিব্যক্তির জন্য। কোথায় সাহায্য চাইতে যাবেন, তা-ও জানা থাকে না।

দাবি: সমাজ মাধ্যমে মেয়েদের এবং ট্রান্স-কুইয়র মানুষদের অমর্যাদা, হেনস্থা রুখতে সাইবার সুরক্ষার ব্যবস্থা সব মেয়ের জন্য আরও সহজলভ্য এবং কার্যকর করতে হবে।
৩.৬) আপৎকালীন সহায়তা: এ রাজ্যে মেয়েদের, এবং ট্রান্স, কুইয়র ব্যক্তিদের আপৎকালীন সহায়তার ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়ে গিয়েছে।
দাবি: মহিলা হেল্পলাইন (১৮১) এ রাজ্যে যথাযথ ভাবে চালু করতে হবে, এবং তার প্রচার করতে হবে। এই নম্বর, এবং মেয়েদের সহায়তার অন্যান্য হেল্পলাইনের নম্বর, সব বাস, ট্রেন, ট্যাক্সি, অ্যাপ ক্যাব-এ প্রদর্শিত করার বিধি পাশ করতে হবে। আক্রান্তদের সহায়তায় ইমার্জেন্সি পুলিশ পরিষেবার ব্যবস্থা করতে হবে। ট্রান্স, কুইয়র ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য বিশেষ হেল্পলাইন ও পরামর্শের ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
৩.৭) নিরাপত্তার বাজেট বরাদ্দ: নিরাপত্তা পরিকাঠামো নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যথেষ্ট বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে কি না, এবং বরাদ্দের কতটা খরচ হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
দাবি: পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে জানাতে হবে, এখনও অবধি কেন্দ্রের নির্ভয়া তহবিল থেকে রাজ্য কত টাকা পেয়েছে, এবং কী কী কাজে তা খরচ হয়েছে? পশ্চিমবঙ্গের রাস্তা, পরিবহণ এবং কর্মক্ষেত্রকে সুরক্ষিত করার জন্য বাজেটে কত বরাদ্দ হচ্ছে, এবং কত খরচ হচ্ছে? নির্যাতিত মেয়েদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য কী পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে?
৩.৮) অভয়ার বিচার: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রী ‘অভয়া’ ডিউটিরত অবস্থায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সাক্ষ্য-প্রমাণ ধ্বংস, আদালতে পেশ-করা তথ্যে নানা অসঙ্গতি এবং অসম্পূর্ণতা রাজ্যবাসীকে গভীর ভাবে আহত করেছে। নিম্ন আদালতে রায়দান হয়ে থাকলেও যথাযথ বিচার মিলেছে কি না, সব দোষী শাস্তি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে গভীর ও ব্যাপক সংশয় রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রাজ্যবাসীকে আলোড়িত, বিচলিত করেছে। অভয়ার ধর্ষণ-হত্যা মামলা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে নারীহিংসায় বিচার লাভে মেয়েদের প্রত্যাশার একটি সূচক হয়ে উঠেছে।
দাবি: অভয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার প্রকৃত তথ্য সামনে আনতে হবে। অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়ে যাঁদের ভূমিকা ছিল, তাঁদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সব শ্রেণির মানুষের জন্য মুক্ত-স্বাধীন গণতান্ত্রিক অধিকার অনুশীলনের পরিসর পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে।
নারী দিবস উদযাপন মঞ্চ
রামমোহন লাইব্রেরি, ৮ মার্চ, ২০২৫, সকাল ১০টা-বেলা ১ টা। এই দাবিগুলি নিয়েই আলোচনা হবে, এর সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জনা ইত্যাদির প্রস্তাব দেবেন উপস্থিত সকলে।











যথেষ্ট সুন্দর ও প্রয়োজনীয় লেখা